ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০

চাঁদপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে একদিনে চার জনের মৃত্যু

প্রকাশ: ২০২০-০৬-০৩ ১১:৫৭:০১ || আপডেট: ২০২০-০৬-০৩ ১২:১১:৪৮

মো.মজিবুর রহমানঃ

চাঁদপুরে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক দিনে ৪ জন মারা গেছেন। মৃতরা হচ্ছেন : হাজীগঞ্জ উপজেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বলিয়া গ্রামের মৃত দুজন হলেন পন্ডিত বাড়ির মুজিবুর রহমান (৮০), জাহাঙ্গীর আলম (৫৫), সদর উপজেলার কল্যাণপুর ইউনিয়নের কল্যান্দি গ্রামের মো. আব্দুর রাজ্জাক (৭০) এবং একই গ্রামের গৃহবধূ লাকী বেগম (৩৪)। বুধবার স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী মৃতদের দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

চাঁদপুর চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আর এম ও ডা. সুজাউদ্দৌলা রুবেল জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে করোনা উপসর্গ নিয়ে আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১টার পর তিনি মারা যান। আর লাকী বেগম বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আনুমানিক ৪০ মিনিট পর তিনি মারা যান। তিনি বলেন, মৃতদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করা হয়েছে।

হাজীগঞ্জের বলিয়া গ্রামের নিহত মজিবুর রহমানের ছেলে মনির হোসেন জানান, আমার বাবা কয়েকদিন দিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশিসহ আরো নানান রোগে ভূগছিলেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় নিহত হয়। এলাকার কোন লোকই আমাদের সহযোগিতা করেনি বরং সবাই পালিয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফাজাল স্যারের সাথে যোগাযোগ করি। স্যার নিজেই এসে উপজেলা দাফন কাফন কমিটির সহযোগিায় বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় দাফন সম্পন্ন করি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আফজাল হোসেন জানান, হাজীগঞ্জের বলিয়ায় নিহত মজিবুর রহমানের মৃতদেহ রাতে বাড়িতে পড়ে থাকলেও এলাকার কোন জনপ্রতিনিধি এগিয়ে আসেনি। ভোরে আমি নিজে গিয়ে তাদেরকে ফোন করি। তবুও তারা আসেনি। পরবর্তীতে রিপোর্ট করার কথা বললে তারা এগিয়ে আসে। তবে তারা কোন সহযোগিতা করেনি। এমনকি এলাকাবাসি কবরটি পর্যন্ত করে দেয়নি। উপজেলা দাফন কমিটিই কবর খননের কাজ সম্পন্ন করে।

এদিকে বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় মারা যাওয়া একই গ্রামের বাসিন্দা হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম (৬০) করোনা উপসর্গ নিয়ে নিহত হন। উপজেলা দাফন কমিটির সহযোগিতায় তার দাফন করা হয়। নিহত মজিবুর রহমান গত কয়েক দিন জ্বর. সর্দি ও শ্বাস কষ্টে ভূগছিলেন।

হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এসএম শোয়েব আহমেদ চিশতী বলেন, আমরা খবর পেয়ে জাহাঙ্গীর আলমের নমুনা সংগ্রহ করেছি। আর মজিবুর রহমান মারা যাওয়ার আগেই চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নমুনা দিয়েছেন।