ঢাকা, আজ বুধবার, ৩ মার্চ ২০২১

কর্তনকৃত টাকা পরিশোধের দাবিতে সমাবেশ মিছিল বিক্ষোভ করেছে শ্রমিকরা

প্রকাশ: ২০২০-১২-১৮ ১১:৪৮:১৯ || আপডেট: ২০২০-১২-১৮ ১১:৪৮:১৯

সাভার প্রতিনিধি:

সাভারের আশিুলিয়ায় একটি বন্ধ কারখানা খুলে দেয়াসহ বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার ৪’শ শ্রমিক।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে নবীনগর-চন্দ্রা মহাড়কের বাইপাইল এলাকায় জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের উদ্যোগে কারখানাটির শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে অংশ নেন।

আশুলিয়ার মির্জানগর এলাকায় অবস্থিত স্কাইল্যাক্স অ্যাপারেলস লিমিটেড কারখানার মালিক নাছিরুল ইসলাম পান্না ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে সমাবেশে অভিযোগ করেন শ্রমিকরা।

কারখানাটির জ্যাকার্ড অপারেটর নাজমুল ইসলাম বলেন, চার বছর ধরে আমি এই কারখানায় কাজ করছি। কিন্তু গত ১০ ডিসেম্বর সকালে কাজে এসে কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখতে পাই। তখন মালিক নাছিরুল ইসলাম পান্নার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে আমরা পাইনি। গত দুই বছর ধরে আর্থিক অনটনের কথা বলে আমাদের বেতন থেকে ২ হাজার টাকা কেটে নিতো মালিক। এছাড়া আমাদের ৫’শ শ্রমিক এক মাসের বকেয়া বেতন-ভাতা পাবো। এখন শ্রমিকদের পাওনা না দিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে কারখানা মালিক পান্না।

জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া থানা কমিটির সভাপতি ফরিদুল ইসলাম বলেন, কোন কারণ না দেখায় ফ্যাক্টরি বন্ধ করে মালিক ইন্ডিয়া পালাইছে। শ্রম আইনের ১৬, ২৫ ও ৩২ ধারা উল্লেখ করে নোটিশ টানাইছে। এই ধারায় কারখানা বন্ধ করার নিয়ম নাই। আমরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, বিজিএমইএ ও কলকারখানা অধিদপ্তরে চিঠি দিছি। ১৭ ডিসেম্বর বিজিএমইএ শ্রমিকদের সাথে মিটিং করার কথা ছিলো। মালিকের এক ভাগিনার সাথে মিটিংয়ে বসার দ্বায়িত্ব বিজিএমইএ নিলেও কেউ আসেনি। এমন অবস্থায় কারখানাটির শ্রমিকরা অনেক অসহায় অবস্থায় দিন পার করছে।

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার হেলাল বলেন, ‘এর আগে ওই কারখানায় সমস্যা হয়েছিলো। তখন আমাদের এসপি সাহেবসহ আমরা ঠিক করে দিছিলাম। হুট করে যে মালিক গত সপ্তাহে কেন বন্ধ করে দিছে আমরাও জানি না। ওনার না কি প্রচুর লস হইছে। একবার ৬ কোটি, একবার ১০ কোটি ও ২০ কোটি টাকার কথা বলেছিলো। এটাতো আর আমরা জানি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকে নতুন বেতন কাঠামো চালু হলেও কারখানা মালিক এডজাস্ট করেন নাই। ২ হাজার টাকাটা মূলতো বাড়ি ভাড়াসহ শ্রমিকদের বিভিন্ন এলাউন্স। যেটা বেতনের সাথে এডজাস্ট করে নাই। এটা শ্রমিকরা মেনেও নিয়েছিলো।’