ঢাকা, আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলফু ফকির’র চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন হ্যালো ছাত্রলীগ

প্রকাশ: ২০২০-০৮-৩১ ১৮:৩৫:২৮ || আপডেট: ২০২০-০৮-৩১ ১৮:৩৫:২৮

আবুল বাশার, দেবিদ্বার

যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আলফু ফকির’র চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন হ্যালো ছাত্রলীগ।তিনি বর্তমানে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলেও কোনধরনে চিকিৎসা সেবা পাননি বলে জানিয়েছেন। প্রয়োজনীয় ঔষধ, পরীক্ষা নিরীক্ষা সবই বাহির থেক করতে হচ্ছে। যে টুকু পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পেয়েছেন তা স্থানীয় প্রাইভেট হাসপাতাল ‘ইবনেসিন সিনা হসপিটালে’।

তার ক্ষোভ হাসপাতালে যারা তার সাথে অমানবিক আচরণ করছে তাদের বিচার চান।
তার করোনা নেই, তবুও হাসপাতালের কর্মচারীরা তাকে করোনা রোগী বলে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছেন। করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখিয়েও কোনধরনের সহযোগীতা পাননি।

ওই সংবাদটি প্রকাশের পর নজরে আসে হ্যালো ছাত্রলীগ টিম প্রধান ও কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আবু কাউছার অনিকের।

সংবাদটি দেখে তিনি তাৎক্ষনিক হ্যালো ছাত্রলীগের একটি টিম স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠালে ওরা আলফু ফকিরকে তার বেডে পায়নি।
উনি রাগে ক্ষোভে চলে গেছেন নিজ গ্রামের বাড়িতে।

এক্সরে করতে গেলেও এক্সরে না করিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা বসিয়ে রেখে এক পর্যায়ে টেকনেশিয়ান বলেন, পরে করা হবে কালকে করুন, আমি এখন খেতে যাব বলে চলে যান। বিষয়টি কর্মকর্তা কর্মকর্তাদের জানালে, টেকনিশিয়ানকে ফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, ওই মুক্তিযোদ্ধা চা খেতে চলে যাওয়ায় তার এক্সরে করতে পারি নাই।

মুক্তিযোদ্ধা আলফু ফকির এসব ঘটনার বর্ননা চিতোষ যেয়ে কান্না ভেঙ্গে পড়েন আরো জানান,পায়ে পানি জমার কারনে হাটতে পারিনা, হাসপাতালের কর্মচারীরা আমাকে উপর থেকে নিচে, পরীক্ষা- নিরীক্ষা, ঔষধ ক্রয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে উঠা নামা খুবই কষ্ট পাচ্ছি, আর হাসপাতাল কর্মচারীদের অবহেলা, তিরস্কারে মনে হয় এর চেয়ে মৃত্যুটা অনেক ভালো ছিল।

আলফু ফকির আরো বলেন দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে তিনি জানান, কুমিল্লা যেয়ে দেখি চিকিৎসার কোন উন্নতি হয় কি না।

এ ব্যপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহমেদ কবির’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, হাসপাতালে ঔষধ সংকট নেই, তাছাড়া আমাদের দরিদ্র রোগি কল্যাণ সমিতি আছে। চিকিৎসা সংকট থাকার কথা নয়, আর মুক্তিযোদ্ধার চিকিৎসায় গাফলতির বিষয়টি আমার জানা ছিলনা, এক্সরে করা হয়নি সেটা আমাকে জানিয়েছেন। বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিয়ে দেখতেছি।