ঢাকা, আজ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০

আদালতে মামলা থাকার পরও মুরাদনগরে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে সম্মানী ভাতা আত্মসাৎ

প্রকাশ: ২০২০-০৬-১২ ১১:৪২:২৫ || আপডেট: ২০২০-০৬-১২ ১১:৪২:২৫

আবুল বাশার, কুমিল্লা

প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর স্বাক্ষর জাল করে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে সম্মানী ভাতার প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যাংক থেকে তুলে আত্মসাৎ করেছে ওই মুক্তিযোদ্ধার প্রথম সংসারেের ছেলে মেয়েরা। সম্প্রতি মৃত মুক্তিযোদ্ধার হতদরিদ্র স্ত্রী সম্মানী ভাতা প্রাপ্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা অফিসে আবেদন করলে টাকা আত্মসাতের এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ফাঁস হয়।

জানা গেছে, জেলার মুরাদনগর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মির্জা রফিকুল ইসলাম ২০১৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারী মারা গেলে এবং তার প্রথম স্ত্রীও তার মৃত্যুর আগেই মারা যাওয়ায় দ্বিতীয় স্ত্রী জোসনা বেগম বিধি অনুযায়ী ভাতা উত্তোলন করার কথা। স্বামীর মৃত্যুর পর অভাবের সংসারে জোসনা বেগম অসুস্থ হয়ে পড়লে জোসনা বেগমের সৎ ছেলে একই গ্রামের মির্জা আছাদুজ্জামান আমিন ও মির্জা মোখলেছুর রহমান শামিম প্রতারনা করে কৌশলে স্বামীর ওয়ারিশ সম্পত্তি হতে বঞ্চিত করার হীন উদ্দেশে তার স্বামী মুক্তিযোদ্ধা মির্জা রফিকুল ইসলাম মারা যাওয়ার ৭ দিন পর একটি ভূয়া জাল তালাকনামা তৈরি করে তাকে বেধরক মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে সম্মানী ভাতার চেকটি জোর পূর্বক নিয়ে নেয়। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে জানিয়ে কোন প্রতিকার না পেয়ে গত ২০১৯ সালের ১৩ মে কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়্যাল ম্যাজিস্ট্রেট ৮ নম্বর আমলী আদালতে মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী জোসনা বেগম বাদী হয়ে উপজেলার টনকী গ্রামের কাজী ও নিকাহ রেজিস্টার কাজী আলমগীর হোসেনসহ আরো ৫ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় জেলা গোয়েন্দা বিভাগ ডিবি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় আদালত আসামীদেরকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে আসামীরা জামিনে বের হয়ে প্রকাশ্যে জোসনা বেগমকে প্রাননাশের হুমকি ধমকি দিয়ৈ এলাকাছাড়া করে আদালতে মামলা নিস্পত্তি না হওয়ার আগেই কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে গত ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাস থেকে এ যাবত সমস্ত ভাতা তুলে নিয়ে গেছেন বলে জানান মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী জোসনা বেগম। সরকার ২০১৩ সালে নতুন করে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বিতরণ নীতিমালা জারি করেন। ওই নীতিমালায় মুক্তিযোদ্ধা ও তার স্ত্রীর মৃত্যুর পর সন্তানরা ভাতা পাবেন। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হলে তারা গত ১০ জুন স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে খোঁজ নিতে গেলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী জোসনা বেগম তার স্বামীর মৃত্যু হওয়ায় তাকে ভাতার টাকা দেয়ার জন্য চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারী মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরারবর একটি আবেদন করেন। আদালতে মামলা ও উপজেলা প্রশাসনকে লিখিক ভাবে জানানোর পরও তা সংশ্লিষ্ট বিভাগকে না জানানোয় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দায়িত্বরত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে শুক্রবার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা মির্জা রফিকুল ইসলামের স্ত্রী জোসনা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, আমার স্বামীর মৃত্যুর ৭ দিন পর আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করে সহায় সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে আমার সৎ ছেলেমেয়েরা আমাকে আমার স্বামীর ভিটা হতে উচ্ছেদ করে তাড়িয়ে দেয়। তিনি আরো জানান, আমার স্বামী অসুস্থ থাকায় ছেলেমেয়েদের এরকম আচরন করতে পারে টের পাওয়ায় তিনি জীবিত থাকাকালীনই আমার নামে আমার স্বামী প্রাপ্যতা অনুযায়ী মুরাদনগর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের মাধ্যমে সব কিছু দালিলিকভাবে রেজিষ্ট্রি করে দিয়ে যায়। আমি বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সহকারী কমান্ডার আবদুল আলীম বলেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিসকে ম্যানেজ করেই মৃত মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রীর ভাতা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে তার সৎ ছেলে মেয়েরা।

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কবির আহম্মেদ বলেন, একাউন্ট নাম্বার উল্লেখ করে ওই মহিলাকে একটি আবেদন দিতে বলেছিলাম। সে তা করেনি, তাই হয়তো ভাতা উত্তোলন করে নিয়ে গেছে।

মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অভিষেক দাস বলেন, আজতো ছুটির দিন অফিস খোলার পর আমি তা জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।