ঢাকা, আজ রোববার, ২০ জুন ২০২১

মুনিয়ার পর এবার রাজধানীতে কুমিল্লার নারী চিকিৎসককে হত্যা

প্রকাশ: ২০২১-০৫-৩১ ১৫:১৩:৫০ || আপডেট: ২০২১-০৫-৩১ ১৫:১৩:৫০

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

মুনিয়ার পর এবার নারী চিকিসৎককে হত্যা
কুমিল্লার মেয়ে মোসারাত জাহান মুনিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর মাস খানেক পর ফের রাজধানীর কলাবাগানের বাসায় নিষ্ঠুরভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন সাবিরা রহমান লিপি (৪৭) নামের এক চিকিৎসক। হত্যাকাণ্ডের শিকার এই নারী চিকিৎসকের বাড়িও কুমিল্লায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তিনি ধানমন্ডির গ্রীণ লাইফ হাসপাতালের রেডিওলজিস্ট বিভাগে কর্মরত ছিলেন। এদিকে সাবিরার লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্যের। প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এটি ঠান্ডা মাথার খুন নাকি অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যু? পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বলছে, অগ্নিকাণ্ড নয়, এটি হত্যাকাণ্ড। যা রোববার মধ্যরাতের কোনো এক সময় সংঘটিত হয়েছে। খবর পেয়ে সোমবার ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট।

তারা মরদেহ থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন। ক্রাইম সিন জানায়, সাবিরাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা (ব্রুটালি কিলড) করা হয়েছে। তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের পর বিছানায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দাহ্য পদার্থ না থাকায় আগুন তেমন ছড়ায়নি। তবে, সাবিরার শরীরের কিছু অংশ এতে দগ্ধ হয়।
সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের ইন্সপেক্টর শেখ রাসেল কবির বলেন, ‘ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাবিরার শ্বাসনালী কেটে ফেলা হয়েছে। তার দেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও পোড়ার ক্ষত আছে। আমরা আপাতত নিশ্চিত হয়েছি, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।

আলামত দেখে মনে হয়েছে, মধ্যরাতের যেকোনো সময় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে।’ এর আগে, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বাসায় এসে আগুনের ধোঁয়া দেখতে পান। নিহত চিকিৎসকের শরীরের কিছু অংশ দগ্ধ ছিল বলে জানান তারা। মরদেহ উদ্ধারের পর পিঠে দুটি ও গলায় একটি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পায় পুলিশ।

রমনা জোনের ডিবির উপ-কমিশনার (ডিসি) আজিমুল হক বলেন, ‘ডা. সাবিরা কলাবাগানের ৫০/১ ফার্স্ট লেনের বাড়ির একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। তিনি ফ্ল্যাটের দুটি রুম এক তরুণীকে সাবলেট হিসেবে ভাড়া দেন। সকালে সাবলেটে থাকা তরুণী হাঁটতে বের হয়েছিলেন। হেঁটে আসার পর তিনি বাসায় ফিরে দেখেন চিকিৎসক সাবিরার রুম বন্ধ। রুমের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। পরে তিনি দারোয়ানকে ডেকে চাবি এনে রুমের তালা খুলে দেখতে পান চিকিৎসক সাবিরা ফ্লোরে পড়ে আছেন। সবাই ভেবেছিলেন, চিকিৎসক আগুনে পুড়ে মারা গেছেন। পরে ডিবি পুলিশ এসে তার গলায় একটি ও পিঠে দুটি আঘাতের চিহ্ন পায়।’ ‘আমরা তদন্ত করছি। আশা করছি, দ্রুত রহস্য উদঘাটন করতে পারব’ বলেন ডিসি আজিমুল হক।

এদিকে সাবিরা হত্যকাণ্ডের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার জনকে হেফাজতে নিয়েছে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তারা হলেন- সাবলেটে থাকা শিক্ষার্থী, তার এক বন্ধু, গৃহপরিচারিকা ও বাড়ির দারোয়ান রমজান।
জাকিয়া খন্দকার মমি নামে সাবিরার এক আত্মীয় বলেন, ‘সে (সাবিরা) আমার মেজো খালার মেয়ে। বয়স ৪৭ এর মতো। গ্রিন লাইফ হাসপাতালে বেশ কয়েক বছর ধরে চাকরি করছেন। ফ্লাটে উনি আর ওনার মেয়ে থাকতো। তার স্বামী এক্স ব্যাংকার, ন্যাশনাল ব্যাংকে ছিলেন। আজকে সাবিরার অফিস ছিল এবং বেশ কয়েকজনের সাথে বাইরে যাওয়ার কথা ছিল। মেয়ে গতকাল নানুর বাসায় গিয়েছিলেন। ছেলে নানুর বাসায় থাকে। আমার মনে হয় আশেপাশের কেউ শত্রুতার জের ধরে তাকে হত্যা করেছে।’

সাবিরার দ্বিতীয় স্বামী, শামসুদ্দীন আজাদ। তার আগের স্বামী সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। দুই ছেলে-মেয়ের মধ্যে ছেলে আগের স্বামীর ঘরের। সাবিরার স্বামী সামসুদ্দীন আজাদ বলেন, ‘আমি সকাল এগারোটার দিকে খবর পেয়ে এখানে আসি। পুলিশ প্রথমে ভেতরে ঢুকতে দেয় নাই। পরে ভেতরে ঢুকে দেখি রক্তাক্ত লাশ। আমি কাউকে সন্দেহ করতে পারছি না। পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে আমি এর সঠিক বিচার চাই।’
রমনা জোনের ডিবির উপ-কমিশনার আজিমুল হক আরও জানান, চিকিৎসক সাবিরার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা বুড়িচংয়ে। রাজধানীর গ্রীণ লাইফ হাসপাতালের রেডিওলজিস্টের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। সুরতহাল করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসক সাবিরা রহমানের শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত পেয়েছেন। তার মুখমণ্ডলও ঝলসানো। পুলিশের ধারণা, হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।