ঢাকা, আজ সোমবার, ৮ মার্চ ২০২১

কুমিল্লা স্থানীয় প্রশাসনের অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান কুমিল্লা হবে পরিচ্ছন্ন আলোকিত জনপদ

প্রকাশ: ২০২১-০১-১০ ১৫:০৫:০৩ || আপডেট: ২০২১-০১-১০ ১৫:০৫:০৩

শান্তনু হাসান খান(বিশেষ প্রতিনিধি)

সমতটের এই বেলা ভ্থমির নাম কমলাঙ্ক। পরে টিপরা থেকে কুমিল্লা। দেশ ভাগের পর কুমিল্লা শহর ছিল পরিচ্ছন্ন আর বসবাস যোগ্য একটি আবাসিক জেলা শহর। নদীর পূর্ব পাড়ে কুমিল্লা আর পশ্চিমে ছিল বগুড়া জেলা শহরটি। কিন্তু সেটা এখন ইতিহাস মাত্র। চুন, ইট আর সুড়কির দেয়াল দিয়ে নির্মাণ করা পুরাতন বাড়ী ঘর গুলো এখনও টিকে আছে অতীতের স্মৃতি বহন করে এই নগরীতে। আর হাল আমলে ডেভেলাপারদের দাপটে কুমিল্লা সেই ঐতিহ্য ম্লান হয়ে যাচ্ছে দিন দিন- প্রতিদিন।

এক সময় “ব্যাংক এন্ড ট্যাংক সিটির” নামে খ্যাত ছিলো এই কুমিল্লা। ব্যাংক আছে। তবে ট্যাংক নেই। স্বাধীনতার পর কমপক্ষে ১৮৪ টি পুকুর ভরাট করা হয়েছে শহরের মধ্যেই। এবং তা আবাসিক ভবন নির্মাণের জন্যই ভরাট করা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়া এখনও চলমান। ভ্থমি খেকোদের দাপট এখনও অব্যহত রয়েছে এই শহরে। দেখার কেউ নেই। বলারও কেউ নেই। কালে ভদ্রে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা জারি করলেও ওই সব ভ্থমি খেকোরা থোড়াই কেয়ার করেন।
মানুষের প্রয়োজনে কুমিল্লা শহর সব দিক থেকেই বেড়ে গেছে। শিক্ষা সংস্কৃতির পাদ পীঠ এখন আর নেই।

শহরের পরিধি বেড়েছে কয়েক গুন। যাতায়াতের মাধ্যমও বদল হয়েছে অনেক। জনসংখ্যাও বেড়েছে। বেড়েছে হাট বাজার- ব্যবসা বণিজ্যের কেন্দ্র। এক সময় কান্দিরপাড়, রাজগঞ্জ, চক বাজার আর শাসনগাছা কেন্দ্রিক মূল ব্যবসা বাণিজ্যের জমজমাট অবস্থান ছিলো। আর এখন শহরের আনাচে কানাচে বেড়ে উঠেছে বিভিন্ন শপিংমল আর বাণিজ্য বিতানের চাপ। মানুষ অনেকটাই দিশে হারা। আর এই বাণিজ্য কেন্দ্রকে লক্ষ করে রাস্তাঘাট-ফুটপাত দখল হয়েছে অনেক আগেই। এবং তা কোন প্রকার ঘোষণা ছাড়াই।

যে যার মত করে, পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে নিজেদের অবস্থানকে পাকাপক্ত করেছেন। ভবন নির্মাণ কাজে ব্যবহারিত ইট, বালু, রড স্তুপ করে পথচারীদের নাজেহাল করতে কার্পন্য করে না। আর এই সব অনিয়মকে গুঁড়িয়ে দিতে বর্তমান জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীরের নির্দেশনায় নির্বাহী মেজিষ্ট্রেট মোঃ আবু সায়িদের নেতৃত্বে “টিম কুমিল্লা” পরিচ্ছন্ন কুমিল্লা উপহার দিতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন।

এদিকে শহরের ষ্টেশন রোড, শাসনগাছা, টমছমব্রীজ, রাণীর বাজার, চক বাজার, কান্দিরপাড় সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান সফলতার মুখ দেখেছে। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী মেজিষ্ট্রেট গনমাধ্যমকে বলেন, জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে জেলা প্রশাসকের নিবিড় তত্তাবধানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। শহরে ফুটপাত ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতে শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্য ফেরাতে নগরবাসী যে ভাবে সাড়া দিচ্ছেন তাতে আমরা খুব খুশি। এই কাজ করতে গিয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন নন্দিত হয়েছেন।

আমরা যাদেরকে উচ্ছেদের আওতায় এনেছি, তাদেরকে পুনর্বাসনের জন্য জায়গা দেখিয়ে দিচ্ছি। প্রশাসন চায়না – ছোট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা হকাররা ক্ষতিগ্রস্ত হোক। সিটি কর্পোরেশন, জেলা পুলিশ বিভাগ, আনসার বাহিনীর সদস্যরা আমাদেরকে সহযোগীতা করছেন। পাশাপাশি এলাকার ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণও। কুমিল্লা জেলা প্রশাসক বলেন, সব ধরনের সহযোগীতার আশ্বাস আমরা জনগণের কাছ থেকে পেয়েছি। এই কার্যক্রম ফলাফল দীর্ঘ দিন যাতে সাধারণ মানুষ ভোগ করতে পারে- সেই চেষ্টাতেই আমাদের এই কার্যক্রম।
এদিকে টিম কুমিল্লার অভিযানে শাসনগাছা, ষ্টেশন রোডের রাস্তার পাশ দখল করে কেউ আগের মত মালামাল রাখছেন না।

এই এলাকাটি লোহার ও ভাঙ্গারী ব্যবসায়ীদের দখলে ছিলো। রাজগঞ্জ থেকে চকবাজার রাস্তার পাশে ফুটপাতের উপর কেউ পন্য রেখে ব্যবসায় করতে না পারে সে জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফলে মালামাল ও ছাউনি ঘুটিয়ে নিয়েছেন অনেক ব্যবসায়িরা। সর্বশেষ কান্দিরপাড়ের লিবার্টি মোড় ও টাউনহল মাঠ থেকে অবৈধ গড়ে উঠা চা ষ্টল ও হকারদের কে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু “টিম কুমিল্লার” এই অবৈধ উচ্ছেদ অভিযানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সব ধরনের সহযোগীতা আমি এবং আমার ওয়ার্ড কাউন্সিলররা করেই যাবে। সাধারণ মানুষরা যেন এর সুফল ভোগ করতে পারে, সেই প্রচেষ্টা করেই যাবো।
টিম কুমিল্লার এই উচ্ছেদ অভিযানকে জনগন অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে কতদিন এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যাবে সেটাই প্রশ্ন হয়ে থাকলো।

এর আগেও আমরা কুমিল্লার বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহণ করতে দেখেছি। ফলাফল শুন্য। যেই কপাল- সেইই মাথা থেকেই গেলো। তবে জেলা প্রশাসক মহোদয় এবার কঠোর হস্তে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এতে সহযোগীতা করছেন জেলা পুলিশ সুপার, স্থানীয় কাউন্সিলর ও এলাকার মুরব্বীগণ। অভিযানে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অনেককেই জরিমানাও করা হয়েছে। সাধারণ মানুষদের একটাই অভিমত- রাজনৈতিক ছত্রছায়াতে যদি খুব সহসায় নেতা কর্মীদের পৃষ্টপোষকতায় আবার যদি পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসে- তাহলে অবাক হওয়ার মত আর কিছুই থাকবে না।