ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১

প্রধানমন্ত্রীর কাছে রাসেল উদ্দিনের খোলা চিঠি

প্রকাশ: ২০২১-০৬-১০ ১৬:০৪:০৩ || আপডেট: ২০২১-০৬-১০ ১৬:০৪:০৩

বরাবর
গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পুরাতন সংসদ ভবন, তেজগাঁও, ঢাকা-১২১৫, বাংলাদেশ।

বিষয়ঃ নোয়াখালী জেলার দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সমাজিক অবক্ষয় প্রসঙ্গে।

মহোদয়া,
হাতিয়া দ্বীপ বর্তমানে সাড়ে সাত লক্ষ মানুষের একটি দ্বীপ, সমৃদ্ধশীল এই দ্বীপ পর্যটনখাত এবং ব্যবসা উন্নয়নে একটু একটু করে আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য হয়ে উঠছে। চারপাশে নদী বেষ্টিত এই দ্বীপে বিভিন্ন ধর্মালম্বী, জেলে, তাতী সবাই এক ও অবিচ্ছেদ্য ভাবে বসবাস করছে। তিনপাশ জুড়ে মেঘনা-দক্ষিনাংশে বঙ্গোপসাগর। এই দ্বীপের মানুষ অর্থনৈতিক সমস্যার চেয়ে সামাজিক অস্থিরতা, আধিপত্য আগ্রাসন, ব্যক্তি তৎপরতা এবং বিভিন্ন প্রতিকূলতায় আবদ্ধ হয়ে আছে গত একদশক।

আপনার সোনার বাংলা গড়ে তোলার লক্ষ্য আর প্রয়াসে হাতিয়া দ্বীপের মানুষও স্বপ্ন দেখছে হাতিয়ায় শতভাগ বিদ্যু এবং নদীভাঙ্গন রোধ ও যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নতিকরণে আপনার নিরন্তর ভূমিকা থাকবে এবং প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজের অগ্রগতিতে অনেকটায় আশাবাদী দ্বীপ হাতিয়ার একদশকের অবহেলিত মানুষ।

কিন্তু বিভিন্ন গোষ্ঠীবদ্ধ একাংশ এবং কিছু অসাধু মানুষ আপনার বিভিন্ন প্রকল্পের স্বপ্নকে তরান্বিত করার জন্য রাজনৈতিক পদবী ব্যবহার করে দ্বীপ হাতিয়াকে বিভিন্ন সুবিধাবঞ্চিত করার পায়তারা করে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে দলীয় নামের ব্যবহার করে কলাকৌশলে জিম্মি করে রেখেছে কিছু চক্র।

মহোদয়া,
আমি দ্বীপ হাতিয়ার একজন সামান্য চা বিক্রেতার সন্তান। একজন নাগরিকের অধিকারের জায়গা থেকে এই খোলা চিঠিতে আপনাকে জানাতে চাই- এই দ্বীপে গত একদশকে বিভিন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাঁচটিরও অধিক হত্যাকান্ড এবং গুমের ঘটনা ঘটেছে। যা একটি সমৃদ্ধশীল দেশ ও জাতি এবং আগামী প্রজন্মের জন্য অশনিসংকেত। কিছু হত্যাকান্ড বিচারাধীন। গত দু’মাসে দুটি হত্যা কান্ড সংঘটিত হয়েছে আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার রোষানলে।

মহোদয়া,
কয়েকদিন আগে একটি ফেসবুক কমেন্টকে ইস্যু বানিয়ে একজন ইউপি সদস্যের আমাকে এবং আমার বাবাকে হত্যার হুমকিতে আমি এবং আমার পরিবার বিচলিত ও ভীত। একটি মহল রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং দলীয় ট্যাগ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে মানুষকে হয়রানি করে আসছে। আধুনিক বাংলাদেশে পদ্মাসেতুর মত অর্জন- বৈদিক রেমিট্যান্স অর্জনে যে সাফল্য আমরা দেখতে পেয়েছি তা কিছু সুবিধাবাদী মানুষের জন্য ম্লান হতে যাচ্ছে। মহোদয়া, আমি আমার এবং আমার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা এবং দ্বীপ হাতিয়ার সার্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন হত্যাকান্ডে আপনার ও আপনার অধীনস্থ মন্ত্রনালয়ের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করছি। আপনার কাছে চিঠি লিখে আজ অবধি কোন নাগরিক নিরাশ হয়নি। পরমভাবে আশা করছি আমার এই চিঠি আশাহত হবেনা।

বিনীত নিবেদক
রাসেল উদ্দিন
একজন এনজিও কর্মী
৭ নং তমরদ্দি, হাতিয়া, নোয়াখালী।