ঢাকা, আজ রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০

নিহতের ছোট্ট মোবাইলটি ধরিয়ে হোটেল মিয়ামী’র কর্মচারীর খুনিদের

প্রকাশ: ২০২০-০৭-২৬ ১২:৪৪:৫৪ || আপডেট: ২০২০-০৭-২৬ ১২:৪৪:৫৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

খুনের প্রায় দু’মাস পর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অক্লান্ত চেষ্টা আর খুনিদের সামান্য ভুলেই ধরা পরলো খুনিরা। অপরাধীরা যতই দূর্ধর্ষ হোক, নিজের অজান্তেই কোন না কোন অালামত রেখে যায়। যেমনটা হলো কুমিল্লা অালেখারচর বিশ্বরোডের হোটেল মায়ামীর কর্মচারী সুমন জোবায়েরের খুনীদের ক্ষেত্রে।

প্রায় দুমাস আগে গত ২৯ রাতে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানাধীন আলেখারচর কোকা-কোলা কোম্পানী লিঃ ফ্যাক্টরীর দক্ষিণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী পূর্ব পাশে রাস্তার উপর অজ্ঞাতনামা এক যুবকের লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা জাতীয় সেবা ৯৯৯-এ কল দেয়।

পরবর্তীতে কোতয়ালী মডেল থানা ও সিআইডি পুলিশ কুমিল্লা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৯৯৯-এ কল দেয়া ঘটনার সত্যতা পেয়ে লাশ উদ্বার করে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে। জানা যায় অজ্ঞাতনামা যুবক সিলেট দৌয়ারা বাজার থানার তাজির উদ্দিনের ছেলে সুমন আহমেদ ওরফে জুবায়ের (৩২)।

নিহত জুবায়ের আলেখারচর মায়ামী হোটেলের কর্মচারী। নিহতের বাবা খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করলে মামলাটি পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে হস্তান্তর করে এবং মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার এলঅাইসি টিমের চৌকশ এস অাই পরিমল দাস।

তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে দীর্ঘ ২ মাস তথ্যপ্রযুক্তি ব্যাবহার করে ২৩ জুলাই ভিকটিম জুবায়েরের ব্যবহৃত মোবাইল ব্যবহার কারী শাকিলকে কালিকাপুর থেকে গ্রেফতার করে। পরে শাকিলের দেয়া তথ্যে নগরীর অাশ্রাফপুর হতে ব্রাহ্মণপাড়া সিদলাইয়ের অাবু জাহেরের ছেলে ইকবাল ও দেবিদ্বার মাশিগারা গ্রামের খোরশেদের ছেলে নূর অালমকে গ্রেফতার করে।

অাসামী ইকবাল অাদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী প্রদান করে। মামলা ও অাসামীদের জবানবন্দী সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই লকডাউনের পর পুনরায় কাজের উদ্দেশ্যে নিজ বাড়ি সুনামগঞ্জ হতে আলেখারচর মায়ামী হোটেলে আসে জুবায়ের। কাজ শেষ করে ঘটনাস্থলে এলে একদল ছিনতাইকারী তার গতিরোধ করে।

ছিনতাইকারীরা ভিকটিমের মোবাইল ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলে ভিকটিম সুমন আহমেদ জুবায়ের বাঁধা দিলে ছিনতাইকারীরা ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে এবং ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই সুমনের মৃত্যু হয়।

অাসামীগন যার যার মত চলে যায় এবং মোবাইল টি কালিকাপুরের শাকিলের কাছে বিক্রি করে, সেই মোবাইলের সূত্র ধরেই খুনিরা গ্রেফতার হয় ডিবির হাতে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিমল দাস জানান, মায়ামি হোটেল কর্মচারী খুনের ২ মাস পর ক্লু-লেস মামলাটি রহস্যের জট খুলেছে।

নিহতের মোবাইলের সূত্র ধরেই তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিহত জুবায়ের এর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে খুনের সাথে জড়িত ২ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই এবং একজন খুনের বিষয়টি স্বীকার করে অাদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছেম। এ মামলায় অাদালতের মাধ্যমে খুনের সাথে সম্পৃক্ত ২ জন ও মোবাইল ক্রয় কারী একজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।