ঢাকা, আজ রোববার, ২০ জুন ২০২১

ক্লিনিকের মালিক মিলে উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে নবজাতকে বিক্রি অভিযোগ আটক ৫

প্রকাশ: ২০২১-০৫-২৪ ১৭:২৮:৫৮ || আপডেট: ২০২১-০৫-২৪ ১৭:২৮:৫৮

সাভার প্রতিনিধিঃ

আশুলিয়ায় দম্পতিকে ভুল বুঝিয়ে কৌশলে নবজাতক বিক্রির অভিযোগে ডাক্তারসহ একটি ক্লিনিকের ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই সাথে বিক্রিয়কৃত নবজাতকে উদ্ধার ও ক্রয়কারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ভুক্তভোগী দম্পতিরা হলেন- রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার সূর্যপাড়া গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে আবুল কালাম আজাদ (২৮) ও তার স্ত্রী শিখা বেগম (২৬)।

নবজাতকের পিতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত ১৭ মে আমার স্ত্রীর পেটে ব্যাথা নিয়ে ওই ক্লিনিকে গেলে ডাক্তার অল্ট্রাস্নোগ্রামের পরামর্শ দেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী আল্ট্রা করানো হয়। পরে রিপোর্ট দেখে ডাক্তার বলেন, নবজাতক উল্টো হয়ে আছে, এতে মা ও শিশুর জীবন সঙ্কটাপন্ন, দ্রæত ডেলিভারি করাতে হবে।

রবিবার (২৩ মে) দিবাগত রাতে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকার নিউ মডার্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ৪ জন ও সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাহপাড়া থেকে ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর থানার খোসগড় গ্রামের আব্দুল আজিজ খানের ছেলে ক্লিনিকের মালিক ও ডাক্তার মোস্তফা কামাল (৩৯), টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর থানার হাতরুড়া গ্রামের আব্দুল হামিদ মাস্টারের ছেলে আবু হানিফ (৪০), নওগাঁ জেলার মান্দা থানার বৈলশিং গ্রামের মৃত কুতুবউদ্দিন প্রামানিকের ছেলে হানিফ (৪২), শরিয়তপুর জেলার সখিপুর থানার কাঁচিকাটা গ্রামের জালাল উদ্দীনের ছেলে সুমন মিয়া (২৯) ও সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাহপাড়া থানার নতুন দাতপুর গ্রামের মৃত বরাত আলীর ছেলে অয়েজুল। অয়েজুলকে নবজাতক ক্রয়ের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ক্লিনিক কতৃপক্ষের প্রস্তাবে রাজি হয়ে ঘোষবাগ এলাকার একটি বাড়িতে আমার স্ত্রীকে নিয়ে যাই। পরে সে বাড়িতে আমার স্ত্রীর ডেলিভারি হয় এবং আমার একটি কন্যা সন্তান হয়। কিন্তু পরবর্তীতে ডাক্তার এসে বলেন, আমাদের মেয়ে খুব বেশি হলে ৩ দিন বাঁচতে পারে। ১৫ দিন বাঁচাতে হলে অনেক টাকার খরচ করতে হবে। এ ধরণের ভুলভাল বুঝিয়ে আমার স্ত্রীর কাছ থেকে মেয়েকে নিয়ে যায়। পরে সন্তান ফেরত চাইলে তারা ৫৫ হাজার টাকা দাবি করেন।

নবজাতকের মা শিখা খাতুন বলেন, আমি একটি পোশাক কারখানার হেলপার হিসাবে কাজ করি। আমি তো অতোকিছু বুঝি না। ক্লিনিকের মালিক আর ডাক্তার মিলে আমাকে উল্টাপাল্টা বুঝিয়ে আমার মেয়েকে সিরাজগঞ্জে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেয়। পরে থানায় খবর দিলে আমার সন্তানকে ফিরিয়ে আনে পুলিশ।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক আসওয়াদুর রহমান জানান, ভুক্তভোগীর দম্পতির অভিযোগের ভিত্তিতে এসআই এমদাদুল হক ও এসআই সুদীপ কুমার গোপ মিলে আমরা ওই ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করি। সেখানে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত উপস্থিত ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রাতেই সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় অভিযান চালিয়ে নবজাতটি উদ্ধার করে তার প্রকৃত মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
আসামিদের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা দায়ের শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে।