ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০

করোনা থেকে বাঁচতে রাশিয়ার মসজিদে বিরামহীন কুরআন তেলাওয়াত শুরু

প্রকাশ: ২০২০-০৪-২১ ০০:৪২:৪১ || আপডেট: ২০২০-০৪-২৫ ১৪:০৮:৪৫

বিশ্বব্যাপী ১৩৩ দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাস। এবার করোনা থেকে বাঁচতে রাশিয়ার একটি মসজিদে বিরামহীন কুরআন তেলাওয়াত শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে বিরামহীন কুরআন তেলাওয়াতের এ আয়োজন।

আল-জামে গ্র্যান্ড মসজিদ। রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর প্রধান মসজিদ এটি। করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে আত্মরক্ষায় রাশিয়ার মুফতিদের সংগঠন মুফতিন কাউন্সিল অবিরাম কুরআন তেলাওয়াতের আয়োজন করেছে।

কাউন্সিলের পক্ষ থেকে রাশিয়ার মুসলমানদের আধ্যাত্মিক নেতা শায়খ রাবি আইনুদ্দিন জারিদাতুল উম্মাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রাণঘাতী মহামারি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব যেন না ঘটে এজন্য আমরা বিরতিহীন কুরআন তেলাওয়াতের আয়োজন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মহান আল্লাহর কাছে আরজ, তিনি যেন কুরআন তেলাওয়াতের ওসিলায় বিশ্বব্যাপী চলমান প্রাণঘাতী মহামারি করোনা থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করেন। কুরআন তেলাওয়াতের বিশেষ এ ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা এ মহামারি থেকে হেফাজত করবেন বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

মহামারি প্রাণঘাতী করোনা থেকে বাঁচতে ইসলাম দিয়েছে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা, নসিহত ও চিকিৎসা। ইসলামের এসব দিকনির্দেশনা, আমল ও নিয়ন্ত্রিত সুশৃঙ্খল জীবন-যাপনই হতে পারে করোনা থেকে মুক্তি লাভের উপায়।

যাদের বাচ্চা আছে, এই এক গেইমে আপনার বাচ্চার লেখাপড়া শুরু এবং শেষ হবে খারাপ গেইমের প্রতি আসক্তিও।

আরো পড়ুন: বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনা ভাইরাস নিয়ে আজহারীর গণসচেতনামূলক বার্তা !

করোনা ভাইরাস নিয়ে গণসচেতনামূলক একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও গবেষক মিজানুর রহমান আজহারী। এ ব্যাপারে কোরআন- হাদিসের আলোকে তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

গতরাতে দীর্ঘ ওই ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে ‘জলে-স্থলে যত দুর্যোগ, বিপর্যয় এবং মহামারী ধেয়ে আসছে- এগুলো আমাদের হাতের কামাই, এগুলো আমাদের উপার্জিত, আমাদের পাপের ফসল।’

তিনি বলেন, আমরা যদি নাফরমানি ছেড়ে দিয়ে এক আল্লাহর এবাদতে মগ্ন হতাম শরীয়ার নিয়ম-কানুন ইসলামকে যদি আমরা সেই অর্থে পালন করতাম তাহলে এই আযাব, এই গজব আমাদের ওপর আসতো না। দ্বিতীয় যে কারণটি রয়েছে তা সুনানে ইবনে মাজাহ-এর একটি হাদিস বর্ণনা করলে আপনারা বুঝতে পারবেন।

সেখানে মহানবী (সা.) বলেছেন, কোন সমাজে যখন অশ্লীলতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, তখন আল্লাহ তা’য়ালা ওই সমাজে মহামারী পাঠান, প্লেগ পাঠান। তিন নং কারণ হচ্ছে আল্লাহ তা’য়ালা মাঝে মাঝে পরীক্ষা করার জন্য এই সমস্ত মহামরী পাঠান যে, কে ধৈর্যধারণ করতে পারলো, কে ঈমানহারা হলো না,

কে ঈমানের পথে অবিচল থাকতে পারলো, এগুলো দেখার জন্য। সহীহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, মাঝে মাঝে আযাব হিসেবেও আল্লাহ তা’য়ালা এই মহামারী পাঠান। এরপর এ ধরণের দুর্যোগ বা মহামারীর আরও একটি বিশেষ কারণ হচ্ছে এটি কেয়ামতে একটি আলামতও হতে পারে।

আমরা কিছু হাদিসেও এরকম পেয়েছি যে, রাসূল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের আগ দিয়ে পৃথিবীব্যাপী এমন ভয়ঙ্কর এক মহামারী ঘটবে। কেয়ামতের যে ছোট ছোট আলামতগুলো আছে তার একটা হলো এরকম ভয়ঙ্কর মহামারী বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাবে।

বর্তমানে মালয়েশিয়া অবস্থানরত এই ইসলামি বক্তা বলেন, সহীহ বুখারীর এক বর্ণনায় আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন যে, কেয়ামতের আগে ৬টি জিনিস ঘটবেই ঘটবে। এই ৬টি বিষয় পৃথিবীব্যাপী না ঘটলে কেয়ামত সংঘটিত হবে না। তোমরা হাতে গুনে রাখো- এই ৬টি বিষয়ের অন্যতম একটি হলো মহামারী।

আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, ছাগলের পালের মধ্যে যেমনি মহামারী ছড়িয়ে পড়ে, তেমনি মানবমন্ডলীর মধ্যেও এই ভয়ঙ্কর মহামারী ছড়িয়ে পড়বে। আজহারী বলেন, একটা ভয়ঙ্কর সময় আমরা পার করছি, বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক। ভীত সন্ত্রস্ত, মানুষের মধ্যে হাহাকার। এই যে করোনা ভাইরাসের আক্রমণ, এই যে মাঝে মাঝে পৃথিবীতে মহামারিতে প্রাণনাশ ঘটে।

এরকম ক্রাইসিস মোমেন্টে আমাদের কি করা উচিত? এ সমস্ত ক্ষেত্রে শারীয়ার কি গাইডলাইন? এই মহামারীতে ইসলাম আমাদের কি দিকনির্দেশনা দেয়? আল্লাহর রাসুল (সা.) পক্ষ থেকে কোন গাইডলাইন আছে কিনা? এক্ষেত্রে আল্লাহর রাসুল (সা.) এর বিখ্যাত গাইডলাইন আমরা জানি যে,

কোন এলাকার লোকজন যদি মহামারী আক্রান্ত হন, তবে আল্লাহর রাসুল (সা.) ওই এলাকায় যেতে নিষেধ করেছেন। আবার যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরকে সেখান থেকে বের হতে নিষেধ করেছেন। এখানে সেফটি সিরিকিউরিটির ব্যাপারে এই কালজয়ী দিকনির্দেশনা দিয়েছেন রাসুল (সা.)।

এখন আমরা এই গাইডলাইন ফলো করতে দেখছি বিশ্বব্যাপী। ভিডিওতে তিনি এ মহামারী থেকে পরিত্রান পাওয়ার উপায়ও বলেছেন