চান্দিনা পৌরসভায় ঢালাইয়ের দুই দিন পরেই ফেঁটে গেছে সড়ক


admin প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ২৬, ২০২৫, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ন /
চান্দিনা পৌরসভায় ঢালাইয়ের দুই দিন পরেই ফেঁটে গেছে সড়ক

নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভা কার্যালয়ের সম্মুখ সড়কটি ঢালাইয়ের ২ দিন পরেই অসংখ্য স্থানে ফেঁটে গেছে। পৌরসভার রাজস্ব খাত এবং এডিবি বরাদ্দের প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির আরসিসি (রেইনফোর্সড সিমেন্ট কংক্রিট) ঢালাইয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ চলছে। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা থেকে পৌরসভা কার্যালয়ে যাতায়াতের জন্য একমাত্র সড়ক এটি। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে সড়কটিতে গিয়ে দেখা গেছে সড়কের অসংখ্য স্থানে ফাঁটল দৃশ্যমান। সেগুলোকে সিমেন্টের আস্তরণ দিয়ে ঢাকার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ফেঁটে যাওয়া কোন সমস্যা নয় এমন দাবি করে ঠিকাদারের পক্ষে সাফাই গাইলেন পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হাছান। তিনি দাবি করেন সকল উপাদান সঠিক পরিমাণে দেওয়া হয়েছে। ফাঁটল গুলোকে ‘হেয়ার ক্রেক’।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, এই সড়কের মাধ্যমে চান্দিনা-রামমোহন এবং চান্দিনা-শ্রীমন্তপুর সড়ক দুটির মধ্যেও সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ফলে সড়কটি জনগুরুত্বপূর্ণ। ১৮ ফুট প্রশস্ত এবং ১ হাজার ৪৮০ ফুট দৈর্ঘ ওই সড়কটির উন্নয়ন কাজের জন্য ২০২৪ সালে দরপত্র আহবান করে চান্দিনা পৌরসভা। সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সুমি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ক অর্ডার পায়। ৫ আগস্ট এর পরে সড়কটির কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। ১০ ইঞ্চি পুরুত্বের ঢালাই হওয়ায় গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) এবং শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুই দিনে ওই সড়কটির বেশিরভাগ অংশের ঢালাই কাজ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ঢালাই শেষে পানি লাগিয়ে সড়কের উপর কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এখনো সড়কের অনেক স্থানে পানি লেগে আছে। তবুও অনেক স্থানেই ফাঁটল দেখা দিয়েছে।

পথচারী আবুল হোসেন বলেন, নতুন রাস্তা। এখনই ফেঁটে গেছে। এই রাস্তা বেশিদিন টিকবে বলে মনে হয়না।

চান্দিনা বাজারের একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন- আমি টাইলস্ এর ব্যবসা করি। এই রাস্তার সাথেই আমার টাইলস্ এর গোডাউন রয়েছে। এখানে অনেক সময় ১০ টনি কাভার্ড ভ্যানে টাইলস্ আসে। এমন ফাঁটলের কারণে রাস্তাটা টিকবে কিনা কে জানে!

ফাঁটলের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সুমি এন্টারপ্রাইজ এর স্বত্তাধিকারী মো. সেলিম বলেন, ৩-৪ দিনে ফেঁটে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। তবে ঢালাই যখন পানি টান দেয় তখন চুলের মতো ফাঁটল দেখা দেয়। এটা কোন ব্যাপার না। এগুলো সিমেন্টের আস্তরণ দিলেই ঠিক হয়ে যায়।

এব্যারে চান্দিনা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হাছান জানান, সড়কটির উন্নয়নে পৌরসভার রাজস্ব ফান্ড এবং এডিবি থেকে ১ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন- ফাঁটলগুলো শুধু উপরের অংশে। সিমেন্ট পানির আস্তরণ দিলেই এসব ফাঁটল ঠিক হয়ে যাবে। সড়কটি ২৫-২৬ বছরেও কিছু হবেনা বলে তিনি দাবি করেন।

এব্যাপারে পৌরসভার প্রশাসক ও চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজিয়া হোসেন বলেন- ‘ফাঁটল আছে সঠিক। কিছু জায়গায় নতুন করে কাজ করতে হবে। উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার বিষয়টি মনিটরিং করবে। বিল দেয়ার আগে আমরা কাজ আদায় করে নেয়ার সুযোগ আছে।’