ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০

দেবিদ্বারে ত্রাণের বিষয়ে অভিযোগ করায়, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যুবককে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৬ ০৭:৫২:৫৩ || আপডেট: ২০২০-০৫-২৬ ০৭:৫২:৫৩

আবুল বাশার,

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লা দেবিদ্বারে অসচ্ছলদের জন্য সরকারের দেওয়া খাদ্য সহায়তা নিয়ে অভিযোগ করায় যুবককে মারধর করেছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান। উপজেলার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের গুনাইঘর গ্রামে ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

হামলার শিকার ওই যুবক দেবিদ্বার গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ছেপাড়া গ্রামের হাজী আবদুল কুদ্দুস সরকারের ছেলে রাকিব বিন কুদ্দুস। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিচার চাওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে।

রাকিব বিন কুদ্দুস জানান, চলমান করোনা দুর্যোগে গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের ছেপাড়া গ্রামের ২নং ওয়ার্ডের কোনো অসচ্ছল পরিবার এ পর্যন্ত সরকারি কোনো খাদ্য সহায়তা পায়নি। যে খাদ্য সামগ্রী পেয়েছেন সেগুলো স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত খাদ্য সহায়তা।

রবিবার বিকেলে দেবিদ্বার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এই ধরনের অভিযোগ করলে তিনি জানান, উপজেলার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ১৩০ জন এর বেশি মানুষকে সরকারি খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এরপর তিনি অভিযোগগুলো শুনে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল জব্বর মেম্বারের কাছে পাঠান।
অভিযোগে রাকিব বিন কুদ্দুস আরও জানান, উপজেলা থেকে ছেপাড়া যাওয়ার পথে গুনাইঘর ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের অস্থায়ী কার্যালয়ে খাদ্য সহায়তা ছাড়াও মসজিদে অর্থ বরাদ্দের তালিকায় না থাকার বিষয়ে কথা বলতে যাই। চেয়ারম্যানকে জানাই উপজেলায় মসজিদের তালিকায় আমাদের গ্রামের মসজিদের নাম নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি বলেছেন আপনার মাধ্যমে একটি আবেদন করার জন্য। কিভাবে করবো আপনি আমাকে একটু বলেন।

এর মধ্যে মেম্বার আবদুর জব্বর চেয়ারম্যানকে কল দেয়। বলেন, কুদ্দুস ভাইয়ের ছেলে রাকিব উপজেলায় গিয়ে ইউএনও এর কাছে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। এরপর ইউএনও ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে ত্রাণের বিষয়ে কৈফিয়ত জানতে চান। তার সাথে কথা শেষ করে চেয়ারম্যান চোর বলে আমার উপর হামলা করে। লাঠি দিয়ে হাতে, পিঠে, পায়ে আঘাতে জখম ও লাঞ্ছিত করে।
ত্রাণ সহায়তার অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার আবদুর জব্বর জানান, আমার এলাকায় সরকারি ত্রাণ সহায়তায় কোনো অসচ্ছল ব্যক্তি বাদ পড়েনি। নির্বাহী কর্মকর্তা আমার কাছে সরকারি ত্রাণ সহায়তা বিতরণের বিষয়টি জানতে চেয়েছেন। আমি ইউএনও কে বলেছি আমার ছেপাড়া ২ নং ওয়ার্ডে চার ধাপে অসচ্ছল ও গরিবদের তালিকা করে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছি। হয়তো ভুল ক্রমে দুই তিনজন বাদ পড়তে পারে। তাদেরকেও দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

অসচ্ছলদের খাদ্য সহায়তা এবং তালিকা থেকে মসজিদের নাম বাদ দেয়ার বিষয়ে অভিযোগ করা যুবককে মারধরের বিষয়ে গুনাইঘর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম জানান, আমার অফিসের সামনে এসে মিথ্যা অভিযোগ করায় মেম্বারের লোকজন ওই যুবককে মারধর করেছে বলে শুনেছি। তখন আমি আমার অফিসের ভেতরে ছিলাম। আমার ছেলেরা ওই সময় কে-কোথায় ছিল সেটা আমি জানি না।

এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।