ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০

মেঘনায় বালু মহল নিয়ে সিন্ডিকেট বাপক ফসলী জমি ও ঘরবাড়ী হুমকীর মুখে

প্রকাশ: ২০২০-০৮-৩০ ০৫:০৯:২৩ || আপডেট: ২০২০-০৮-৩০ ০৫:১৬:২২

শান্তনু হাসান খানঃ

প্রধানমন্ত্রী জণনেত্রী শেখ হাসিনা শুরু থেকেই দেশের পরিবেশ আর নদনদীর উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তার কর্মসূচী অব্যহত রেখেছেন। সে ধারাবাহিকতায় দেশে বিভিন্ন নদনদীর বালু উত্তোলনের জন্য মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা অব্যহত রয়েছে।

কিন্তু সে নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন কওে মুষ্টিমেয় স্বার্থনেশী মহল থোড়াই কেয়ার করছেন। এমনি একটি ঘটনার সূত্রপাত, কুমিল্লার মেঘনা নদীর বালুর মহলকে নিয়ে। নদীর সম্পদ আহরেণে সরকারী নির্দেশনা থাকলেও মেগলা উপজেলার জণপ্রতিনিধিরা তা মানছেন না।

পরিবেশ হুমকির মুখে ঠেলে দিয়ে রাতারাতি একটি সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে তারা নিজেদেও অবস্থান পরিবর্তন করছেন। মেঘনার বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রতন সিকদার তার নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এলাকার দুটি ইউনিয়নের ফসলী জমি সহ পরিবেশ বিঘ্ন ঘটাবার মত অবস্থার রুপ দিচ্ছেন। না মানছেন পরিবেশ, না মানছেন প্রশাসনের নির্দেশনা।

খেঁাজ নিয়ে জানা যায় মেঘনা উপজেলার চারী ভাঙা ইসলাম পুর, বড়কান্দা, সোনাপুর ও রামপুরের মেঘনা নদীর বালু মহলের যেমন পরিবেশ থাকা দরকার তা কেউই মানছেননা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, উপজেলার চেয়ারম্যান একটি সিন্ডিকেট নির্মান করে নিজের জন্য ৬০% আর অপর দুটি ইউনিয়নের জন্য ২০% করে শতভাগ অবৈধ কর্মকান্ড চালিয়ে আসছেন নির্বাচনের পরপরই।

তার নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও রয়েছে এলাকায় কারচুপির অভিযোগ। এদিকে মেঘনা নদীর ড্রেসিং করার নিয়ম রয়েছে মূল নদী থেকে ৪০০ মিটার গভীরে। কিন্তুু ইজারাদারদের ড্রেসিং চলে নদীর পাড় থেকে ১ কি.মি. ভিতওে, যা ফসলী জমি হুমকীর মূখে ঠেলে দিয়ে নদী ভাঙ্গনের হুমকী হয়ে দঁাড়িয়েছে। কেউ দেখার নেই, কেউ বলারও নেই।

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মত এলাকার লোকজন খুব কম। সবকিছু তিনি ম্যানেজ কওে চলতে শিখেছেন সেই ৫ম উপজেলা নির্বাচনের পর। তিনি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক। এদিকে আগষ্ট মাসের বিভিন্ন কর্মসূচীতে বেশ কয়েকটি আলোচনা সমাবেশে মেঘনা বালু উত্তোলনের বিষয়টি উঠে এসেছে।

একটি অভিযোগ পত্র লিখিত ভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে দেওয়া হয়েছে। ইউএনও বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর। ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে সাবেক উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম বলেন, উপজেলা আওয়ামীলীগকে সুসংগঠিত করতে এবং জণনেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তীশালী করতে আমাদের তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তবে বালু মহল নিয়ে জণগণের জীবন মাল এবং পরিবেশ বিঘ্ন ঘটাচ্ছেন তাদেও বিরুদ্ধে আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে। যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ চেয়ারম্যান রতন সিকদার বিষয়টি আমল না দিয়েই বলেন, নির্বাচনে যারা আমার বিরুধিতা করেছে আজ তারাই এ সমস্ত মিথ্যা বানোয়াট খবরগুলো গণমাধ্যমে প্রচার করছেন।

আমি কোন সিন্ডিকেট পরিচালনা করিনা। বালু মহলের মাধ্যমে পরিবেশ বিঘ্ন ঘটে সেটা আমিও জানি। আমি এর বিরুদ্ধে সব সময় আছি এবং থাকবো। এদিকে মেঘনার ৪টি বালু মহলের মধ্যে রামপ্রসাদ চর ও চালি ভাঙ্গা এই দুটি বালু মহল স্থগিতাদেশ রয়েছে। এখন চলছে মহিষাচর আর মেঘনার মূল নদীতে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিদিন বাদ প্রতিবাদ ঘটেই চলছে।