ঢাকা, আজ শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১

এলজিইডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের প্রিয়ভাজন কে হবেন ? পূর্ব লাকসাম ইউপি নির্বাচনে জোড়ালো প্রার্থী নেই

প্রকাশ: ২০২১-০৩-০৯ ১৬:৩৭:১৯ || আপডেট: ২০২১-০৩-০৯ ১৬:৩৭:১৯

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)
অনেক গুলো পজেটিভ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে লাকসামের ৮টি ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থিরা নিরবে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। তবে এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের জন্য দলের সিনিয়র নেতা ও নীতি নির্ধারকদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন। তবে শেষ অব্দি কার ভাগ্যে নৌকার টিকেট জুটবে- সেটা সময়ের ব্যাপার। উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। ৮ নং লাকসাম পূর্ব ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ভোটার মোঃ আলী আহম্মদ। পুনরায় ২য় বারের মত আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থীতা চাইবেন।
৬০ বছরের আলী আহম্মদ জীবনের প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তার আমলে উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলতা লাভ করেছেন। ফলে তার এলাকার মানুষদের কাছে তিনি নন্দিত সমাজ সেবক হয়ে উঠেন অনেক আগে। মাননীয় মন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় প্রতিটি উন্নয়ন কর্মকান্ডে স্বচ্ছতার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত করেছেন। কোন অনিয়ম তার পরিসদের হয়নি বিগত ৫ বছরে। বরং সাধারণ মানুষকে সেবার মনোভাব নিয়ে সহযোগীতা করে আসছেন। এই করোনা কালেও সরকারী সহায়তা ছাড়াও ব্যক্তিগত ভাবে প্রায় ২০ লাখ টাকার মত খাদ্য সহায়তা প্রদান করেছেন। তিনি বলেন, এখানে বিএনপি জোটের আমলে মাদক আর সন্ত্রাশ দৃশ্যমান থাকলেও বর্তমানে তা শূণ্যের কোঠায়। যা ও ছিটে ফেঁাটা আছে- তা সহনীয় পর্যায়ে।
লাকসাম উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন বর্তমান। বাকই চলে গেছে লালমাই’তে। আর মুদাফফরগঞ্জ উত্তর ও দক্ষিণ সহ বাকইর নির্বাচন আগামী ২০২৩ সালে সম্ভাবনা। আর এখানকার সাংসদ এলজিইডি মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এমপি। তার সাংসদীয় এলাকা ২টি। লাকাসাম ও মনোহরগঞ্জ। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর দিক নির্দেশনা ও পৃষ্টপোষকতায় যথেষ্ঠ উন্নয়ন সাধন করা হয়েছে। এখানকার রাস্তাঘাট বিদ্যুৎ, অবকাঠামো উন্নয়নে যথেষ্ট দৃশ্যমান। সবকটি চেয়ারম্যান সরকার দলীয়। আগামী ইউপি নির্বাচনের বর্তমান চেয়ারম্যান ছাড়াও আরো কয়েকজন দল থেকে নমিনেটেড হতে চাচ্ছেন।
দলীয় ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও সমান ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে এবার আশার কথা যে, কাউকেই বিদ্রোহী প্রার্থী বলে আখ্যায়িত করা হবে না। জনগণ যাকেই পছন্দের তালিকায় রাখবেন তারা সবাই অংশ নিতে পারবেন। এমন সিদ্ধান্ত দলীয় ভাবে গৃহীত হয়েছে কদিন আগে। আর সে আলোকে লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় মডেল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ ওমর ফারুক, গোবিন্দপুরের নিজাম উদ্দিন শামীম, আজগরা ইউনিয়নের মোঃ রুহুল আমিন, লাকসাম পূর্ব ইউনিয়নের মোঃ আলী আহম্মদ সহ উত্তরদা ইউনিয়নের হারুন অর রশিদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা শোনা গেছে। তবে উত্তরদা ইউনিয়নের সাবেক ২ চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী ও গোলাম মোস্তফা রয়েছেন। গোলাম মোস্তফা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতিও বটে। তবে তার সহযোগী সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম। তিনিও এবার দলীয় টিকেটে নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন। তবে লাকসাম উত্তর ইউপি নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান মোঃ আলী আহম্মদ নির্বাচনে অংশ নিবেন চূড়ান্ত। এছাড়াও আরো ২/৩ জনের নাম উঠে আসছে চায়ের টেবিলের আলোচনা থেকে।
সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি ইতি মধ্যেই নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করেছেন। ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু করে মে মাসে শেষ নাগাদ ধারাবাহিক ভাবে গত বারের মত ৫ ধাপে নির্বাচন শেষ করতে চান স্থানীয় মাঠ প্রশাসন। দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদ বিদ্যমান। ২০১৬ সালে ২২ শে মার্চ শুরু হয়ে ৪ জুন পর্যন্ত কয়েক ধাপে নির্বাচন সমাপ্ত করে সরকার। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুসারে মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন পূর্বে পরবর্তী পরিষদের গ্রহণযোগ্যতা থাকে। আর সেই আলোকে কুমিল্লা ১৮ টি উপজেলার ৩১২ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই কুমিল্লার মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন সি.ই.সি। এর মধ্যে লাকসাম উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ অন্যতম।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এরা সবাই আওয়ামী দলীয় নেতা কর্মী। দীর্ঘ দিন যাবৎ এ এলাকার নীতি নির্ধারক সরকারের এলজিইডি মন্ত্রী মোঃ তাজুল ইসলাম এর সংসদীয় নির্বাচনে নিবেদিত কর্মী ছিলেন। এবং তারা আজও তার হয়ে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে মাননীয় মন্ত্রী অবদানের কথা কথা সবাই এক বাক্যে প্রশংসিত করেছেন। তবে কাকে রেখে কাকে দলীয় টিকেট দেবেন- তা নিয়ে ঝল্পনা কল্পনার শেষ নেই। ৮টি ইউনিয়নের সকল প্রার্থীরাই মনে করেন তারা মন্ত্রীর পছন্দের মানুষ। এই পছন্দের প্রার্থীতা বাছাই করতে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের কাউন্সিল অধিবেশন কিংবা বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে দলীয় ভাবে নমিনেটেড করলে কোন বিদ্রোহী প্রার্থীর আগমন ঘটবে না। সবাই তার জন্য এক হয়ে কাজ করবেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন আঃলীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবার তেমন কোন সুযোগ নাই। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যে সিদ্ধান্ত দেবেন বা যাকে দল থেকে নমিনেটেড করবেন, আমরা তার জন্যই কাজ করে যাবো আগামী দিন গুলোতে। এবং নৌকার প্রার্থীকে বিজয় করতে নিশ্চিত করবো। পাশাপশি জননেত্রী শেখ হাসিনার এবারের প্রতিপাদ্য- “আমার গ্রাম-আমার শহর” বাস্তবায়িত করতে আমি বদ্ধ পরিকর।
সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বলেন, ১৯৭২ সালে প্রথম ইউপি চেয়ারম্যান আমি ছিলাম। নতুন বাংলাদেশে সিমাবদ্ধতার মধ্যে আমি যতটুকু পেরেছি তা স্বচ্ছতার মধ্যে শেষ করেছি। এরপর দ্বিতীয় মেয়াদেও আমি জনপ্রতিনিধি ছিলাম। মাঝখানে ১৯৭৮ সালে রেলওয়ে বিভাগের স্টেট অফিসে কর্মরত ছিলাম। ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্ধের উপর সঠিক নিয়মে সকল উন্নয়নের কর্মকান্ড অব্যহত ছিলো আমার আমলে। তবে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। তবে আমার আমলে স্বচ্ছতা ছিল। কোন অনিয়ম হয় নি। আল্লাহ যদি আমাকে কামিয়াব করেন, তাহলে এখানকার পুঞ্জিভূত সমস্যা গুলো নিরসন করা সহ পরিষদের আওতায় দুঃস্থ মাতাদের ভিজিএফ, ভিজেডি কিংবা কোন প্রকার ভাতা প্রদানে অনিয়ম হবে না। আর এখানকার সকল উন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দু আমার মাননীয় সাংসদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস ভঁুইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান মহব্বত আলী ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পড়শী সাহা’র দিক নির্দেশনা ও পৃষ্টপোষকতায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যহত রাখার চেষ্টা করবো।
৪৯ বছরের মঞ্জুরুল আলম। ছাত্রাবস্থায় বঙ্গবন্ধু আদর্শ লালনের পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন। এর আগে উত্তরদা ইউনিয়নে শেখ রাসেল ক্রিড়া সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। পরে যুবলীগের রাজনীতি করেছেন দীর্ঘদিন। এ সময় বিএনপি জোটের আমলে হামলা মামলার স্বীকার হন। কুমিল্লার প্রবীন সাংবাদিক ইত্তেফাকের মরহুম গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর ভাগ্নে হিসেবে তার ক্রিড়াঙ্গনে যথেষ্ট সুনাম রয়েছে যুব সমাজের মাঝে। পরবর্তী সময়ে মঞ্জুরুল এমপি তাজুল ইসলামের সান্নিধ্যে এসে আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আমার অতিতের রিপোটেশন আর যোগ্যতার মাপ কাঠিতে ইনশাআল্লাহ আমাকে মূল্যায়ন করা হবে। আর দলীয় ভাবে নমিনেটেড হলে যে কোন প্রার্থীকে ডিঙ্গিয়ে আগামীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারবো।
এদিকে ১৬ হাজার ৭শত ভোটারদের মাঝে ২০% নবীন এবং তরুণ ভোটাররা আগামীতে মঞ্জুরুলকে চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়ী করতে তার পিছনে একাট্টা। তবে মঞ্জুরুল জোড় দিয়ে বলেন, আমি সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে আসছি। আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আর আমার প্রিয় নেতা মাননীয় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। জীবনে কোনদিন দলের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজনীতি বাণিজ্য করি নাই। দরবার-শালিস বিচারে কোন পক্ষপাতিত্ব করি নাই। আর কোন গ্রুপিংয়ের রাজনীতি আমি করি না। কাউকে করতে উৎসাহ দেই না। আমার শুধু একটাই গ্রুপ- আর তা হল জননেত্রীর শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতির পাশাপশি জনগণের সেবা দান করা।