ঢাকা, আজ বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১

পেরুল ইউপি নিবার্চন লোটাস কামালের প্রিয়ভাজন কে হবেন ?

প্রকাশ: ২০২১-০৩-২৯ ১৩:১৪:১৮ || আপডেট: ২০২১-০৩-২৯ ১৩:৩০:৪৯

শান্তনু হাসান খান(বিশেষ প্রতিনিধি)
বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন প্রয়াত আবু তাহের মজুমদার। তার মৃত্যুর পর প্যানেল চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন দীর্ঘ সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত চেযারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মাত্র ৪৬ বছরের তারুণ্যের প্রতীক নিয়ে লোকমান আগামী ইউপি নির্বাচনে দলীয়ভাবে নমিনেটেড হতে চাইছেন। লোকমান ছাড়া ও জনপ্রিয়তার শির্ষে রয়েছেন, মাহবুবুর রহমান মজুমদার (রকেট)। এছাড়া অপরপ্রার্থী আয়াৎ উল্লাহ।

সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করেছেন। মার্চ মাস থেকে শুরু করে জুন মাসের শেষ নাগাদ ধারাবাহিক ভাবে গতবারের মত ৫ ধাপে নির্বাচন শেষ করতে চান স্থানীয় মাঠ প্রশাসন। দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদ বিদ্যমান। ২০১৬ সালে ২২ মার্চ শুরু হয়ে ৪ জুন পর্যন্ত কয়েক ধাপে নির্বাচন সমাপ্ত করে সরকার। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুসারে মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন পূর্বে পরবর্তী পরিষদের গ্রহণযোগ্যতা থাকে। আর সেই আলোকে কুমিল্লা ১৮ টি উপজেলার ৩১২ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই কুমিল্লার মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন সি.ই.সি। এরমধ্যে নবগঠিত লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ অন্যতম। এখানকার বর্তমান নির্বাচিত চেয়ারম্যান যারা- সবাই সরকার দলীয়। তবে বিতর্কিত হাইব্রিড হিসেবে বাগমারা উত্তরের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, পেরুল দক্ষিনের এ.জি.এম সফিকুর রহমান, বেলঘর দক্ষিনের আব্দুল মান্নান ও ভুলইন দক্ষিনের মোঃ একরামুল হক এবার দলীয়ভাবে ছিটকে পড়ার সম্ভাবনা বেশি। কেননা অতীতের কর্মকান্ড নিয়ে এলাকার জনগন অসন্তোষ। পাশাপাশি মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ও। তবে এবাার নতুনদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। যারা দীর্ঘদিন এলাকায় থেকে সচ্ছতার মধ্য দিয়ে আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তেমনি একজন বাগমারা উত্তরের প্রাথর্ী হাজী সামসুল হক মুন্সী ও পেরুল দক্ষিনের মুস্তাফিজুর রহমান ডালিম।
অনেক পজেটিভ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে লালমাইর ৯টি ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিরবে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। তবে এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের জন্য দলের সিনিয়র নেতা ও নীতি নির্ধারকদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন। তবে শেষ অব্দি কার ভাগ্যে নৌকার টিকেট জুটবে- সেটা সময়ের ব্যাপার। উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার নবগঠিত লালমাইর ৯টি ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন পেরুল দক্ষিণ। এখানে বর্তমানের চেয়ারম্যান- এ.জি.এম সফিকুর রহমান। আগামী নিবার্চনে প্রাথর্ী হতে চাইলেও জনগণ তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে অনেক আগেই। এবার তিনি মাইনাসের খাতায় থাকবেন বলে অনেকেই মনে করছেন। তবে ভালো অবস্থানে আছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনি সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান ডালিম। তার পাশাপাশি আরো নমিনেশন চাইবেন এলাকার সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ মাস্টার, মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা ও এম.এ রহমান (নেভি রহমান)।
এ দিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এরা সবাই আওয়ামী দলীয় নেতাকর্মী। দীর্ঘ দিন যাবৎ এ এলাকার নীতিনির্ধারক সরকারের অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল)এর সংসদীয় নির্বাচনে নিবেদিত কর্মী ছিলেন। এবং তারা আজও তার হয়ে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন।

নবগঠিত লালমাই উপজেলা গঠনে লোটাস কামালের অবদানের কথা সবাই একবাক্যে প্রশংসিত করেছেন। তবে কাকে রেখে কাকে দলীয় টিকেট দেবেন- তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। ৯টি ইউনিয়নের সকল প্রার্থীরাই মনে করেন তারা লোটাস কামালের পছন্দের মানুষ। এই পছন্দের প্রার্থীতা বাছাই করতে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাউন্সিল অধিবেশন কিংবা বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে দলীয়ভাবে নমিনেটেড করলে কোন বিদ্রোহী প্রার্থীর আগমন ঘটবেনা। সবাই তার জন্য এক হয়ে কাজ করবেন। এ বিষয়ে আঃলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান ডালিম বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবার তেমন কোন সুযোগ নাই। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যে সিদ্ধান্ত দেবেন বা যাকে দল থেকে নমিনেটেড করবেন,আমরা তার জন্যই কাজ করে যাবো আগামী দিন গুলোতে। এবং নৌকার প্রার্থীকে বিজয় করতে নিশ্চিত করবো। পাশাপশি জননেত্রী শেখ হাসিনার এবারের প্রতিপাদ্য- “আমার গ্রাম-আমার শহর” বাস্তবায়িত করতে আমি বদ্ধ পরিকর। অন্যদিকে হারুনুর রশিদ বলেন, পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্ধের উপর সঠিক নিয়মে সকল উন্নয়নের কর্মকান্ড চলে আসছে। তবে জনগণের কাঙ্খিত আশা পূরণ হয়নি।

যদি আমি কামিয়াব হই- তাহলে এখানকার পুঞ্জিভূত সমস্যা নিরসন করবো। হারুনুর রশিদ ৩নং ওয়ার্ডের ভোটার। বেড়ে উঠেছেন এই জনপদে। পড়াশোনা শুরু করেন গ্রামের হরিশ্চর হাইস্কুল থেকে। এরপর লালমাই কলেজ ও লাকসামের নবাব ফয়জুন্নেসা কলেজ থেকে গ্রেজুয়েশন করেন। একসময় বৃহত্তর পেরুল এর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। দীর্ঘদিন পর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আর বর্তমানে ২ মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক ।

অপর প্রাথর্ী মুস্তাফিজুর রহমান ডালিম দক্ষিন পেরুলের ২নং ওয়ার্ডের ভোটার। তিনিও একই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। পরে ঢাকা আবুজর গিফারী কলেজে পড়াশুনা করেছেন। ছাত্র অবস্থায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। আর ঐ সময় থেকে লোটাস কামালের প্রিয়ভাজন হয়ে আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০০২ থেকে আজ অব্দি আওয়ামী রাজনীতির সাথে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে তুলছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বলেন- অতীতের কর্মকান্ড আর যোগ্যতার মাপ কাঠিতে আমাকে মূল্যায়ন করা হবে ইনশাআল্লাহ। আর দলীয়ভাবে নমিনেটেড হলে যে কোন প্রার্থীকে ডিঙ্গিয়ে আগামীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারবো। এদিকে ১৬ হাজার ৭শত ভোটারদের মাঝে ৫০% নবীন এবং তরুণ ভোটাররা আগামীতে ডালিম কে চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়ী করতে তার পেছনে একাট্টা।

ডালিম বলেন,আমি সারা জীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে আসছি। আমার নেত্রী- জননেত্রী শেখ হাসিনা আর আমার প্রিয় নেতা মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল। জীবনে কোনদিন দলের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজনীতি বাণিজ্য করি নাই। দরবার-শালিসবিচারে কোন পক্ষপাতিত্ব করি নাই। আর কোন গ্রুপিংয়ের রাজনীতি আমি করিনা। কাউকে করতে উৎসাহ দেই না। আমার শুধু একটাই গ্রুপ- আর তা হল জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতির পাশাপাশি এলাকর জনগণের সেবা প্রদান করা।