ঢাকা, আজ বুধবার, ২৩ জুন ২০২১

নগরীতে বিকাশ দোকানদারকে টার্গেট করে বাসা ভাড়াঃ ৩ প্রতারক গ্রেফতার

প্রকাশ: ২০২১-০৬-০৭ ১৩:২৬:৫১ || আপডেট: ২০২১-০৬-০৭ ১৩:২৬:৫১

সোহাইবুল ইসলাম সোহাগঃ
কুমিল্লায় বিকাশে প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে তাদের আটক করা হয়। সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানার ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী।

জানা যায়, কুমিল্লা হাউজিং এস্টেট গোল মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী রাকিব স্টেশনারীর স্বত্বাধিকারী মো. ইমাম হোসেন। স্টেশনারি দোকানের পাশাপাশি বিকাশে লেনদেন করে থাকেন তিনি। তার দোকানের সামনের বাড়িতে ভাড়া থাকেন রাজশাহী জেলার বাগাদী পাড়া উপজেলার সাহেদরা গ্রামের মৃত কাসিম উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ মুসলিম আলী মোস্তফা ও নাজনীন আরা দম্পতি। দীর্ঘদিন আসা যাওয়ার কারণে তাদের ভালো সখ্যতা গড়ে ওঠে তার। তারই সূত্র ধরে গত ৩ জুন সকাল পৌনে ১০ টার দিকে ইমাম হোসেনের দোকানে এসে মোস্তফা বলেন, তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে টাকা সেন্ড মানি করার জন্য। পূর্ব পরিচিতর কারণে তিনটি নম্বর থেকে ওই নম্বরে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা সেন্ড মানি করেন ইমাম হোসেন। দোকানে থাকা অবস্থায় আবার বলেন, আরো একটি নম্বরে ২৫ হাজার ৫০০ টাকা সেন্ড মানি করার জন্য।

এবারও ২৫ হাজার ৫০০ টাকা সেন্ড মানি করে মোট ৫১ হাজার টাকা গ্রাহক মোস্তফার কাছে চাইলে মোবাইলে টাকা যায়নি বলে দাবি করেন মোস্তফা। এ সময় মোস্তফার মোবাইল চেক করলে দেখা যায় সে মুহূর্তের মধ্যে অন্য নম্বরে টাকা ট্রান্সফার করে ম্যাসেজ ডিলিট করে দিচ্ছে। এসময় মোস্তফার কাছে টাকা দাবি করলে সে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। এসময় ইমাম হোসেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় খবর দিলে থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মোস্তফা তিনদিনের সময় চাইলে, মোস্তফার বাড়িওয়ালা গোলাম মোস্তফা বাবুর হেফাজতে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনদিনেও টাকার কোনো সুরাহা করতে না পারায় ইমাম হোসেন বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই রফিকুল ইসলাম সে ও তার স্ত্রীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ জানায়, মোস্তফার পাশাপাশি তার স্ত্রী নাজনিন আক্তারও প্রতারণার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে।

অপরদিকে আরেক বিকাশ প্রতারক কাজী পলাশ নামের একজনকে আটক করেছে বাগিচাগাঁও এলাকার স্থানীয় দোকানদার। প্রতারক কাজী পলাশ ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পবহাটি গ্রামের কাজী সাজ্জাদের ছেলে। অনার্স পাস পলাশ। বিগত তিনমাস ধরে বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণা করে আসছে বলে জানা যায়। পলাশের প্রথম টার্গেট বিকাশ দোকান থেকে নম্বর সংগ্রহ করে ফরিদপুরের মিজান ও বগুড়ার হাবিবের কাছে নম্বরগুলো পাঠানো। এতে তাকে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা করে প্রদান করে থাকে হাবিব ও মিজান। আটক পলাশের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ইমাম হোসেনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দুই বিকাশ প্রতারককে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বখতিয়ার উদ্দিন জানান, কুমিল্লায় অভিনব কায়দায় বিকাশের মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে তিন প্রতারককে আটক করা হয়েছে। তাদের সোমবার জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।