ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০

শতবর্ষে পা দিচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২০২০-০৭-০১ ০৫:৫৩:৪১ || আপডেট: ২০২০-০৭-০১ ০৫:৫৩:৪১

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

আজ বুধবার দেশের উচ্চশিক্ষার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। শতবর্ষে পা দিতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এই প্রতিষ্ঠানটি। ১ জুলাই ১৯২১ সালে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা কালোত্তীর্ণ এই বিদ্যাপীঠের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তবে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা আর বর্ণিল আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের কথা থাকলেও করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা পালিত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস পালনের বিষয়ে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, করোনাভাইরাসের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বল্পপরিসরে দিবসটি উদ্যাপিত হবে। দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষ্যে সংক্ষিপ্ত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে : আজ সকাল সাড়ে ১০টায় নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন ওড়ানো এবং বেলা ১১টায় অধ্যাপক আবদুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনলাইন ভার্চুয়াল মিটিং প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় জাতীয় অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম সংযুক্ত হয়ে ‘শতবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়- প্রসঙ্গ : আন্দোলন ও সংগ্রাম’ শীর্ষক মূল বক্তব্য প্রদান করবেন। এই অনলাইন অনুষ্ঠানে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ, প্রাক্তন দুজন উপাচার্য, দুজন ডিন, দুজন প্রভোস্ট, একজন রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট, ঢাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ঢাবি শিক্ষক সমিতিসহ অন্যান্য সমিতির পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ সংযুক্ত হবেন। দিবসটি উপলক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, শিক্ষা ও গবেষণার বিস্তার, মুক্তচিন্তার উন্মেষ ও বিকাশ এবং সৃজনশীল কর্মকান্ডের মাধ্যমে নতুন ও মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

৩টি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৩টি আবাসিক হল নিয়ে ১৯২১ সালের পয়লা জুলাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২১ সালে আমাদের অস্তিত্বপ্রতিম এই প্রতিষ্ঠান শতবর্ষপূর্তি উদ্যাপন করবে। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীও একই বছর উদ্যাপিত হবে। উল্লেখ্য, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে স্বাধীন জাতিসত্তার বিকাশের লক্ষ্যে ১৯২১ সালের ১ জুলাই ছাত্রছাত্রীদের জন্য দ্বার খুলেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। মাত্র ৩টি অনুষদ, ১২টি বিভাগ, ৬০ জন শিক্ষক, ৮৪৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৩টি আবাসিক হল নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এতে ১৩টি অনুষদ, ১৩টি ইনস্টিটিউট, ৮৪টি বিভাগ, ৬০টি ব্যুরো ও গবেষণা কেন্দ্র এবং ছাত্র-ছাত্রীদের ১৯টি আবাসিক হল, ৪টি হোস্টেল ও ১৩৮টি উপাদানকল্প কলেজ ও ইনস্টিটিউট রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৪৬,১৫০ জন; পাঠদান ও গবেষণায় নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ২,০০৮ জন শিক্ষক।