ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১

আজ ৪ ঠা ডিসেম্বর দেবিদ্বার ‘মুক্ত দিবস’

প্রকাশ: ২০২০-১২-০৩ ১৮:২০:৩৬ || আপডেট: ২০২০-১২-০৩ ১৮:২০:৩৬

আবুল বাশার (দেবিদ্বার)কুমিল্লা

৪ ঠা ডিসেম্বর কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের রক্তঝরা এই দিনে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাস্ত করে দেবিদ্বার মুক্ত হয়েছিল। স্বাধীনতা ঘোষণার মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ৩১ মার্চ কুমিল্লা সিলেট মহাসড়কে বি-বাড়িয়া থেকে কুমিল্লা, সেনানিবাসে (তৎকালীণ পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সেনা ছাউনি) হেঁটে গমনকারী আধুনিক অস্ত্রে সুসজ্জিত ১৫ জনের একটি হানাদার দল ভোরে দেবিদ্বার উপজেলার ভিংলাবাড়ি নামক স্থানে জনতা কর্তৃক প্রথম অবরুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে ৩৩ বাঙালি শহীদ হন। ৬ সেপ্টেম্বর পাক হানাদারদের সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধে দেবিদ্বারের বারুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মো. জয়নাল আবেদীন, বাচ্চু মিয়া, শহিদুল ইসলাম, আলী মিয়া, আ. ছালাম, সফিকুল ইসলাম, মো. হোসেনসহ সাতজন শহীদ হন। মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদারের বর্বরতার নির্মম স্বাক্ষর দেবিদ্বারের অবহেলিত ‘গণকবর’। ১৭ সেপ্টেম্বর শত্রু সেনারা মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ২০ বাঙালিকে ধরে এনে দেবিদ্বার উপজেলা সদরের প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সামনে গর্ত খুঁড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে ব্রাশফায়ার করে নির্মমভাবে হত্যা করে। এ সময় ভাগ্যক্রমে একজন বেঁচে গেলেও বাকি ১৯ শহীদকে সেখানে মাটি চাপা দেয় পাকবাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানটি অবহেলিত ও দখলে থাকলেও দেবিদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব এবং উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এর আংশিক স্থান দখলমুক্ত করে এরই মধ্যে সেখানে স্মৃতিফলক লাগানো হয়েছে। একাত্তরের ৩ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী যৌথভাবে হানাদারদের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা করে। এ দিন মুক্তিবাহিনী কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের কোম্পানীগঞ্জ ব্রিজটি মাইন বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেয়। মিত্র বাহিনীর ২৩ মাউন্টেড ডিভিশনের মেজর জেনারেল আরডি বিহারের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। মিত্রবাহিনীর একটি ট্যাংক বহর বুড়িচং ও ব্রাক্ষণপাড়া হয়ে দেবিদ্বার আসে। পাক হানাদাররা এ রাতে পিছু হটে এবং দেবিদ্বার ছেড়ে কুমিল্লা সেনা ছাউনিতে পালিয়ে যায়। ধীরে ধীরে মুক্তিবাহিনীর গ্রুপ সেনা সদরের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এরই মধ্যে মিত্রবাহিনীর ট্যাংক বহরটি দেবিদ্বার থেকে চান্দিনা হয়ে ঢাকা অভিমুখে রওয়ানা হলে মোহনপুর এলাকায় ভুল বোঝাবুঝির কারণে দুই মিত্র গ্রুপে গুলি বিনিময়কালে ৬ মিত্র সদস্য নিহত হন। এভাবেই ৪ ডিসেম্বর দেবিদ্বার শত্রুমুক্ত হয় এবং উল্লসিত জনতা স্বাধীন বাংলার লাল সবুজের পতাকা নিয়ে বিজয়ের আনন্দে মেতে ওঠেন। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, দেবিদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে