ঢাকা, আজ রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০

মুরাদনগরে সাংবাদিক শরিফ চৌধুরীর উপর হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

প্রকাশ: ২০২০-০৭-০৬ ১৩:১৮:৪৭ || আপডেট: ২০২০-০৭-০৬ ১৩:১৮:৪৭

আবুল বাশার, মুরাদনগর

কুমিল্লার মুরাদনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক, “আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান” মুরাদনগর উপজেলা সাধারন সম্পাদক ও দৈনিক সমকাল পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি শরিফুল আলম চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের উপর দিনদুপুরে সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন দৈনিক কালের কন্ঠের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, মুরাদনগর উপজেলা দৈনিক আমাদের সময়ের প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান, দৈনিক কালের কন্ঠের প্রতিনিধি আজিজুর রহমান রনি, দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি আবুল কালাম আজাদ ও দৈনিক মানবকন্ঠের প্রতিনিধি মাহবুব আলম আরিফ প্রমুখ। মানববন্ধনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, নানান দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির সংবাদ প্রকাশের জের ধরে গত শনিবার দিনদুপুরে শরিফুল আলম চৌধুরীর বাড়িতে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে দুই হাত-পা ভেঙ্গে ফেলে দারোরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহাজান মিয়া ও তার দলবল। মাথায় গুরুতর ভাবে জখম করে। তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবা ও বৃদ্ধ মাকে কুপিয়ে আহত করে। একমাত্র বোনকেও শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। সাংবাদিক শরিফ চৌধুরীর অবস্থা আশংকাজনক। অবস্থা অবনতি হওয়ায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে সোমবার ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে।

ওই ঘটনায় বক্তারা স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার প্রতি অসন্তুষ জানিয়ে বলেন, দারোরা ইউপি চেয়ারম্যান শাহজাহানের নানা অনিয়ম- দূর্নীতি, সেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদ এবং সংবাদ প্রকাশ করায় দৈনিক সমকাল পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি শরীফুল ইসরাম চৌধূরীর উপর চেয়ারম্যান শাহজাহান ক্ষুব্ধ হয়। এরই মধ্যে শরীফুলের উপর হামলার একাধিকবার চেষ্টা করেছে। শরীফ প্রায় একমাস এলাকার বাহিরে মনবেতর অবস্থান করে গত সপ্তাহে ফিরে আসে। এরই মধ্যে তার বিরুদ্ধে মুরাদনগর থানায় ২টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। দু’টি মামলাতেই তাকে প্রধান আসামী করা হয়। এসময়ে চেয়ারম্যানের দূর্নীতির প্রতিবাদ করায় স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারন সম্পাদকের মাথা ফাটানো সহ নানা অপরাধ ও সন্ত্রাসীর ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা হলেও প্রশাসনের সামনে দিব্বী ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত শুক্রবার রাতে দনগর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সমকাল পত্রিকার স্থানীয় প্রতিনিধি শরিফুল আলম চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার টাইম লাইনে আশংকা প্রকাশ করে জানান, চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার বাড়ি রেকিং করছে। যে কোন সময় হামলা করতে পারে। এ বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ জানালেও প্রশাসন গুরুত্ব দেয়নি। একদিন পর অর্থাৎ গত শনিবার প্রকাশ্য দিবালোকে বার বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার হাত, পা ভেঙ্গে, পায়ের রগ কেটে এবং মাথা ফাটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তার বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা পিতা, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার স্বাক্ষী ও তার বৃদ্ধা মাতা পুত্রকে বাঁচাতে গেলে তাদেরও কুপিয়ে যখম করে। বার বোন এগিয়ে গেলে হায়ানারা তার উপরও ঝাপিয়ে পড়ে। পরে সে দৌড়ে প্বার্শবর্তী বাড়িতে যেয়ে আশ্রয় নেয়। সংবাদ পেয়ে পুলিশ সন্ত্রাসী শাহজাহান চেয়ারম্যানকে গ্রেফতার করে ওই দিনই মামলার দূর্বল আর্জি জামিন পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বক্তারা বলেন, আগামী ৭২ঘন্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেফতার না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ারও হুমকী দেন। শরীফুলে অবস্থা বর্তমানে অবনতির দিকে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে তাকে ৫ব্যাগ এ-বি পজেটিভ রক্ত দেয়া হয়েছে। তার আরো রক্তের প্রয়োজন।

ওই ঘটনায় “আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান” কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ¦ হুমায়ুন কবির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানান, একই সাাথে সন্ত্রাসীদের গটফাদার শাহজাহান চেয়ারম্যান সহ সকল অপরাধীদের গ্রেফতার পূর্বক আইনের আওতায় আনার দাবী জানান।

সাংবাদিক নেতারা বিভক্ত থাকা পেশাগত দায়িত্ব পালনকারী সাংবাদিকদের এক মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়ে বলেন, এ ঐক্যে যেন আর ফাটল না ধরে। আজ সময় এসেছে সাংবাদিকদের ঘুরে দাড়ানোর। সাংবাদিকদের মত-পথ রাজনৈতিক সমর্থন ভিন্ন থাকতে পারে, বহুধাবিভক্ত সাংবাদিক মহলকে রাজনৈতিক লেজুরবৃত্তি ছেড়েদিয়ে, বিভেদ ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র ‘আমরা সাংবাদিক’, আমরা জাতির বিবেক, অসহায় সুবিধা বঞ্চিত, নিপিড়িত নির্যাতিত মানুষের বন্ধু, এ একটি পরিচয় নিয়ে এক মঞ্চে, এক কাতারে এসে দাড়াতে হবে। আমাদের বিভক্তির কারনে আমরা আমাদের পরিবারের সহযোদ্ধা কলম সৈনিকদের হত্যা, হামলা- মামলা নির্যাতনের বিচার পাচ্ছি না।