ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

বাবা শুধু একটি সম্পর্কের নাম নয়, মায়াবী এক অনুভূতি

প্রকাশ: ২০২০-০৬-২১ ০৭:২২:০৪ || আপডেট: ২০২০-০৬-২১ ০৭:২২:০৪

আবুল বাশার,
বাবাকে নিয়ে আমাদের অনুভূতিগুলো সবসময়ই মনের গহীনে চাপা পড়ে থাকে। আমি কখনই তেমন ভালো লিখতে পারি না। কিন্তু বিশ্বাস করি বাবার মতো স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে অনুভূতি প্রকাশের জন্য লেখক সত্ত্বার প্রয়োজন নেই; মনের ভালোবাসাটাই যথেষ্ট।

বাবাদের প্রতি সন্তানদের ভালোবাসার চিরন্তন প্রকাশ সবসময়ই ঘটে থাকে আড়ালে-আবঢালে, নিরবে-অপ্রকাশিতভাবে। তারপরও আমরা এই পৃথিবীর বাসিন্দারা বছরের একটা দিনকে বাবার জন্য রেখে দিয়েছি বিশেষভাবে।

আজ সেই দিন, জুন মাসের ৩য় রোববার। আজ ২১ জুন, বিশ্ব বাবা দিবস। আজ বাবাকে মুখ ফুটে ভালোবাসি বলার দিন, যদিও লজ্জায় বলতে পারবোনা আজকেও! তবে অনেকে আবার সমালোচনা করবেন যে, বাবাকে স্মরণ করার জন্য শুধু একটি দিন কেন? অনেকে বলবেন এটা আমাদের সমাজের জন্য নয়। তাদেরকে বিনয়ের সাথে শুধু একটি কথাই বলবো, বিশেষ একটি দিনের কারণে একটু বেশী মাতামাতি অথবা আহ্লাদী প্রকাশ করলেতো কোন দোষ নেই। হাসিমুখে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করা প্রিয় বাবাদের একদিন আলাদাভাবেতো স্মরণ করাই যায়। কি বলেন? মনে রাখবেন পিতার বুকফাটা আর্তনাদ কিংবা বৃদ্ধ বয়সের কষ্ট না শোনার মতো কিছু সন্তানও আছে কিন্তু এদেশে।

বাবা শুধু একটি সম্পর্কের নাম নয়, বাবার শব্দটার সাথে জড়িয়ে আছে বিশালত্বের এক অদ্ভুত মায়াবী অনুভূতি। যখন বাবা কথাটি উচ্চারণ করি আমি নিশ্চিত তখন সঙ্গে সঙ্গে যেকোন বয়সী সন্তানের হৃদয়ে অবচেতন মনেই শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার এক অনুভূতি এমনিতেই জেগে উঠে। বাবারা আমার মতো সকল সন্তানের পথ প্রদর্শক।

পড়াশোনার ক্ষেত্রে আমার বাবা আমাকে সবসময়ই স্বাধীনতা দিয়েছেন, চাপিয়ে দেননি কিছু কখনো। কিন্তু গল্পটা শেয়ার করলাম কারণ আজকে আমার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার পিছনে ওই দিনের পথপ্রদর্শনটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যদি আমি পরামর্শ না নিতাম, তাহলে পরবর্তীতে ইঞ্জিনিয়ারিং পেশার প্রতি আমার ব্যাকুলতা বা নিজের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া হতোনা। তাই আমার মনে হয়, বাবারা এই পৃথিবীতে সূর্যের আলোর মত আলো দিয়ে আমাদেরকে ঘিরে রেখেছেন।

মানুষের কত রঙ্গিন স্মৃতি থাকে, শৈশব থাকে নানারকম বৈচিত্র্যতায় ভরপুর। এই শহরের কোটি মানুষের গল্প কোটিরকম৷ তারপরেও সবার জীবনেই বাবাকে নিয়ে নানা ধরণের গল্প থাকে। সেই রকমই একটি চিকেন বিরিয়ানির গল্প।

বাবাদের আমরা আব্বু,আব্বা,বাবা,পাপা কিংবা ডেডি যে নামেই ডাকিনা কেন! সব পিতাই তার সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ করেন, এটা ধ্রুব সত্য। বাবাদের ত্যাগ-তিতিক্ষা-স্নেহ অপ্রকাশিতই থেকে যায়। আমার আব্বাকে চিরকালই সাধারণ জীবন-যাপন করতে দেখে আসছি। যদিও প্রত্যেকের বাবাই সন্তানের কাছে নায়ক। সেরকমই একটি গল্প মনে হল লিখতে গিয়ে।

আজকের দিনে মনে পরছে আমার বাবাকে। গত ২০ বছর বাবা আমাদের মাঝে আর নেই। যদিও খুব অল্প সময় পেয়েছিলাম সত্য আর ন্যায়ের প্রতি অবিচল ব্যক্তিত্বকে। আমাকে উনি স্বপ্ন দেখাতেন সামনে এগিয়ে যাওয়ার। মহান রাব্বুল আলামীন যেনো জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন আমার বাবাকে সেই দোয়াই করি।

জ্বি, বাবারা এমনই হয়, পরম নির্ভরতার প্রতীক। তাদের বাহ্যিক রুপ ভিন্ন হলেও, অন্তঃস্থ রূপ একই চিহ্ন বহন করে সন্তানদের জন্য। এই যে বাবাদের দিন-রাত পরিশ্রম খাটুনি, এর সামান্যও নিজের জন্য নয়। এসব কিছু জীবনের সকল উত্তাপ থেকে পরিবারের সবাইকে বটগাছের ছায়ার মতো আগলে রাখার চেষ্টা।