ঢাকা, আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে গুঞ্জন

প্রকাশ: ২০২০-০৭-২৬ ১৬:১৮:০০ || আপডেট: ২০২০-০৭-২৬ ১৬:১৮:০০

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন করা হবে এমন গুঞ্জন চলছে বেশ কয়েকদিন ধরেই। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের একটি সূত্র বলছে ঈদুল আজহার আগেই কমিটি গঠন করা হবে। তবে পূর্ণাঙ্গ নয় এবার ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বাক কমিটি গঠনের প্রস্তুতি চলছে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ছাত্রদলের সারা দেশের বিভিন্ন জেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয়সহ উপজেলাকে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তারই অংশ হিসেবে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।

কুবি ছাত্রদলের একাধিক নেতাও কমিটি গঠনের বিষয়টি জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, প্রথম কমিটি গঠন হওয়ার পর ৪ বছর কেটে গেলেও নতুন কমিটি গঠন করা হয়নি।সংগঠনটির শীর্ষ একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহসভাপতি সহ সিনিয়র নেতাদের ছাত্রত্ব না থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের সরাসরি যোগাযোগ নেই। ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

রেগুলার শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের কোন যোগাযোগ নেই,নেতারাও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। নতুন কমিটি ঘোষণা হলে সংগঠনটি কিছুটা চাঙ্গা হতে পারে।

এদিকে, নতুন কমিটিতে পদ পেতে কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন একাধিক নেতা। এরমধ্যে বর্তমান কমিটির অন্তত চারজন নেতা শীর্ষ পদের জন্য লবিং করছেন বলে জানা গেছে।

কিন্তু তাদের মধ্যে সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহসভাপতি কারই ছাত্রত্ব নেই এবং সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন চলতি বছরে বিয়েও করেছেন যা ছাত্রদলের নেতা নির্বাচনের ক্রাইটেরিয়ার বাহিরে।কেন্দ্রীয় সংসদ ঘোষিত নতুন যে সকল কমিটি হবে তা অবশ্যই অবিবাহিত এবং ছাত্র হতে হবে এমন বাধ্য বাধকতা রয়েছে।

শাখা ছাত্রদল সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণাঙ্গ কমিটি নয়, এবার আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হতে পারে। আর আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ দুই পদ আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদের জন্যই লবিং করছেন প্রার্থীরা।

শীর্ষ দুই পদের জন্য বর্তমান কমিটির চারজন নেতা কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করছেন। এদের মধ্যে আহ্বায়ক পদের জন্য বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন, সহ-সভাপতি গিয়াসউদ্দিন উনাা দুইজন বিশ্ববিদ্যালয় ২য় ব্যাচের ২০০৭-০৮শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল কিন্তু যথা সময়ে শিক্ষা জীবন শেষ না করতে পারায় ২০০৮-০৯ এবং০৯-১০ সেশনের সাথে শিক্ষা জীবন শেষ করেন।

পরবর্তীতে শিক্ষা জীবন সচল না রেখে রাজনীতিতে অনিয়মিত হয়ে যায় এবং নিজ এলাকায় স্থানান্তরিত হয়।কিন্তু কমিটির আলোচনা শুরু হওয়ায় এখন কমিটিতে যায়গা বাগিয়ে নিতে তৎপর। এদিকে সাংগঠনিক সম্পাদক- মোস্তাফিজুর রহমান শুভ ২০০৮-২০০৯ শেসনে ভর্তি হয়ে শিক্ষা জীবন শেষ করে পূনরায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে সুসংগঠিত করতে পূনরায় ভর্তি হয়ে নতুন শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ রেখে যাচ্ছেন এবং বিএনপির চেয়ার পারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রাহমানের সালাম জানিয়ে আসছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দিবস,সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেয্য দাবী এবং নবীনদের আগমনে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। সকল জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের সাথে যোগাযোগে রেখেছেন সবসময়।

আর সদস্য সচিব পদের জন্য এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান কমিটির প্রচার সম্পাদক আবুল বাশার ২০১২-২০১৩ শেসন। তিনিও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবী আদায়ে একত্রে কাজ করে গেছেন এবং শাখা ছাত্রলীগের হাতে কয়েকবার আহত ও নির্যাতিত হন।

শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতার সাথে কথা বলে জানা গেছে ২০১৪ নির্বাচনে’র আগে ও পরে অনেক নেতাই নিস্ক্রিয় হয়ে গেছে দল ক্ষমতায় না আসায় কিন্তু সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ জেল জুলুম, নির্যাতন,মামলা হামলা খেয়েও আমাদের উৎসাহ দিয়েছেন,বড় ভাইয়ের মত আগলে রেখেছেন,সময় পেলেই আমাদের কাছে ছুটে আসতেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাবী আদায়ে সোচ্চার ছিলেন,তাই অভিন্ন কুবির প্রথম বিরুধীতা করেন তিনি নিজেই,বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা বেগম খালেদা জিয়ার ভিত্তিপ্রস্তর ভেঙ্গে পেললে উনি সর্ব প্রথম এমন গৃনিত কাজের নিন্দা জানান এবং প্রশাসনকে আলটিমেটাম দেন, ইত্যাদি। সদস্য সচিব প্রার্থী আবুল বাশারও নিয়মিত কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন এবং তাদের যথাসাধ্য সহযোগিতা করেছেন,বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আওয়ামী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের রেশানলে থেকেও দলকে এগিয়ে নিতে যথারীতি কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সিনিয়র নেতাদের তেমন কোন ভুমিকা দেখা যায় নি।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী সমর্থকরা আশা করি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল এসব বিবেচনায় ত্যাগী,নির্যাতিত,ক্লিন ইমেজের হাতেই দায়িত্ব দেয়া হবে যেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলকে আর সুসংগঠিত করতে পারে।