ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

কমলগঞ্জ পৌর নির্বাচনঃ এবার মেয়র জুয়েলের সাথে কাউন্সিলর আনোয়ার লড়বেন

প্রকাশ: ২০২০-০৯-২৪ ১৪:৪৩:৩০ || আপডেট: ২০২০-০৯-২৪ ১৪:৪৩:৩০

শান্তনু হাসান খান(বিশেষ প্রতিনিধি)ঃ

এবার দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নিবার্চন অনুষ্ঠিানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নিবার্চন কমিশন (ইসি)। আগামী ডিসেম্বর থেকে কয়েক ধাপে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণের আয়োজন চলছে।

এর পর আগামী বছরের মার্চে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা চলবে। তবে চলতি বছর অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশে বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের নিবার্চন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর সেই আলোকে দেশে বর্তমানে তিনশর বেশি পৌরসভা রয়েছে।

এর মধ্যে ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একযোগে ২৩৪ টি পৌরসভায় ভোট হয়। অন্যান্য পৌরসভার ভোট মেয়াদ অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর যে পৌরসভাগুলোর ভোট হয়েছিল তার বেশিরভাগের মেয়র ও কাউন্সিলররা পরের বছরের জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারি মাসে শপথ নেন। ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ হিসেবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসব পৌরসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আর সেই আলোকেএবার মৌলভীবাজার সদর কুলাউড়া, বড়লেখা আর কমলগঞ্জ পৌর নিবার্চনের প্রাথর্ীরা মাঠে আছেন। কমলগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র জুয়েল আহমেদ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন।

এছাড়াও মাঠে আছেন পৌর সভার ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন আর পরিবহন সেক্টরের হেলাল মিয়া। এদিকে নাগরিক জীবনের সকল সমস্যা নিরসন করার জন্য সবাই ওয়াদাবদ্ধ। কমলগঞ্জ পৌর নির্বাচনে তারুন্যের প্রতীক নিয়ে মাঠে থাকতে চান আনোয়ার হোসেন।

তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন -জীবনের প্রতিটি স্তরে আমি সফল হয়ে এসেছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস দলীয় ভাবে নমিনেটেড হলে যেকোনো প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র হতে পারব ইনশাল্লাহ। আনোয়ার হোসেন বেড়ে উঠেছেন কমলগঞ্জে। ১৯৯৯ সালে কমলগঞ্জ পৌরসভা গঠন করা হয়।

বর্তমান ভোটার সংখ্যা সাড়ে ১৫ হাজার। আর ৯টি য়োর্ডের মধ্যে ১টি ওয়ার্ড কাউন্সিলর হিসেবে পৌরসভা গঠন করার পর থেকেই আছেন। শিক্ষাজীবন এখানেই তার। ১৯৮৬ তে শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আনোয়ারসহ ছাত্রলীগের অনেক কমর্ীরা পরীক্ষা বর্জন করেন।

আর তখন থেকেই ছাত্র-রাজনীতি শুরু।১৯৯১তে জাতীয় নিবার্চনে অধ্যক্ষ আব্দুস সহিদের নিবার্চনে মাঠে কাজ করেন। এরপর সম্মেলনের মাধ্যমে (শাহ আলম- হেলাল পরিষদ) কমলগঞ্জ উপজেলা কমিটির প্রচার সম্পাদক নিবার্চিত হন। ১৯৯৪তে সম্মেলনের মাধ্যমে সাধারণ সম্পাদক নিবার্চিত হন। ২০০৭ এ যুবলীগের রাজনীতি শুরু করেন।

দীর্ঘ ১০ বছর যুবলীগের নিবেদিত কমর্ী ছিলেন। কিন্তু সম্মেলনের আগেই কেন্দ্র থেকে ১টা এডহক কমিটি ধরিয়ে দেওয়া হয় কমলগঞ্জের যুবলীগকে।আর ঐ কমিটিতে বর্তমান মেয়র জুয়েল আহমেদ আহবায়ক।

১৯৯৯ সালে কমলগঞ্জ পৌরসভা গঠন করা হলেও বিধি মোতাবেক আনোয়ার ৮ নং ওয়ার্ডের কমিশনার দায়িত্ব লাভ করেন। সেই থেকে জনগনকে সাথে নিয়েই তার সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কাজ করছেন। বললেন, জীবনের অনেকটা মূল্যবান সময় ছাত্র ও যুব রাজনীতিতে ব্যয় করেছি।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নিবার্চন সিলেকশান কমিটি আমার যোগ্যতা আর গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি বিবেচনা করে আমার নমিনেটেড করবেন। অপরদিকে বর্তমান মেয়র জুয়েল আহমেদ বলেন, আমার কমলগঞ্জের অতীত ইতিহাস ঐতিহ্য বেশ আলোকিত। এখানে ২৭ কিসিমের ভাষাভাষির লোক বসবাস করেন।

১টি সৌহার্দ্যপূর্ন অবস্থানে স্থানীয় নিবাৃচনগুলো সমাপ্ত হয়েছে। বাড়তি কোনো ঝুট-ঝামেলা নেই্। আগামী পৌর নিবার্চনে সুষ্ঠ ও অবাধ হলে ইনশাল্লাহ আমিই পুনরায মেয়র হব। তিনি বলেন, পৌর ভবন নিমার্ন ছাড়াও আমি প্রতিনিয়ত ধলই নদীর পূর্বদিকে ৫টি ওয়ার্ড আর পশ্চিমে চারটি ওয়ার্ডে গিয়ে সাধারন মানুষের সেবা দিয়ে আসছি। জুয়েল আহমেদের বাবা আলহাজ্ব মোঃ বদরুদ্দিন পৌর আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক। আর তিনি যুবলীগের আহবায়ক। স্কুলে পড়ার সময়ে উপজেলা কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক নিবার্চিত হয়েছিলেন।

এরপর পৌর যুবলীগের সভাপতি আর যুগ্ম সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পারন করেন। রাজনৈতিক কারণে বিএনপি-জামাত জোটের আমলে অনেক হামলা- মামলার শিকার হন। তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ে আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যে এলাকার সার্বিক উন্নয়নের চেষ্টা করেছি। অনেক সমস্যা আছে, এর সমাধানও খুজে বের করবো আগামী দিনগুলোতে। ৪৬ বছরের তারুন্যের প্রতীক নিয়ে দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতি করছেন।

কমলগঞ্জ মূলত জামাত-বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হলেও বর্তমানে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাড়িয়েছে। এই পৌর নিবার্চনে স্থানীয় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প িরবহন নেতা হেলাল মিয়াকে আগলে রেখেছেন। বাকি দুজন জুয়েল ও আনোয়ার তারা রয়েছেন তাদের ইমেজের ওপরে। সমান সমান জনপ্রিয়তা রয়েই গেছে। এলাকার ২০% তরুন ও নবীন ভোটাররা আগামীতে দুজনের পিছনেই একাট্টা।

তারা বলেন, পলিটিকের ক্যারিয়ারে কারো কোনো বদনাম নাই। সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে আসছে। এবার চাইব মেয়র হয়ে কিছু একটা অবদান রাখতে। এখাানে সাড়ে ১৫ হাজার ভোটার আছেন। তাদের নাগরিক জীবনের চাহিদা পূরণে