ঢাকা, আজ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

ফরিদপুরের চর ভদ্রাশন উপজেলা আবারও এমপি নিক্সনের নীল নকশা প্রভাবে উপনির্বাচন

প্রকাশ: ২০২০-০৯-১০ ১৩:৩২:২১ || আপডেট: ২০২০-০৯-১০ ১৩:৩২:২১

শান্তনু হাসান খানঃ

দেশে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ১৯ মার্চ থেকে শুরু করে কয়েক ধাপে শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন। তাতে সারা দেশে নৌকার প্রার্থীরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন। এদেও মধ্যে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন তাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সে আলোকে ফরিদপুর চর ভদ্রাশন উপজেলা পরিষদেও চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন। তার মৃত্যু জনিত কারণে উপনির্বাচন হওয়ার কথা ছিল চলতি বছর ২৯ মার্চ।

দেশে করোনা ভাইরাস প্রকোপ এর কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। এদিকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আলমগীর হোসেন জানান, খুব সহসা আগের তফসীলেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তা সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রার্থীরা জনসংযোগ করতে পারবেন।

চর ভদ্রাশনের বর্তমান সাংসদ মুজিবুর রহমান নিক্সন তিনি পরপর দুই বারের সাংসদ। এর আগে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের পর এ এলাকার প্রথম আওয়ামীলীগের সাংসদ ছিলেন এডভোকেট মোশারফ হোসেন। এরপর ১৯৭৩ সালে আব্দুস সালাম মিয়া। ১৯৭৫ এর বঙ্গবন্ধুর হত্যাকান্ডের পর এ এলাকায় বিএনপি গেড়েঁ বসেন।

আর তখনই চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ বিএনপির নেতৃত্ব দিতে শুরু করেন। সে প্রবাহটি এখনও বিরাজমান। তবে দুটি বলয় কাজ করে। এরশাদের আমলে প্রিন্সিপাল আজহারুল হক আর ১৯৯১ তে পূনরায় এডভোকেট মোশারফ হোসেন সাংসদ ছিলেন। ২০০১ এ তৎকালীন আওয়ামীলীগের পানি সম্পদ মন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক তার এলাকা ডামুড্ডা আর ভদ্রাশনের এমপি নির্বাচিত হন।

এরপর আকমল ইবনে ইউছুফ বিএনপির সাংসদ ছিলেন। ১/১১ তে কিছুদিন কাজী নিলুফা জাফর আর ২০১৪ তে মুজিবুর রহমান নিক্সন। বরাবর সেখানে এমপির প্রভাব থাকলেও ব্যাক্তি ইমেজ কাজ করে। আর তখন এবিএম বাদল আমীন উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

চর ভদ্রাশন উপজেলা মাত্র ৪টি ইউনিয়ন। ভোটার সংখ্যা প্রায় ৫৪ হাজার। দুটি ইউনিয়ন পদ্মানদী বেস্টিত। বলা যায় একটি পশ্চাদপদ জনপদ। এখন অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। এখানকার উপনির্বচনে ৬/৭ জন প্রার্থী। এর মাঝে আওয়ামীলীগের নৌকার টিকেটে হাফেজ মোঃ কাউছার আর বিএনপির বাদল আমীন। বাকীরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী।

এর মাঝে আনোয়ার আলী মোল্লার অবস্থান অনেকটা ভাল হলেও এমপি সাহেব দিপু খানকে পছন্দ করেন। এমপির মনোভাব গতবারের মত এবারও নৌকা ঠেকাও। অন্যদিকে খবির উদ্দিন শেখ ও মাসুদ এর অবস্থান ও খুব একটা খারাপনা। সাধারণ মানুষদের বিরুপ প্রতিক্রিয়া এ নির্বাচন নিয়ে এমপি মুজিবুর রহমান নিক্সন প্রচন্ড দাপটে আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে ৩ /৪ দিন এলাকায় চষে বেড়ান। বাকী দিনগুলো ঢাকায় থাকেন। প্রার্থীদের অভিযোগ ব্যাপক।

তারা লিখিত অভিযোগ জানালেও ফলাফল শূন্য।আর এমপি তথৈবচঃ। তার মানে আগের চাইতে এবার বেপরোয়া। আর অন্যদিকে বর্তমান জেলা প্রশাসক থানার ওসি ও নির্বাহী অফিসার এমপির বিরুদ্ধে টু শব্দও করেননা। তবে উপ নির্বাচন এখন থেকে নিরবে গঞ্জর আলীর পুত্র আনোয়ার মোল্লা নিরবে সমর্থন দেখালেও এমপি সাহেব নিরবে ওবায়দুর বারী দিপু খানকেই বেশী মাত্রায় সমর্তন দিয়ে যাচ্ছেন।

তবে প্রার্থীরা বলছেন, সুষ্ট ও অবাধ নির্বাচন হলে আমাকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবেনা। প্রতিপক্ষ যেই হোকনা কেন আমি বিপুল ভোটে জয়ী হতে পারবো ইনশাআল্লাহ। আর জয়ী হলে জন নেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের রোল মডেলে আমি একজন নগন্য কর্মী হিসেবে কাজ করব। আর চর ভদ্রাশনকে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, মাদক বিরোধী সকল কর্মকান্ড প্রতিরোধ করব জনগনকে সাথে নিয়ে। সবাই বলেন নির্বচিন সুষ্ট হোক। কারো দ্বারা প্রবাহিত হলে এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ থেকেই যাবে।