ঢাকা, আজ বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০

“শুভ জন্মদিন” কুমিল্লার গর্ব বিশ্বসেরা অর্থমন্ত্রী লোটাস কামাল।

প্রকাশ: ২০২০-০৬-১৪ ২০:০২:৪৭ || আপডেট: ২০২০-০৬-১৪ ২০:৪৫:০৪

-মোঃনাছির আহাম্মেদ(লালমাই)
শুভ জন্মদিন আ হ ম মোস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৫ই জুন কুমিল্লা জেলার লালমাই উপজেলার দুতিয়াপুর গ্রামের হাজী বাবরু মিয়ার ঘর আলোকিত করে আশে এক আলোকিত শিশু তিনি আজকের বিশ্বসেরা অর্থমন্ত্রী।
বিশিষ্ট ক্রিকেটানুরাগী যিনি দু’দশকের অধিক আবাহনী ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। দেশের একজন খ্যাতনামা চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট আ হ ম মুস্তফা কামাল ১৯৪৭ সালের ১৫ জুন কুমিল্লা জেলার নবগঠিত লালমাই উপজেলা বাগমারা ইউনিয়নের দুতিয়াপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম বাবরু মিয়া, মা মরহুমা সায়রা বেগম। লোটাস কামাল স্থানীয় দত্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৬২ সালে এসএসসি, পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৬৪-১৯৬৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে বিকম (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন।

১৯৬৭-৬৮ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টেন্সি ও আইন বিভাগে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। লোটাস কামাল ১৯৭০ সালে তদানীন্তন পাকিস্তানে (পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তান) চার্টার্ড একাউনটেন্সি (সিএ) পরীক্ষায় মেধা তালিকায় সম্মিলিতভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেন।রাজনীতিতে তার হাতেখড়ি ছাত্রজীবন থেকেই। কলেজ জীবনের পুরো সময়ই তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান এবং ৭০’র ঐতিহাসিক নির্বাচনের সময় তিনি আওয়ামী লীগের একজন বিশিষ্ট সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি ১৯৯৬ সালে তৎকালীন কুমিল্লা-৯ (পরিবর্তিত হয়ে বর্তমানে কুমিল্লা-১০) নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এ সময় তিনি পাবলিক একাউন্টস কমিটির সদস্য, বিনিয়োগ বোডের সদস্য, প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, যাকাত বোডের সদস্য এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত আছেন। ২০০৬ সালের ১২ মে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

 বাংলাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ও ক্রিকেট সংগঠক। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। পূর্বে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। এছাড়াও আহম মোস্তফা কামাল ২০১৪-১৫ মেয়াদে আইসিসি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী দশম জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে ৩ জানুয়ারী ২০১৯ তারিখে একাদশ সংসদের সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শপথবাক্য পাঠ করেন।
লোটাস কামাল দত্তপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা, ১৯৬২ সালে বাগমারা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৬৪-১৯৬৭ সালে চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ থেকে বিকম (অনার্স) ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৬৭-৬৮ শিক্ষাবর্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একাউন্টেন্সি ও আইন বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৭০ সালে তদানীন্তন পুরো পাকিস্তানে চার্টার্ড একাউনটেন্সি(সিএ) পরীক্ষায় মেধা তালিকায় সম্মিলিতভাবে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
পেশায় চার্টার্ড একাউন্ট্যান্ট মোস্তফা কামাল এ পর্যন্ত তিনবার এমপি হিসেবে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৮ সালে চতুর্থ মেয়াদে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সদস্যরূপে কুমিল্লা-১০ সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত হন তিনি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কুমিল্লা জেলা (দক্ষিণ)-এর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্থ ও পরিকল্পনা সচিব পদে আসীন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সরকারের অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে সরকারের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপূর্বে ২০০৯ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
গত ত্রিশ বছর ধরে ক্রিকেটের সাথে সম্পৃক্ত থেকে এর উন্নয়নে বিভিন্ন দায়িত্বে অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০-এর দশকে লোটাস কামাল পেস বোলিং ক্রিকেট একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯১ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রথিতযশা ক্রিকেট ক্লাব আবাহনী লিমিটেডের সাবেক পরিচালক মোস্তফা কামাল ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্লাবগুলোর ক্রিকেট কমিটির সভাপতি ছিলেন। বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের পূর্বকালীন সময়ে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্তিতে নেতৃত্ব দেন তিনি। ২০১২-১৩ মৌসুমে ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে সকল খেলোয়াড়কে বিসিবি’র কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় নিয়ে আসেন।
আইসিসি’র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালনের পূর্বে তিনি সেপ্টেম্বর, ২০০৯ থেকে অক্টোবর, ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।এ দায়িত্ব পালনকালে ২০১২ – ২০১৪ মেয়াদে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন। আইসিসি’র অডিট কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ থেকে ২০১২ মেয়াদকালে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)’র সভাপতি ছিলেন তিনি।২৬ মে, ২০১৪ তারিখে আইসিসি’র ১১শ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। বিদায়ী সভাপতি নিউজিল্যান্ডের অ্যালান আইজ্যাকের স্থলাভিষিক্ত হন মোস্তফা কামাল।

২০১৫ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে আম্পায়ারিংয়ের মানের বিষয়ে তিনি সংক্ষুদ্ধ হন ও সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগের হুমকি দেন। এরপর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন যে, ভারতীয় দল খেলায় জয়লাভ করেছে কেননা আম্পায়ারিংয়ে ত্রুটি ছিল।এর পরপরই আইসিসি কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে এবং মোস্তফা কামালের মন্তব্যটি ভিত্তিহীন বলে জানায় ও ব্যক্তিগত আবেগ-অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মন্তব্য করে। আইসিসি’র প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন মনে করেন যে, অভিযোগটি ভিত্তিহীন ও আম্পায়ারদের ভুলের বিষয়টি অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ৫০% – ৫০% অনুপাতে থাকায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।

এরপর এপ্রিল ১, ২০১৫ তারিখে সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এছাড়াও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি হস্তান্তরে সভাপতিকে এড়িয়ে যাওয়ার ফলেই তিনি এর প্রতিবাদস্বরূপ পদত্যাগ করেছেন। তার পরিবর্তে বর্তমান সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন পাকিস্তানের সাবেক জনপ্রিয় ব্যাটিং তারকা জহির আব্বাস। তাকে ২৫ জুন, ২০১৫ তারিখে এ পদে মনোনয়ন দেয়া হয়।
আজকের এই জন্মদিনে  আ হ ম মোস্তফা কামাল মহোদয়ের জন্য রইল অনেক শুভ কামনা,আল্লাহ আপনাকে সুসাস্থ ও দীর্ঘায়ু দান করুন(আমিন)