ঢাকা, আজ সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১

সিজারের ৫ মাস পর পেট থেকে বের করা হলো গজ ব্যান্ডেজ

প্রকাশ: ২০২১-০৪-০৭ ১২:৪১:৫১ || আপডেট: ২০২১-০৪-০৭ ১২:৪১:৫১

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের প্রায় পাঁচ মাস পর এক নারীর পেট থেকে গজ ব্যান্ডেজ বের করা হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় গজটি ওই নারীর পেটে থাকায় তাতে পচন ধরে তার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, প্রায় পাঁচ মাস আগে মুরাদনগর উপজেলার মোগসাইর গ্রামের মো. রাসেল মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (২৫) প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে দেবিদ্বারের আল ইসলাম হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এসে ভর্তি হন। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক রোজিনা আক্তার তাকে দেখে জরুরি সিজার করতে পরামর্শ দেন। ডাক্তারের পরামর্শে সিজারে সম্মতি দিলে ওইদিনই ডা. রোজিনা আক্তার ও ডা. শামীমা আক্তার লিন্টা তার সিজার করেন। একটি ছেলে সন্তান নেয় শারমিনের। কিন্তু অপারেশনের কিছুদিন পর থেকে তার পেটে ব্যথা ও ক্ষত থেকে পুঁজ বের হতে থাকে। পরে তাকে কুমিল্লা ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করা হয়।

তাতেও অবস্থার তেমন উন্নতি না হওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শারমিনকে কুমিল্লার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডা. কর্নেল আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক তার পেটে অপারেশন করে পুরো একটি গজ ব্যান্ডেজ বের করেন। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় চলছে।

ভুক্তভোগী শারমিনের বড় ভাই রহুল আমিন জানান, শারমিনের এর আগেও একটি মেয়ে সন্তান হয়। তার প্রথম সন্তানও সিজারে হয়েছে। দ্বিতীয় সন্তান প্রসবে সিজার করার পর থেকে তার পেটে অনেক ব্যথা ও পুঁজ পড়তে থাকে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত গাইনি চিকিৎসক ডা. রোজিনার সঙ্গে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

যোগাযোগ করা হলে আল ইসলাম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোহাম্মদ হোসেন (এনাম) বলেন, রোগীর পেটে গজ থেকে যাওয়ার বিষয়টি আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পারি। ঘটনাটি পাঁচ মাস আগের। রোগীর স্বজনরা আমাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেননি। এমন ঘটনা ঘটে থাকলে আমরা অনুতপ্ত।

ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কর্নেল আবু দাউদ মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় অপারেশনের মাধ্যমে পেট থেকে রক্তাক্ত গজ বের করা হয়। বর্তমানেও রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। চার থেকে পাঁচ দিন গেলে অবস্থা বোঝা যাবে।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও হাসপাতালের নাম উল্লেখ করে স্বজনরা যদি লিখিত অভিযোগ করেন, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।