ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২

দেবিদ্বারের ১০ ইউনিয়নে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন

প্রকাশ: ২০২২-০৩-১৯ ০৬:০৬:২৪ || আপডেট: ২০২২-০৩-২০ ০৫:৫৭:০৮

কুমিল্লার দেবিদ্বারের ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের দাাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীরা।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায় দেবিদ্বারের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থীরা। পরে পৌর এলাকায় সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে মানববন্ধন করে প্রার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রার্থীরা বলেন, নির্বাচন শিডিউল ঘোষণার পর থেকে আমরা সকলেই এলাকার শান্তিপ্রিয় মানুষ ও সমর্থকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে আসছি। নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে গিয়ে আমরা প্রতিনিয়ত বাধা, হুমকি ও প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছি। বিভিন্ন ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা, প্রচারণার কাজে বাধা, মাইকিংয়ে বাঁধা দিয়ে অটোরিকসা-মাইক অনেকবার ভাংচুর করা হয়েছে, মামলা-হামলার ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নৌকায় ভোট না দিলে মেরে ফেলা ও এলাকাছাড়া করার হুমকি দেয়া হচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থক ও ভোটারদের কেন্দ্রে না আসার জন্য হুমকি দিচ্ছে। নির্বাচনের ভোট গ্রহণের ৩ দিন পূর্ব থেকে আমাদের এজেন্ট, ভোটার ও সমর্থকদের উপর হামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। কেন্দ্র দখল করে নৌকার প্রার্থীদের বিজয়ী করার অগ্রিম হুমকি দেয়া হচ্ছে। বহিরাগত অস্ত্রধারীদের এনে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাদের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে। লিখিতভাবে অনেক অভিযোগ করার পরও কোন প্রতিকার পাইনি।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ভূমিকাও রহস্যজনক। প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে এসে আমাদের মতবিনিময় সভায় হুমকি-হামলা প্রর্দশনকারিদের গ্রেফতার করছে না প্রশাসন। বরকামতা,ধামতী, গুনাইঘর উত্তর, গুনাইঘর দক্ষিণ,বড় শালঘর, ইউসুফপুর, সুবিল, এলাহাবাদ, জাফরগঞ্জ,মোহনপুরসহ ১০টি ইউনিয়নসহ কেন্দ্র দখল করে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার ষড়যন্ত্র চলছে।

উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়েছে বহুগুণ। ৩১ জানুয়ারী দুপুরে দেবিদ্বারের বরকামতা ইউনিয়নে ১ নং ওয়ার্ডের নবীয়াদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হারুনুর রশীদের পোষ্টার লাগানোর সময় নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ৪ জন সমর্থক আহত হয়েছে। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোষ্টার ছিড়ে ফেলা হয়। ২১ জানুয়ারি বিকেলে বরকামতা ইউনিয়নের বাগমারা মাদ্রাসায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মতবিনিময় সভা চলাকালে উপজেলা চেয়ারম্যান আজাদ সাহেবের ছোট ভাই মাসুদের নেতৃত্বে ১০/১২টি মোটরসাইকেল করে স্থানীয় ও বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এসে মতবিনিময় সভা বন্ধ করতে বলে। পুনরায় এখানে মতবিনিময় সভা করলে রগ কেটে ফেলে জানে মেনে ফেলবে বলে হুমকি প্রদান করে। এ সময় পুলিশও উপস্থিত ছিল।

২১ জানুয়ারি বিকালে ধামতী গ্রামে স্থানীয়দের উদ্যোগে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মহিউদ্দিন মিঠুর নির্বাচনি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। খবর পেয়ে অনুষ্ঠান শুরুর আগেই নৌকার প্রার্থী জসিম উদ্দিনের ভাই শাহ পরানের নেতৃত্বে তরিকুল, মনির, রুবেল সেলিম, রুহুল আমীন ও হালিমসহ ৩০-৪০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালিয়ে প্যান্ডেল ও নির্বাচনি অফিস ভেঙে দেয়।

২৩ জানুয়ারি বিকেলে ধামতী ইউনিয়নের এজি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মহিউদ্দিন মিঠুর প্রচারণার মাইক-অটোরিকসা ভাংচুর করে নৌকা মনোনীত প্রার্থীর নেতাকর্মীরা। নৌকার প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সামনেই তার সমর্থক তরিকুল, আলামিনরা এ তান্ডব চালায়। ২৯ জানুয়ারী ভোররাতে ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের উত্তর পাড় এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মিঠুর টানানো সকল পোষ্টার- ব্যানার ছিড়ে ফেলা হয়। ২৯ জানুয়ারী রাতে স্বতন্ত্র প্রাথী মিঠু এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে উত্তর পাড় এলাকায় নিজের নির্বাচনী অফিসে চা পান করার সময় নৌকার লোকজন এসে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তোরা এখানে কেন আসছোস। চলে যা, ইত্যাদি অনেক কথা। তিনি তাৎক্ষনিক দেবিদ্বার থানার ওসিকে মুঠোফোনে কল করলে থানার এএসআই বশিরুল সাহেবকে ঘটনাস্থলে পাঠায়। এএসআই সাহেব ঘটনাস্থলে পৌছার পূর্বেই নৌকার নেতাকর্মীরা ধারালো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মিঠুকে দুই দিক থেকে ধাওয়া করে। তিনি কোনরকমে পাশের একটি বাড়ির টিনের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে এবং ২ জনকে আটক করে। আটককৃতদের একজন হলেন নৌকার প্রার্থীর কাছের মানুষ দুলাল। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোও নৌকার নেতাকর্মীদের। নৌকার প্রার্থীর সন্ত্রাসীদের হামলায় মিঠুর ৫/৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তারা মিঠুর অফিস ভাংচুর করেছে। অথচ পরে উল্টো মিঠুর বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে।

২৩ জানুয়ারী সন্ধ্যায় গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের পদ্মকোট এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হাকিম খানের (আনারস প্রতিক) নির্বাচনী প্রচারণার মাইক-অটোরিক্সা ভাংচুর করেছে নৌকা প্রতিকের সমর্থকরা। বিভিন্ন জায়গায় আব্দুল হাকিমের পোষ্টার ব্যানার ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। ২৯ জানুয়ারী রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর এলাকায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থী কামরুল হাসানের ৩ জন কর্মী সমর্থককে বেধম মারধর করে ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী শাহজাহান সরকারের নেতাকর্মীরা।

প্রার্থীরা আরো বলেন, আমরা আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃংখলা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ধামতী ইউনিয়নের আনারস প্রতিকের প্রার্থী মহিউদ্দিন (মিঠু), গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের আনারস প্রতিকের প্রার্থী আব্দুল হাকিম, এলাহাবাদ ইউনিয়নের চশমা প্রতিকের প্রার্থী মো: নুরুল আমীন, ভানী ইউনিয়নের মোটরসাইকেল প্রতিকের প্রার্থী মো: জালাল উদ্দিন ভূইয়া, জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের চশমা প্রতিকের প্রার্থী মো: সোহরাব হোসেন, গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী মো: আলী আজ্জম সরকার সজল, সুলতানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: জসিম উদ্দিন, একই ইউনিয়নের মোটরসাইকেল প্রতিকের প্রার্থী মো: সফিকুল ইসলাম, বড়শালঘর ইউনিয়নের আনারস প্রতিকের প্রার্থী আব্দুল আউয়াল, সুবিল ইউনিয়নের আনারস প্রতিকের প্রার্থী মো: আবু তাহের, ইউসুফপুর ইউনিয়নের ঘোড়া প্রতিকের প্রার্থী মো: মাজহারুল হক, মোহনপুর ইউনিয়নের মোটরসাইকেল প্রতিকের প্রার্থী ময়নাল হোসেন, ফতেহাবাদ ইউনিয়নের ঢোল প্রতিকের প্রার্থী মো: মফিজুল ইসলাম, একই ইউনিয়নের চশমা প্রতিকের প্রার্থী জাহিদ হাছান।