ঢাকা, আজ সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১

“বিজয়ের ৪৯ বছরে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি”

প্রকাশ: ২০২০-১২-১৭ ১২:২২:৩৫ || আপডেট: ২০২০-১২-১৭ ১২:২২:৩৫

“বিজয় তুমি ১৬ই ডিসেম্বর,
লাখ শহীদের রক্ত মাখা প্রাণ-
বিজয় তুমি শাশ্বত বাংলার সোনালী ফসল
-সরষে ফুলের ঘ্রাণ।”

একথা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট যে, পৃথিবীর ইতিহাসে আমরাই একমাত্র জাতি যারা অধিক মূল্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি। আমাদের মত এতটা ত্যাগ ও সর্বস্ব বিসর্জন দিয়ে পৃথিবীতে কোন জাতি স্বাধীনতা অর্জন করেননি। বর্তমান পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ কৈশোর পেড়িয়ে ভরা যৌবনে পা দিয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সমৃদ্ধ অধ্যায়। একথা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায় হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি জাতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবান্বিত অধ্যায় মহান মুক্তিযুদ্ধ, মহান মুক্তিযুদ্ধের গল্পগুলো একদিকে যেমন দুর্বিষহ, করুণ, শোকে আচ্ছন্ন ও লোমহর্ষক তেমনি ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল ও বীরত্বপূর্ণ। বিজয়ের ৪৯ বছরে মহান মুক্তিযুদ্ধের আলোকে যে প্রত্যাশা ছিলো সে দিকে খেয়াল করলে মনে হবে আমরা বিজয়ের পূর্ণ যৌবনে এসেও প্রাপ্তির পূর্ণতা থেকে অনেক দূরে।

যেকোন জাতিই একটি মহান লক্ষকে সামনে রেখে স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে, আমরাও এর ব্যতিক্রম ছিলাম না। একটি গণতান্ত্রিক, সুখী, সমৃদ্ধ, শোষণ ও বঞ্চনামুক্ত সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয় নিয়েই মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে প্রিয় মাতৃভূমিকে স্বাধীন করা হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষমতালিপ্সা, অপরাজনীতি ও অহমিকার কারণে আমাদের স্বাধীনতার ৪৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বরং অর্জন যৎসমান্যই বলতে হবে। যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে যখন পুনর্গঠনে মনোনিবেশ করা উচিত ছিল তখন ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত বা চিরস্থায়ী করার জন্য যা যা করা দরকার তাই করেছে। অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে গণমানুষের স্বাধীনতার আকাক্ষার বাস্তবরূপ লাভ করেছিল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। কিন্তু এই জনপদের মানুষের স্বাধীনতার আকাক্ষা দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি ছিকি ভাগও।

এই দেশ আগামী বছর স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন করবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো এখনো সোনার হরিণের মতো অধরাই থেকে গেছে। স্বাধীনতার পরবর্তী প্রতিটা জাতীয় বাজেটে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনকে গুরুত্ব প্রদান করা হলেও পরিস্থিতির অবনতি ছাড়া উন্নতির লক্ষণ দেখা যায়নি। জনসংখ্যা বেড়েছে, বাজেটের আকার বেড়েছে, যেসব খাতের ব্যয় বরাদ্দ বাড়লে জনগণের মুক্তিতে সহায়ক ভুমিকা রাখতে সক্ষম হতো তার প্রতিটা খাতে শতাংশের হারে ব্যয় বৃদ্ধি তো ঘটেইনি বরং দিনে দিনে শতাংশ হারে কমে গিয়েছে। ফলে সাধারণ জনগণের মধ্যে জীবন সংগ্রামে পরাজিতবোধের লক্ষণ ফুটে উঠছে।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে এদেশের জনগণ অংশগ্রহণ করেছিল তাদের সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তির আশায়। তাই মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অঙ্গীকার, সংবাদপত্র ও মিডিয়ার স্বাধীনতা, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোগীদের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা নিশ্চিতকরণ,সন্ত্রাস-যানজট-লোডশেডিং-মাদক থেকে নিষ্কৃতি, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, রাজনীতিকে গণমুখীকরণ, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বকে শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন জরুরি প্রসঙ্গ, যে কোনো সুষ্ঠু সমাজব্যবস্থা ও শাসনব্যবস্থার জন্য শুধু গুরুত্বপূর্ণই নয়, তার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার, বিরোধী দলসহ সব সামাজিক শক্তি-সংস্থার একযোগে কাজ করা একটি অনিবার্য দায়িত্ব। অপ-শাসন ও সেচ্ছাচারিতার রাজনীতি থেকে বেড়িয়ে এসে প্রকৃত গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমে দেশের চলমান সংকট নিরসনের জন্য আন্তরিক হলেই বিজয় অর্জনের যে মূল লক্ষ তা বাস্তবায়ন হবে। প্রত্যাশাগুলো প্রাপ্তিতে পূণতা পাবে।

লেখক
মেহেদী হাসান
স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী,
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।