ঢাকা, আজ বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০

নবগঠিত দেবিদ্বার পৌরসভা নতুন মেয়র প্রার্থী শামীম -বাসযোগ্য নগরায়ন গড়তে চাই

প্রকাশ: ২০২০-১০-০৮ ১৪:৪১:৫২ || আপডেট: ২০২০-১০-০৮ ১৪:৪১:৫২

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)

আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে কুমিলস্নায় চান্দিনা, বরুড়া, লাকসাম, দাউদকান্দি, চৌদ্দগ্রাম, হোমনাসহ নবঘটিত দেবিদ্বার পৌরসভার মেয়র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন থেকেই দ্যেরঝাপ শুরম্ন হয়েছে। তবে দেবিদ্বার পৌরসভাকে নিয়ে মামলা নিযে জটিলতায় নির্বাচন কমিশন মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনকে সকল ব্যবস্থা গ্রহণের নিদের্শনা দিয়েছেন। সম্ভবত ২৩৪ টি পৌরসভার মধ্যে নির্বাচনের আওতায় আসবে।

এবার দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ডিসেম্বর থেকে কয়েক ধাপে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের আয়োজন চলছে। এর পর আগামী বছরের মার্চে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা চলবে। তবে চলতি বছর অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর সেই আলোকে দেশে বর্তমানে তিনশর বেশি পৌরসভা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট হয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যেসকল পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশির ভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর সেই আলোকে এবার কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌরসভা ২০০১ সালে ঘোষনার পর পদাধিকার বলে নির্বাহি কর্মকর্তা ছিলেন প্রশাসক। আর নয়টি ওয়ার্ডকে বিভাজন করে সহায়তা কাউন্সিলর হিসেবে ১২ জন ব্যক্তি এতদিন বহাল ছিলেন। দেবিদ্বার উন্নতমানের একটি প্রথম শ্রেণীর যোগ্যতা বহন করে আসছে ১৮ বছর পূর্ব থেকে। এখানের বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জম-জমাট ব্যবসা কেন্দ্র সহ একটি সমৃদ্ধশালী জনপথ। এখানে প্রাথমিক ভাবে ৩ জন মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগের হয়ে মাঠে আছেন। সাবেক চেয়ারম্যান আবু কাশেম, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম শামীম ও বাবুল হোসেন রাজু। এর আগে দেবিদ্বার ১৪ টি ইউনিয়ন আর একটি পৌরসভার মর্যাদায় প্রশাসনিক কাজকমৃ চলছিল। দীর্ঘদিন মামলা জনিত কারণে পৌরসভার বাস্তবাযন মুখ থুবরে পড়েছিল। জননেত্রী শেখ হাসিনার আমলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রী করণে দেবিদ্বার এখন পৌর শহরে মর্যাদা লাভের মুখ দেখছেন। আর তাতেই এলাকার ৪৫ হাজার ভোটার মহাখুশি। তবে মেয়র প্রার্থী তারণ্যের প্রতিক নিয়ে দীর্ঘদিন মাঠ গুছিয়েছেন যুবলীগ নেতা শামীম। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সিলেকশন কমিটি তথা আমার নেত্রী- জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার অতীতের পলিটিক্যাল ক্যারিয়ার। আর জনগনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনায এনে ইনশাল্লাহ আমাকে নমিনেটেড করবেন। আর দলীয় প্রতিকে এখানে যেকোনো প্রার্থীকে ডিঙিয়ে আমি মেয়র হতে পারবো।

দেবিদ্বারে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের বসবাস। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে ৪৫ হাজার ভোটার। ৭ বর্গকিলোমিটারের এই নব পৌরসভাকে বাস্ত্মবায়নে বাধা দিয়ে জনৈক আসাদুজ্জামন পাঠান এর বিরোধিতা করে মামলা ঠুকে দেয়। ২০০৬ সালে নিম্ন আদালতে খারিজ হয়ে যায়। এরপর লিভ টু আপিলে এটাও শেষ হওয়ার পথে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার সরকার মন্ত্রনালয়কে মাঠ প্রশাসনকে সকল তথ্য উপাদ্য সংগ্রহ করে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। আর তাতেই ডিসেম্বরের দেবিদ্বার পৌরসভার নির্বাচন অনেকটাই নিশ্চিত। এদিকে মেয়র প্রাথী সাইফুল ইসলাম শামীম বলেন, নির্বাচিত হলে দেবিদ্বারকে বাসযোগ্য মাঝারি অবকাঠামো নগরায়ন গড়ে তোলার চিন্তা ভাবনা রয়েছে। আর এতে দিক নির্দেশনা ও পৃষ্ঠপোষকতা করবেন এলাকার মাননীয় এমপি রাজীব ফখরুল। শামীম দেবিদ্বারের মানুষ। পড়াশোনাটা গ্রাম থেকেই। পরে সুজাত আলী ডিগ্রী কলেজ। সবশেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে মাস্টার্স। ছাত্র অবস্থায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন। দীর্ঘদিন ছাত্র রাজনীতির পর দেবিদ্বার উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ঐ সময় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্বাহী সদস্য ছিলেন। পরে তিনি যুবলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পরেন। একসময় তিনি পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য হয়েছিলেন। তিনি বলেন- আমি নিজে গ্রুপিংয়ের রাজনীতি করিনা। কাউকে করতে উৎসাহ দেই না। তিনি বলেন- মাদক, সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদ এই তিনটি হচ্ছে উন্নয়নের প্রধান বাধা। মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্স। এদিকে আওয়ামী লীগের প্রবীণ ও নবীন নেতাকর্মীরা দলীয়ভাবে মেয়র হিসেবে শামীমকেই পছন্দের তালিকায় রেখেছেন। এখানে বর্তমানে ৪৫ হাজার ভোটারদের মাঝে ২০% নবীন ও দলীয় নেত কর্মীরা আগামীতে তাকে জয়ী করতে এখন থেকে তার পিছনে একাট্টা। সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে আসছি। এবার চাইব মেয়র হয়ে কিছু একটা অবদান রাখতে। এজন্য আমার এমপি যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস। ভোটারদের নাগরিক জীবনের চাহিদা পূরণে, আর জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে চাই। দেবিদ্বার পৌরসভার ড্রেনেজ সিস্টেম, ড্যাম্পিং ব্যবস্থাসহ স্ট্রিট লাইট ও পয়ঃনিষ্কাশন আরো উন্নত করা হবে, তবে সেটা বাজেট ও বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে।

৪০ বছরের সাইফুল ইসলাম শামীম একজন সামাজিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নন্দিত। ব্যক্তিগত জীবনে জাফরগঞ্জ মীর আব্দুর গফুর ডিগ্রি কলেজে শিক্ষকতার পাশাপাশি লায়ন’স ক্লাব ইন্টাঃ এর সাথে জড়িত।