ঢাকা, আজ সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১

কুমিল্লার ড্রেন গুলো এখন আবর্জনার ভাগার

প্রকাশ: ২০২১-০১-১৮ ১২:৪৭:৪৩ || আপডেট: ২০২১-০১-১৮ ১২:৪৭:৫৮

নাসরিন সুলতানা (সিটি রিপোর্টার)

কুমিল্লা একসময় পরিচ্ছন্ন নগরীর সুনাম ছিলো। এখন আর সেই অবস্থা নেই। মানুষ বেড়েছে। বেড়েছে শহরের পরিধি। এক সময় কুমিল্লা পৌরসভা থেকে এখন সিটিকরপোরেশন। ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে এই কুমিল্লা নগরী। নাগরিক জীবনের নিম্মতম চাহিদা গুলো অনেকাংশেই পরিপূর্ন নয়। খোদ মেয়র আর তার কাউন্সিলরগণ প্রতিনিয়ত বলছেন, বাজেট আর বরাদ্দের উপর নির্ভর করে এই মহানগরকে ঢেলে সাজানো হবে পর্যায়ক্রমে। কিন্তু সেই কথা বাস্তবায়নের জন্য খুব একটা তৎপর দেখা যায় না।

কদিন আগে ঘোষণা দিয়ে শহর পরিচ্ছন্ন করার অভিযানে কুমিল্লার মেয়র তার ওয়ার্ড কাউন্সিলেরদের নিয়ে মাঠে নামেন। প্রথম দিন ময়লার গাড়ী দিয়ে কিছু আবর্জনা সরানো হয়, পরে ঐ স্থানটির রশির বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। আর ওতে বলা হয় এখানে ময়লা ফেলা নিষেধ। কিন্তু জনগণ তা মানবে কেন ? তথৈইঃ বচঃ- তার মানে আগের যেম রহিয়াছিল, এখনো তাই থাকিবে। ভবিষ্যতেও অনুরূপ থাকিবে— এটাই তথৈইঃ বচঃ।

এখন নগরীর যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনার স্তুপ দেখা যায়। সিটি করপোরেশন রাতের বেলায় আবর্জনা সরানোর বিধান থাকলেও এখন পাশাপাশি দিনেও ময়লা-আবর্জনা অপসারনের কাজ করছে। তবে জনসচেতনতার অভাবে নগরীর আবর্জনা অপসারনে অনেক ক্ষেত্রেই সফল হচ্ছে না । যে যেখানে পারছে ময়লা-আবর্জনা বা পরিত্যক্ত মালামাল ফেলছে যেখানে -সেখানে। এতে করে নগরীর সর্বত্রই ময়লা-আবর্জনার ছড়াছড়ি। আর দিন দিন নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড দূষিত হয়ে উঠছে। কোথাও সড়কের উপর ডাষ্টবিন। আবার কোথাও আবাসিক এলাকার প্রাণকেন্দ্র। যেখান থেকে পরিত্যক্ত পঁচা-বাসী বা উচ্ছিষ্ট বর্জ্যের পানি সড়কের উপর এসে পড়ছে। একইভাবে অনেকস্থানে ড্রেনের পানিও সড়কের উপর জমে আছে অহরহ। এর বাইরে অসচেতন নগরবাসী তাদের পরিত্যক্ত বর্জ্য জিনিসগুলো প্রতিদিনই ড্রেনে ফেলে ড্রেন ভরাট করছেন। ফলে স্বাভাবিক পানি নিস্কাশন হচ্ছে না। এতে ড্রেনজুড়ে জমে থাকা আবর্জনায় মশার বংশ বিস্তার হচ্ছে। যা নানা রোগ জীবানু ছড়াচ্ছে নগরবাসীর মাঝে।

সিটিকরপোরেশন থেকে ড্রেনগুলো পরিস্কার করা হলেও জনগনের অসচেতনতার কারণে অল্প সময়ের মাঝেই আবার সেগুলো আবর্জনায় ভরাট হয়ে পড়ে। নগরীর পানি নিস্কাশনের অন্যতম প্রধান এলাকা টমসমব্রীজ হয়ে উত্তর দিকের (গুইংগাজুড়ী) খালটি । প্রতিদিন নগরবাসী এই ড্রেনটিতে ময়লা আবর্জনা ফেলায় বোঝার কোন উপায় নেই এটা কি ড্রেন না ডাষ্টবিন। জনসচেতনতার পাশাপাশি নগরীর ড্রেনগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে জরিমানাসহ বিকল্প কোন ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী সচেতন নগরবাসীর।