ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০

কুমিল্লায় করোনার প্রভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে মাদ্রাসার শিক্ষক ও ইমামগণ

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২৬ ০৪:৩৬:২৯ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৬ ০৪:৪৪:৩০

আবু সাঈদ:

বর্তমান সময়ে মহামারী করোনা ভাইরাস এক মহা আতংকের নাম। যার ভয়ে দিশেহারা পুরো পৃথিবী। সারাবিশ্বের মানুষ আজ ঘরের কোণে বন্দি অবস্থায় আছে। স্তব্ধ হয়ে গেছে পুরো পৃথিবী। মহা শক্তিধর দেশগুলো ও এই ভাইরাসের কারণে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়ে গেছে।

বাংলাদেশেও করোনার ব্যাপক প্রভাব পরেছে। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি জেলাকে লক ডাউন ঘোষনা করা হয়েছে। মানুষকে ঘরে রাখতে কঠোর অবস্থানে আছে প্রশাসন।

সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অনেক সরকারি দপ্তর।

সারা দেশের মত কুমিল্লায় ও ছড়িয়ে গেছে এই ভাইরাস। গত ১০ ই এপ্রিল কুমিল্লা জেলা কে লক ডাউন ঘোষনা করেছেন মাননীয় জেলা প্রশাসক জনাব আবুল ফজল মীর।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে মানবেতর জীবনযাপন করছে কুমিল্লার বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন রা।

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার কয়েকটি কওমী মাদ্রাসা ঘুরে দেখা যায়, মাদ্রাসা বন্ধ থাকার কারণে অনেক শিক্ষক ছুটিতে রয়েছেন। ছুটিতে থাকা অবস্থায় ছাত্র/ছাত্রীদের কাছ থেকে বেতন নিতে না পারায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষকদের বেতন দিতে না পারায় খুবই অসহায় জীবন যাপন করছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, মাদ্রাসা বন্ধ থাকায় ছাত্র/ছাত্রীদের কাছ থেকে বেতন নিতে পারতেছেনা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তার কারণে আমাদের কে ও বেতন দিতে পারতেছেনা। অনেক মাদ্রাসা শিক্ষক গণ বিভিন্ন মসজিদে ইমাম হিসেবে চাকুরী করেন। এখন মসজিদেও মুসল্লীদের সংখ্যা নির্ধারিত করে দেওয়ায় এখান থেকেও বেতন নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে মসজিদ কমিটির। বেশির ভাগ মসজিদ কমিটি ই মুসল্লীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলে ইমামের বেতন দিয়ে থাকে।

পবিত্র রমজানে কওমি মাদ্রাসার হাফেজ শিক্ষকগণ খতম তারাবীহ পড়িয়েও একটা আয় করতে পারতো কিন্তু মসজিদে মুসল্লী সংখ্যা নির্ধারিত হওয়ায় এখন সেই তারাবীহ ও পড়াতে পারতেছেনা অনেকে৷

এমতাবস্থায় সচেতন মহল মনে করছেন, বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষকগণের সাহায্যের জন্য সমাজের উচ্চবিত্তদের এগিয়ে আসা দরকার। পাশাপাশি সরকারি অনুদানের কথা বলেছেন অনেকে।