ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০

কুবিতে শরতের শুভ্রতা ছড়াচ্ছে কাশফুল

প্রকাশ: ২০২০-০৯-০৫ ০৭:৫১:০২ || আপডেট: ২০২০-০৯-০৫ ০৭:৫১:০২

কুবি প্রতিনিধিঃ

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে বইছে এখন শরৎকাল। এটি বাংলার তৃতীয় ঋতু। ছাতিম পাখিফুল, পান্থপাদপ, বকফুল, শেফালি, কলিয়েন্ড্রা, কাশফুলসহ রং বেরঙের ফুলের সমারোহ থাকলেও এই ঋতুতে মায়াবী কাশফুল মানুষকে আকৃষ্ট করে অনেক বেশি। অন্য ঋতুতে খালি মাঠে যেখানে আপনি ফিরে তাকাবার সুযোগ পাবেন না, শরতের মৃদু বাতাসে কাশফুলের উপচে পড়া যৌবন সেখানে মনের অজান্তেই আপনাকে প্রবল আকর্ষণ করবে।

লাল পাহাড়ের ক্যাম্পাস খ্যাত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ফুটেছে সারি সারি কাশফুল। শরতের পরিপূর্ণ রুপমাধুরদী মিশিয়ে যেন ক্যাম্পাসকে সাজিয়েছে নবরূপে। শহীদ মিনার, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের চারপাশ, কেন্দ্রীয় মসজিদের পেছনে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের পশ্চিমে সহ বিভিন্ন স্থানে দোল খাচ্ছে শুভ্র কাশফুল। বিকেলের এক চিলতি রোদ যখন সাদা ফুলেদের গায়ে পড়ে বড় আনমনা মানুষটিও তখন সেই সৌন্দর্যে নিজেকে হারিয়ে ফেলে। অথবা ঠিক দুপুরে যখন নীল আকাশ ভেঙে রোদ নেমে আসে তখন সাদা কাশফুলেদের দল ভাবুক হৃদয়ে দোলা দেয়। হয়ত কবিমনেও মৃদু কম্পন দিয়ে যায় হারানো কোন প্রেমিকার কাচের চুড়ির শব্দমালা।

এমন শত বিকেল কুবিয়ানদের মনে আঁচড় কেটে আছে। মন খারাপের বেলায় আড্ডায় মেতে উঠত এখানকার প্রেমিকেরা।

কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ঘরবন্দী। সেই পুরোনো দিনে স্মৃতি মনের কোটরে তাদের বার বার হাতছানি দেয়। এই বুঝি প্রাণের ক্যাম্পাসে ফিরতে পারলাম। প্রিয় আঙ্গিনাকে ঠিক কতটা অনুভব করছেন কুবিয়ানরা! সেই অনুভূতির কথা জানিয়ে ইংরেজি বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ইউসুফ ইমরান বলেন, ‘আজ শরতের আলোয় এইযে চেয়ে দেখি
মনে হয় এ যেন আমার প্রথম দেখা।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
কবিগুরু শরতের প্রেমে মুগ্ধ হয়েছেন বিশেষ করে শরতের কাশফুলের প্রতি ভালোবাসা তাঁর মন ব্যকুল হয়েছে। এমনি পাহাড় ঘেরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরুপ মোহনিয় শক্তি আছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রকৃতির নানা ধরনের উদ্ভিদ ও ভালোলাগার বিভিন্ন ধরনের ফুলের সমারোহ আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশেষ করে কাশফুল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতি প্রেমিদের নিকট ধরা দেয় ভিন্ন আঙ্গিকে। যেবার প্রথম কুবিতে এসেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া আগে তখনি কুবির কাশফুলের প্রেমে পড়েছিলাম। কবিগুরু শরৎকে ভিন্ন ভাবে আবিষ্কার করেছেন প্রথম দেখার মাধ্যমে। কিন্তু আমি শরৎকে অনেকবার দেখেছি কাশফুলের মাধ্যমে। চলমান মহামারির কারনে দীর্ঘ দিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শরতের এই শুন্যতা হৃদয়ে অনুভব করছি কাশফুলের মাধ্যমে। হয়তো এবারের কাশফুল ভিন্ন আঙ্গিকে ফুটেছে কারন করোনা প্রকৃতির পরিবেশকে নতুন ভাবে সাজিয়েছে। আবার কোন একদিন আবার দেখা হবে কাশফুলের ক্যাম্পাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে।’

এদিকে বাংলা ১৩ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী খুসবু মেহজাবিন বলেন,শরৎ সেজেছে কাশফুলে থরে বিথরে বালুচরে!
সাদা মেঘের শতদল উড়ছে অপরূপা নীলাম্বরে!
ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। দুই মাস পর পরই আমাদের দেশে ঋতুর পরিবর্তন হয়। এই ঋতু পরিবর্তনে এখন বইছে শরৎকাল। নাগরিক কোলাহল আর যাপিত জীবনের নানা ব্যস্ততার মাঝে চুপিচুপি আসে শরৎ। আর প্রকৃতিতে যখন শরৎকাল আসে তখন কাশফুলই জানিয়ে দেয় শরতের আগমনী বার্তা। শরতের বিকালে নীল আকাশের নিচে দোলা খায় শুভ্র কাশফুল। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা শরৎ ছাড়া আর কে ভাসাতে পারে?
তাই তো প্রতি বছরের মত এবারও লাল পাহাড়ের ক্যাম্পাস কুবিও সেজেছে শরতের শুভ্র ছোয়ায়। দোল খাচ্ছে, কাশফুল। তবে তা যেন এসেছে এবার ভিন্ন এক বাস্তবতায়। করোনা মহামারীর এই আপদকালীন সময়ে সাদা কাশফুলগুলো যেন নীরবেই দোল খেয়ে যাচ্ছে। বিরাজ করছে শুনশান নীরবতা। নেই কাশফুলকে ঘিরে আগের মত সেই রোমাঞ্চকর অনুভূতি।তবুও ভালো থেকো কুবি দেখা হবে সেই প্রাণপ্রিয় মুখরতায় খুব শিগগিরই!