ঢাকা, আজ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের একেক গর্তের গভীরতা তিন ফুটের বেশি!

প্রকাশ: ২০২০-০৮-১২ ১৫:৪০:৪৫ || আপডেট: ২০২০-০৮-১২ ১৫:৫৩:৫৪

মাসুদ আলমঃ

কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের পাঁচ কিলোমিটার যেতে লাগে প্রায় দেড় ঘন্টারও বেশি সময়। বেহাল এই সড়কে যাতায়াতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বৃষ্টিতে দুর্ভোগে পড়েছেন এ সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। বেশি ভয়ংকর কুমিল্লার বাগমারা বাজারের এক কিলোমিটার, লাকসামের মিশ্রি ও জংশনের দুই কিলোমিটার।

এছাড়া লাকসামের হাউজিং বাইপাসের দুই কিলোটার এলাকা। এখানে ভাঙ্গা সড়কে প্রতিনিয়ত যানবাহন আটকে যাচ্ছে। যানবাহন উল্টে যাচ্ছে। সড়কের একেক গর্তের গভীরতা তিন ফুটের বেশি। বৃষ্টির পানি জমে তা পুকুরে পরিণত হয়েছে। কাদা আর পানিতে থৈ- থৈ এই সড়কে পায়ে হাঁটার উপায় নেই। গর্তের কারণে গাড়ি চলছে ধীরগতিতে।

সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এছাড়া এই মহাসড়কের সোনাইমুড়ী চাষীর হাট, নাথেরপেটুয়া, সোনাইমুড়ি-চৌরাস্তায় পিচ ঢালাই সড়কের খোয়া উঠে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, লালমাই বাজারের দক্ষিণ অংশ থেকে গর্তে ভরা সড়ক শুরু হয়েছে। সড়কে এক হাত বা এক ফুট দূরে দূরে বড় বড় গর্ত। প্রতিটি গর্তের গভীরতা এক থেকে তিন ফুটের বেশি।

মাঝে অসংখ্য খানাখন্দে ভরা। চালকরা খুব ঝুঁকি নিয়ে আস্তে আস্তে গাড়ি চালিয়ে নিতে হচ্ছে। এই অবস্থা পাঁচ কিলোমিটার সড়ক জুঁড়ে। ভয়ঙ্কর এই সড়ক দিয়ে চলাচলে মুমূর্ষু রোগিরা মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে সাম্প্রতিক কোরবানির ঈদের আগেরদিন সড়কের বাগমারা বাজারে গভীর গর্তের মধ্যে নোয়াখালী গামী একটি বাস আটকে যায়। বাস গর্তে আটকের পর প্রায় তিন ঘন্টা যাবত দুই পাশের গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়েছে। তৈরি হয় তীব্র যানজট।

সূত্রমতে,এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, লক্ষীপুরের বিভিন্ন উপজেলার পণ্যবাহী গাড়ির চালক ও যাত্রীরা। অসংখ্য খানা-খন্দের পাশাপাশি বিজয়পুর, মনোহরগঞ্জের খিলাবাজার, বিপুলাসার ও নাথের পেটুয়া বাজার এলাকার রাস্তা সরু হওয়ায় প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। সড়কটির দু’পাশে পানি নিষ্কাশনে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই।
দৌলতগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, দৌলতগঞ্জ বাজারের হাউজিং বাইপাসের বেহাল অবস্থা।

রাস্তার বেহাল দশার কারণে এ বাজারের ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা ভোগান্তিতে পড়েছেন। এ সড়কটির দুরাবস্থার কারণে পণ্যবাহী যানবাহন চালকরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করেন।

কুমিল্লার চৌরঙ্গী মার্কেটের ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল নামে এই সড়কের এক নিয়মিত যাত্রী জানান, বেহাল দশার কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়ক দিয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সাপ্তাহে দুই থেকে তিন বার এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে খুব ঝুঁকি নিয়ে। গত দুই-আড়াই বছর এই দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। আমরা চাই খুব তাড়াতাড়ি এই দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে।

বাস চালক কামাল হোসেন বলেন, নোয়াখালী-কুমিল্লা সড়ক থেকে প্রত্যন্ত গ্রামের রাস্তা আরো ভালো। এ সড়কের ওপর দিয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। সড়কের গর্তে ঢেউ তুলে গাড়ি চালাই, সড়কে না পুকুরে গাড়ি চলে বুঝা যায় না!

সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোঃ আহাদ উল্লাহ বলেন, বর্তমানে রাস্তার অবস্থা খারাপ হলেও করোনার কারণে সংস্কার কাজ ঠিকভাবে করা যায়নি। সংস্কারের চেষ্টা করছি।