ঢাকা, আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

হাটহাজারীতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল

প্রকাশ: ২০২০-০৮-২০ ০৫:৩৯:০৬ || আপডেট: ২০২০-০৮-২০ ০৫:৩৯:০৬

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রাম যুগ্ম জেলা জজ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জোরপূর্বক জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। উপজেলার ৩ নং মির্জাপুর ইউনিয়ন চারিয়া বাজারের পশ্চিমে এই ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, খরিদ সূত্রে উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের চারিয়া মীর কাশেমপাড়া এলাকার মৃত হাজী আবদুস সোবাহানের পুত্র এএইচএম ফরিদ আহমদ, মো. আরেফ আলী, মো. এনামুল হক, মো. নাছিরউদ্দীন ও ফরিদ আহমদ এর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা খানম সহ এরা পাঁচজন চারিয়া মৌজার আরএস ৩৬৬ এবং ২২৭২ খতিয়ানের আরএস ৬৩৩৩/৬৩৪৬ দাগাদির সামিল বিএস ১৮১৫/১৮১৬ খতিয়ানের বিএস ৭৮৯৯/৭৯০৫ দাগাদির আন্দর (সতের গণ্ডা, তিন কড়া, দুই কন্ট, দেড় দন্ত) নাল জমি ও তদান্দর পাকা একতলা বিল্ডিং এর মালিক।


উক্ত জায়গার মালিক বর্তমানে এএইচএম ফরিদ আহমদ হার্ট স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং প্যারালাইসিস আক্রান্ত শয্যাশায়ী ও মো. এনামুল হক কিছুদিন আগে মৃত্যুবরণ করেন এবং মো. নাছির উদ্দিন প্রবাসে অবস্থান করায় একই এলাকার কালা গাজীর বাড়ির মৃত নুরুল্লাহর পুত্র মো. আব্দুর রহিম ও মো. করিম এবং সিকদার পাড়ার মৃত ফোরক আহাম্মদের পুত্র মো. ইউনুছ ও মো. নুরুল আবছারের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জায়গা জবরদখলের অভিযোগ ওঠে।

এরই সূত্র ধরে উক্ত জায়গার মালিক এএইচএম ফরিদ আহমদ গং চট্টগ্রাম যুগ্ম জেলা জজ ৩য় আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। যাহার অপর মামলা নং ৬৯৬/১০। উক্ত মামলায় বর্ণিত তফসিলোক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ওই আদালত নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করেন। আদালত কর্তৃক প্রদত্ত নিষেধাজ্ঞার আদেশটি প্রতিপালন করা দেশের সকল নাগরিকের জন্য আবশ্যক কর্তৃক হয়। কিন্তু ওই মামলার বিবাদীগণ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তফসিলোক্ত সম্পত্তি বেআইনিভাবে গ্রাস করার জন্য জোরপূর্বক জবরদখল করে যাচ্ছেন।

খরিদ সূত্রে জায়গার মালিক এএইচএম ফরিদ আহমদ এর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা খানম বলেন, চারিয়া বাজারের একশ’ গজ পশ্চিমে আমি ও আমার স্বামী এবং দেবরদের (সতের গ-া, তিন কড়া, দুই কন্ট, দেড় দন্ত) নাল জমি ও তদান্দর পাকা একতলা বিল্ডিং রয়েছে। আমার স্বামী বর্তমানে হার্ট স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এবং প্যারালাইসিস আক্রান্ত শয্যাশায়ী ও আমার দেবর মো. এনামুল হক কিছুদিন পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন এবং মো. নাছির উদ্দিন প্রবাসে অবস্থান করায় প্রতিপক্ষ মো. আব্দুর রহিম, মো. করিম, মো. ইউনুছ ও মো. নুরুল আবছার বেআইনিভাবে আমাদের জায়গায় কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জোরপূর্বক দখল করে গাড়ির গ্যারেজ দিয়ে গাড়ি পার্কিং করে রেখেছে। এই নিয়ে আমরা আদালত মামলা করলে মাননীয় আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জায়গাগুলো জোরপূর্বক জবরদখল করে রেখেছে প্রতিপক্ষগণ। এমনকি আমাদেরকে বেদখলে যাওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমাদেরকে দেখলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

এই নিয়ে জানতে চাইলে মো. আব্দুর রহিম ও মো. করিম বলেন, জায়গার মালিক আমরা। এগুলো আমাদের মৌরশী সম্পত্তি। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। মো. আব্দুর রহিম ও মো. করিম জায়গার প্রকৃত মালিক কিনা তারা এ রকম কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তদের পূর্ব-পুরুষেরা এই জায়গাগুলো এএইচএম ফরিদ আহমদ গং দের কাছে বিক্রি করে দেয়। বর্তমানে মো. আব্দুর রহিম, মো. করিম, মো. ইউনুছ ও মো. নুরুল আবছার বেআইনিভাবে ওই জায়গায় জোরপূর্বক জবরদখল করার জন্য তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।