ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

কুমিল্লার ৭ কলেজ শিক্ষার্থী ১৫ দিন ধরে নিখোঁজ

প্রকাশ: ২০২২-০৯-০৬ ১৫:৩৪:৪৬ || আপডেট: ২০২২-০৯-০৬ ১৫:৩৪:৪৬

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গত ২৩ আগস্ট কোচিংয়ে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে যায় কুমিল্লার ৭ কলেজ শিক্ষার্থী। যাওয়ার সময় তেমন টাকা পয়সা, মোবাইল ফোন কিংবা পোষাক নেয়নি তারা। নিখোঁজ হওয়া প্রত্যেকেই পরস্পরের পরিচিত। তাদের সবার বয়সই ১৭ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তারা কুমিল্লার বিভিন্ন কলেজে পড়ে।ইতিমধ্যে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় অভিভাবকরা জিডি করেছেন।

অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পড়াশুনার বাইরে অন্য কোন বিষয়ের প্রতি কখনো তারা সন্তানদের আগ্রহ দেখেনি। কলেজ, কোচিং এর বাহিরে যে সময়টি পেত বাসায় বসে তা বই পুস্তক কিংবা মোবাইল ফোনে সময় কাটাতো। ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিজ নিজ সন্তানদের কোন শত্রুও নেই বলে অভিভাবকরা জানান।

নিখোঁজ হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের চলতি বছর এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ইমরান বিন রহমান(১৭), একই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সামি (১৮), কুমিল্লা সরকারি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী, হাসিবুল ইসলাম(১৮), একই কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহাল(১৭), ভিক্টোরিয়া কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ইমতিয়াজ আহমেদ রিফাত(১৯), একই কলেজের অনার্স (৩য়) বর্ষের আমিনুল ইসলাম আলামিন(২৩) ও ঢাকা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স কম্পিউটার সায়েন্স সম্পন্ন করা নিলয়(২৫)।

কুমিল্লা নগরীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুজিবুর রহমানের ছেলে ইমরান বিন রহমান। সে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে চলতি বছর এইচ এস সি পরীক্ষার্থী।

মজিবুর রহমান তার ছেলের সম্পর্কে মঙ্গলবার বিকেলে জানান, ছেলে পড়াশোনা, কলেজ, কোচিং সেন্টার আর মসজিদ ছাড়া কোথায়ও যায় না। ২৩ আগস্ট দুপুরে আমাকে বলে, আব্বু, আমি আজ কোচিং থেকে রেলস্টেশন মসজিদে তাবলীগের বয়ান শুনতে যাব। ফিরতে দেরি হবে, আম্মুকে বলো না। ঐ দিন রাতে বাসায় না ফেরার কারণে সারা রাত খোঁজাখুঁজি করি। পরদিন কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় জিডি করি। পরে র‌্যাব কুমিল্লাকে অবহিত করি।
কুমিল্লা সরকারি কলেজের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী নিহালের বাবা সাইফুল ইসলামসহ নিখোঁজ হওয়া অন্যান্য অভিভাবকরাও প্রায় একই ধরনের কথা বলেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো.আফজাল হোসেন বলেন, আমরা কয়েকজন শিক্ষার্থী মিসিংয়ের জিডি হাতে পেয়েছি। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। তারা দলবদ্ধ ভাবে কোথাও গিয়েছে, নাকি অন্য কোন বিষয় তা তদন্তের পর বলতে পারবো।

এ বিষয়ে র‌্যাব ১১ সিপিসি ২ কুমিল্লার অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব বলেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। আশা করি দ্রুতই আপনাদের অগ্রগতি জানাতে পারব।