কুমিল্লায় পরিবহন ‘চাঁদাবাজির দুর্বৃত্ত’ আলম গ্রেপ্তার, চালকদের মধ্যে স্বস্তি


abbas প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৬, ২০২৪, ১২:৪২ অপরাহ্ন /
কুমিল্লায় পরিবহন ‘চাঁদাবাজির দুর্বৃত্ত’ আলম গ্রেপ্তার, চালকদের মধ্যে স্বস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক
কুমিল্লা নগরীসহ পুরো জেলার বিভিন্ন স্থানে পরিবহন চাঁদাবাজিতে ‘দুর্বৃত্ত’ হিসেবে পরিচিত আলম হাওলাদার ওরফে চাঁদাবাজ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
শুক্রবার দুপুরে তাকে কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর টমছমব্রিজ এলাকা থেকে পরিবহনে চাঁদাবাজির মামলায় আলমকে গ্রেপ্তার করে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের এসআই মো.নাইমুল হোসাইনসহ পুলিশ সদস্যরা।

গ্রেপ্তারকৃত আলম নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম আশ্রাফপুর এলাকার মৃত কদম আলীর ছেলে। আলম নিজেকে কুমিল্লা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে গত প্রায় এক দশক ধরে পরিবহন সেক্টরে চাঁদা উত্তোলন করে আসছিল।
এদিকে, চাঁদাবাজ আলম গ্রেপ্তারের খবরে কুমিল্লার সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। চালকরা তার কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। আলমকে গ্রেপ্তারের পর শুক্রবার কুমিল্লা নগরীর কোথাও সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা থেকে চাঁদা উত্তোলন হতে দেখা যায়নি। এতে চালকরা কোতোয়ালি থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
কুমিল্লা নগরীর অন্তত দশজন সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এক সময় রিকশাচালক ছিলেন চাঁদাবাজ আলম। পরবর্তী সময়ে তিনি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পরিবহন নেতা বনে যান। গত এক দশকের বশি সময় ধরে আলম নিজেকে কুমিল্লা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের (১৫৬৯ নম্বর সংগঠন) সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে আসছিল। ওই সংগঠনের মাধ্যমে কুমিল্লা নগরীর প্রতিটি এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সিএনজি ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক থেকে চাঁদা উত্তোলন করতেন তিনি। তার নিযুক্ত লোকেরা প্রতিটি স্ট্যান্ড থেকে ওই চাঁদার টাকা উত্তোলন করতেন চালকদের জিম্মি করে। কুমিল্লা নগরীর প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন স্ট্যান্ডে একশো টাকার বেশি চাঁদা উত্তোলন করা হতো। একইভাবে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা থেকেও চাঁদা উত্তোলন করা হতো। কুমিল্লা নগরীর বাইরে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অন্তত দশটি স্থানেও চাঁদা উত্তোলন করা হতো আলমের বিভিন্ন সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে। এছাড়া এসব এলাকায় যানবাহনে বিভিন্ন স্টিকার লাগিয়ে মাসিকভাবেও চাঁদা উত্তোলন করা হতো। দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির টাকায় এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন চাঁদাবাজ আলম।
শুক্রবার বিকেলে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হোসেন বলেন, গত ১৫ জানুয়ারি তিনজন পরিবহন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় আলম পালিয়ে যায়। ওইদিন এ ঘটনায় থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই মামলায় আলম এজাহারভুক্ত আসামি। দীর্ঘ চেষ্টার পর পরিবহনে চাঁদাবাজিতে অভিযুক্ত আলমকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নগরীর টমছমব্রিজ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার তাকে কুমিল্লার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে- গ্রেপ্তারকৃত আলম পরিবহন নেতা সেজে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংগঠনের নামে পরিবহন থেকে চাঁদা উত্তোলন করছিল। এতে পরিবহন চালকরা অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে। পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।