ঢাকা, আজ বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

খাবার কিনতে গিয়ে পুলিশের লাঠির আঘাতে মুসলিম যুবকের মৃত্যু!

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২১ ০০:৪৩:৪৫ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৫ ১৪:০৮:৩০

ভারতের উত্তরপ্রদেশে ক্ষুধার জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বিস্কুট কিনতে বেরিয়ে পুলিশের লাঠির আঘাতে রিজওয়ান (১৯) নামের এক মুসলিম কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, খাবার কিনতে বেরিয়ে পুলিশের অত্যাচারের মুখে পড়তে হয়েছিল রিজওয়ানকে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শনিবার হাসপাতালে মৃত্যু হয়। ছাজ্জাপুরের কিশোরের মৃত্যুতে রাজ্য পুলিশকেই কাঠগড়ায় তুলছেন গ্রামবাসীরা। তবে তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছে পুলিশের উপর মহল।

স্থানীয় সূত্রে খবর, লকডাউনের পর থেকেই খাবারের টান পরেছে। বৃহস্পতিবার রাতে খিদের জ্বালা সহ্য করতে না পেরে বিস্কুট কিনতে বেরিয়েছিল আম্বেদকর নগরের ছাজপুর গ্রামের বছর উনিশের রিজওয়ান।

লকডাউন ভাঙার অভিযোগ সেই সময় পুলিশ তাকে বেধরক মারধর করে বলে দাবি। প্রত্যদর্শীদের অভিযোগে, দোকানে আরও খরিদ্দাররা ছিল, কিন্তু তাদের কিছু বলেনি পুলিশ। ঘটনা প্রসঙ্গে রিজওয়ানের বাবা মুহাম্মদ ইজরায়েলি বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে আমার ছেলে আর খিদের জ্বালা সহ্য করতে পারছিল না। বিস্কুট কিনতে বেরিয়েছিল। সেইসময় পুলিশ তাকে বেধড়ক মারধর করে। কাঁদতে কাঁদতে তার হাহাকার, করোনা নয়, পুলিশই আমার ছেলেকে কেড়ে নিল।

গ্রামবাসীরা জানাচ্ছেন, লকডাউন থাকায় পুলিশ রিজওয়ানকে বিস্কুট কিনতে দিচ্ছিল না। রিজওয়ানের কাকা মুন্নার কথায়, সেখানে আরও খরিদ্দাররা ছিলেন, তাদের পুলিশ আটকায়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পুলিশ রাইফেলের বাট, লাঠি দিয়ে তাকে মারছিল। পরে কয়েকজন পুলিশকর্মী তাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে যায়।

অভিযুক্তদের রেহাই দেওয়া হবে না পলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অবিনাশ কুমার মিশ্র। তার কথায়, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীদের কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এপুলিশ সুপার অলোক প্রিয়দর্শীর বলেন, তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

চিকিৎসা দিতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত মাশরাফির নানা

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদ্য বিদায়ী অধিনায়ক ও নড়াইল-২ আসনের সাংসদ মাশরাফি বিন মুর্তজার নানা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

পেশায় তিনি একজন চিকিৎসক। তার নাম ডা. মাসুদ আহমেদ। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তিনি।

জানা গেছে, করোনাভাইরাস বিস্তারের মধ্যে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন ডা. মাসুদ আহমেদ। এরই মধ্যে করোনায় আক্রান্ত হলেন তিনি। খুলনা জেলায় তিনিই প্রথম করোনা শনাক্ত হওয়া চিকিৎসক।

এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আবদুল আহাদ জানান, ডা. মাসুদ আহমেদের শরীরে করোনা উপসর্গ দেখা দিলে আমরা তাকে আইসোলেশনে নিই। শনিবার তারসহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯৬টি নমুনার পরীক্ষা করা হয়। যার মধ্যে একমাত্র করোনা শনাক্ত হওয়া রোগী মাসুদ আহমেদ। এ খবরের পর হাসপাতালের যে রেস্ট হাউসে থাকেন ডা. মাসুদ আহমেদ, সেখানে আরও ১২ চিকিৎসককে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে নেয়া হয়েছে। আজ তাদের সবার করোনা টেস্ট করা হবে।

উল্লেখ্য, ডা. মাসুদ আহমেদ মাশরাফির নানির খালাতো ভাই। দূর সম্পর্কের নানা হলেও ডা. মাসুদ আহমেদকে খুব ভালোবাসেন মাশরাফি। প্রিয় নানা করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর শোনার পর থেকেই বেশ উদ্বিগ্ন রয়েছেন মাশরাফি।