ঢাকা, আজ সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১

সাভারে তান্দুরি চা এখন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে

প্রকাশ: ২০২১-০২-০২ ১২:৫৩:৩৯ || আপডেট: ২০২১-০২-০২ ১২:৫৪:৩২

সাভার প্রতিনিধিঃ

ঢাকার অতি নিকটে সাভারের বিরুলিয়া গোলাপ বাগান, নাগান দেখতে আসা দর্শনার্থীরা গোলাপ বাগান দেখা শেষ হলেই সন্ধ্যা নেমে আশে, যত গড়াচ্ছে মানুষের ভিড় ততোই বাড়ছে। তাদের হাতে মাটির কাপ নিয়ে দাড়িয়ে গল্পের ফাঁকে ফাঁকে তান্দুরি চায়ে চুমুকে চুমুকে ভিড় জমানো মানুষগুলো আড্ডায় জমাচ্ছে গল্পের আসর ।

নানা বয়সের মানুষগুলো হাসি-ঠাট্টা, গল্প-গুজবে তান্দুরি চায়ে চুমুকের সেই আড্ডাটা বেশ জমে উঠেছে । আর এভাবে মামুনের চায়ের টেবিলের সামনে আড্ডা চলে গভীর রাত পর্যন্ত।

সাভারের বিরুলিয়ার ২৬ বছর বয়সী মামুনের বাঙালি খানা রেস্টুরেন্টে তান্দুরি চাকে ঘিরে ঘটে যাওয়া কথা। মঙ্গলবার ০২ ফেব্রুয়ারী ) সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে এমন চিত্রই চোখে পরেছে।

উতপ্ত মাটির কাপে পুড়ে যাওয়া চায়ের মনমুগ্ধকর সুন্দর গন্ধ আকৃষ্ট করবে যে কাউকে। তাই ভিন দেশ কলকাতার এই চায়ের কদর বেড়েছে এখন বাংলাদেশও।
দুর-দুরান্ত থেকে মানুষ এসে এক কাপ চা খাওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে থাকতেও কোন সমস্যা মনে করে না।
সেখানে দেখা গেছে, সন্ধ্যা যতই ঘনিয়ে আসছে মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। দল বেঁধে মানুষ চা খেতে আসছেন। চা খেয়ে আবার চলেও যাচ্ছেন। চায়ের দোকানটি সড়কের পাশে হওয়ায় সড়কের ভেতরে দাঁড়িয়েই চা খাচ্ছেন অনেকে। তান্দুরি চা তৈরির কারিগরের দম ফেলানোর সময় পাচ্ছে না তিনি, একের পর এক চা বানিয়েই যাচ্ছেন তিনি।

চায়ের মালিক মামুনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার বাড়ি বিরুলিয়া এলাকাতেই। তিনি প্রতিদিন যাতায়াতের সময় চিন্তা করতেন এখানে (ব্রিজের পাশে) একটি রেস্তোরাঁ দরকার। সে থেকে তিনি আড়াই মাস আগে রেস্টুরেন্ট খুলে তান্দুরি চা তৈরি শুরু করেন। তুরস্ক থেকে তান্দুরি চায়ের আবিষ্কার। তারপর ভারতের পুনেতে বেশি জনপ্রিয় হয় এই চা। সেই সঙ্গে বর্তমানে বাংলাদেশেও এর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ।

তান্দুরির তৈরিতে দুধের ভূমিকা অপরিহার্য। এছাড়া দুধ তৈরিতেই প্রয়োজন পরে আরও ১২টি আইটেম। তারপর গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী চাপাতি ব্যবহার করে তন্দুরির বিভিন্ন ধরণের চা তৈরি করা হয়। মালাই তন্দুরি চায়ে প্রয়োজন পরে আটটি আইটেম, চকলেট তন্দুরিতে নয়টি আইটেম।

মামুন বলেন, আমি কলকাতার এক বন্ধুর কাছে শিখেছি। সে আমাকে রেসিপি গুলো দিয়েছে। সেখানে থেকে আমি মোটামুটি সব রেসিপি সংগ্রহ করা শুরু করেছি। প্রথমে যখন শুরু করি আমার বন্ধু আমাকে ভিডিও কলে সব বুঝিয়ে দেয়।

তান্দুরির চায়ের দোকানদার মামুন বলেন, আমাদের এখানে বেশিরভাগ মানুষ আসে অফিসিয়াল লোকজন। এর মধ্যে শুক্রবার বন্ধের দিন হওয়ায় সেদিন সব চেয়ে বেশি মানুষের সমাগম হয়। তাছাড়া পাশেই গোলাপ গ্রাম। যারা গোলাপ বাগানে ঘুরতে আসেন তারা একটুর জন্য হলেও এখানে বসে চা খেয়ে যান।

চায়ের দোকানের কর্মী আতিক বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কাপ চা বিক্রি হয়ে থাকে। এছাড়া যে কোনো দিবসে এর চেয়েও বেশি বিক্রি হয়। আমার রেস্টুরেন্টে ছয় জন কর্মী রয়েছে। এর মধ্যে শুধু চা তৈরি করে তিনজন। তান্দুরি রেগুলার-২০ টাকা, তান্দুরি স্পেশাল-৪০ টাকা, তান্দুরি স্পেশাল মালাই-৫০ টাকা, তান্দুরি স্পেশাল চকলেট, স্বর মালাই, রস মালাই-৬০ টাক

আশুলিয়া থেকে পরিবার নিয়ে গোলাপ বাগানে ঘুরতে এসে মনে পড়ে যায় বিরুলিয়া ব্রিজ এর রাস্তার পাশে তান্দুরি চায়ের কথা। ফিরতি পথে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চা খাচ্ছেন আব্দুর রহমান । তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, চা টা বেশ ভালো। গোলাপ বাগান দেখতে এসে ফেরার পথে আমার ভাগিনা বললো মামা চা খাবো।তখন আমার মনে হলো সবাই নিয়ে বিরুলিয়া ব্রিজের পাসে তান্দুরি চা খেয়ে আসি সবাই মিলে ।

শুধু বিরুলিয়ায় নয় তান্দুরি চায়ের দোকান এখন অনেক স্থানেই হয়েছে। যেমন পল্লিবিদুৎ, সাহীবাগ, সাভার সিটি সেন্টারেও। দোকানগুলোতে সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়তে থাকে ভিড়।

সুস্বাদু এই চা খেতে চলে আসতে পারেন বিরুলিয়া, সাভার ও পল্লিবিদুৎ এলাকায়। বিরুলিয়ায় আসতে হলে মিরপুর থেকে আলিফ অথবা মোহনা পরিবহনে উঠে বিরুলিয়া ব্রিজে নামলেই হবে। পল্লিবিদুৎ এলাকায় আসতে হলে রাজধানী থেকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দিয়ে সাভার হয়ে নবীনগর থেকে একটু সামনে আসলেই পাওয়া যাবে তান্দুরি চায়ের দোকান