ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০

ফটিকছড়ি: একটি সন্ত্রাসের জনপথ কি এখনো ? সুয়াবিলের নির্বাচন আবার প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে

প্রকাশ: ২০২০-০৯-২০ ১৭:০৩:৫২ || আপডেট: ২০২০-০৯-২০ ১৭:০৪:৩০

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)ঃ

করোনা ভাইরাস মহামাররি মধ্যেই এবার দেশজুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ডিসেম্বর থেকে কয়েক ধাপে দুই শতাধিক পৌরসভায় ভোটগ্রহণের আয়োজন চলছে।

এর পর আগামী বছরের মার্চে ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা চলছে। তবে চলতি বছর অক্টোবরের শেষ নাগাদ দেশে বেশকয়েকটি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর সেই আলোকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুয়াবিল ইউপি নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দুটি বলয় কাজ করছে। উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান একটি বলয় নিয়ন্ত্রন করছেন। যেহেতু আওয়ামী লীগের মূল স্রোত থেকে তিনি বিচ্ছিন্ন এবং বিদ্রোহীদেরকে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এবার আগের চেয়ারম্যান আবু তালেব শেষ অবধি মাঠে থাকতে চান। আর অপরদিকে দলীয়ভাবে নৌকার টিকেট চাইছেন জয়নাল আবেদীন নামক অপর আওয়ামী প্রার্থী।

যিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের পছন্দের লোক। তবে ৩য় মেয়াদে আবু তালেব তার এলাকার কার্যকলাপ শতভাগ সাফল্যের দাবিদার। এলাকাবাসীরা বলেন, যদি জনপ্রিয়তা নাই বা থাকবে- তাহলে আবু তালেব কি করে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন? এদিকে এলাকার ১৭ হাজার ভোটরদের মাঝে প্রায় ২০% তরুণ ও নবীনরা আগামীতে পুনরায় এই চেয়ারম্যানকে জয়ী করতে এখন থেকে তার পেছনে একাট্টা।

আবু তালেব একজন শিক্ষিত জনপ্রতিনিধি। পড়াশোনা করেছেন নাজিরহাট কলেজে। ওখান থেকে গ্রেজুয়েশন করেন। ছাত্রজীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন। বর্তমানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শে লালিত।

বর্তমানে জননেত্রী শেখ হাসিনা আমার নেত্রী। তাঁর নির্দেশনা এবং সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে কাজ করতে চাই। আবু তালেব বলেন, আমার সুয়াবিলে দীর্ঘদিন উন্নয়ন কর্মকান্ড করে শতভাগ বিদ্যুতায়ন, রাস্তাঘাট, ব্রীজ কার্লভাটসহ গ্রামীন অবকাঠামো এবং দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক সফলভাবে করেছি। এছাড়া সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সরকারি ত্রাণ ছাড়াও আমি ব্যক্তিগতভাবে ১ হাজার ব্যক্তিকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করেছি।

তিনি বলেন, ফটিকছড়িকে একসময় সন্ত্রাসের জনপথ বলা হতো। এখন আর সেটা নেই। তবে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরাই আবার সেই একই পথে হাটতে চান। মাদক, সন্ত্রাস আর জঙ্গীবাদ এই তিনটি হচ্ছে উন্নয়নের প্রধান বাধা। মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান জিরো টলারেন্স।

আগামীতে এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে জনগনের সহযোগিত পাবো বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, বর্তমান উপজেলা পরিষদের তৈয়ব চেয়ারম্যান এলাকার একটি বিশেষ মহলকে বিষিয়ে তুলছেন। ফলে সুয়াবিলের নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ থেকেই যাবে।