ঢাকা, আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২০

চৌদ্দগ্রামে কিন্ডার গার্টেন শিক্ষকদের মানবেতর জীবন যাপন

প্রকাশ: ২০২০-০৭-০৮ ১৩:৪২:৫২ || আপডেট: ২০২০-০৭-০৮ ১৩:৪২:৫২

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামেও বন্ধ রয়েছে দুই শতাধিক কিন্ডার গার্টেন। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বেতন না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাঁরা।

প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও কলেজ শিক্ষকরা প্রতি মাসে নিয়মিত সরকারি বেতন পেলেও কিন্ডার গার্টেন শিক্ষকরা পাচ্ছে না কিছুই। বন্ধ রয়েছে তাদের টিউশনিও। ফলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষক ও শিক্ষিকাবৃন্দ।

এদিকে করোনা মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্থ কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আর্থিক অনুদান ও সহজশর্তে ঋণের দাবিতে দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচি পালন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

বুধবার বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে সামনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ মফিজুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক একেএম ইকরামুল হক ভূঁইয়া মিন্টু, এসোসিয়েশনের নেতা এম ইউসুফ মজুমদার, মোঃ সহিদ, মোঃ ওয়াসিম, শিক্ষক কুলছুমা বেগম, শহীদুল ইসলাম, শাহিনা বেগম, সজল কান্তি দেবনাথ, গিয়াস উদ্দিন, মোঃ মিজান, মোঃ মহিবুল্লাহ, খলিলুর রহমানসহ কিন্ডার গার্টেন স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ।

উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ মফিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক একেএম ইকরামুল হক ভুঁইয়া মিন্টু জানান, ‘চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার তের ইউনিয়নে ২০৬টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও মাদরাসা রয়েছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন শত শত শিক্ষক ও কর্মচারী। যেখানে রয়েছে হাজার হাজার শিক্ষার্থী।

যাদের বেতনেই এসব কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীদের জীবন চলে। কিন্তু করোনার কারণে গত ১৮ মার্চ হতে সকল কিন্ডার গার্টেন স্কুল বন্ধ রযেছে। এতে কোনো শিক্ষক ও কর্মচারীরা বেতন পাচ্ছে না। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে অনেক শিক্ষকের টিউশনি করারও সুযোগ পাচ্ছে না। ফলে কোনো ভাবেই তারা উপার্জন করতে পারছেন না।

এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কিন্ডার গার্টেন শিক্ষকদের অনুদান এবং শিক্ষা উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা, সহজ শর্তে ঋণ প্রদান প্রয়োজন। সহজ প্রক্রিয়ায় কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলোকে আপনার সরকারের নিবন্ধনে আওতায় নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। কিন্ডার গার্টেন স্কুল গুলোর সমস্যাকে জাতীয় সমস্যা হিসাবে নজর দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। প্রাথমিক শিক্ষার অবদানে কিন্ডার গার্টেন স্কুল গুলোকে শিক্ষার সকল পর্যায়ে গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষকরা জানান, শিক্ষকদের অর্থবিত্ত না থাকলেও সমাজে তারা শিক্ষক হিসেবেই সম্মানীয়। ফলে আমরা না পারি লাইনে দাঁড়িয়ে ত্রাণ নিতে, না পারি মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলতে। মানুষ গড়ার কারিগর বলা হলেও সংসারের ব্যয়ভার বহন করতে হিমশিম খাচ্ছি। লজ্জ্বায় কারও কাছে হাত পারি না ।

শিক্ষকদের কষ্ট লাগবে শিগগিরই প্রণোদনা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপু মণি, স্থানীয় সাংসদ মুজিবুল হকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানিয়েছেন অসহায় শিক্ষকরা।