ঢাকা, আজ শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১

লালমাই’র দক্ষিণ বেলঘর ইউপি নির্বাচন : কাশেম-লিয়াকত-শাহআলম কার কপালে নৌকা ?

প্রকাশ: ২০২১-০৩-০৬ ১৩:১৭:৪১ || আপডেট: ২০২১-০৩-০৬ ১৩:১৭:৪১

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)
বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান কাশেম। এক দিকে সংবাদকর্মী, অন্য দিকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। পাশাপাশি লোটাস কামাল ফাউন্ডেশন, তাজুল ইসলাম ফাউন্ডেশন, যুক্তিখোলা বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি, কমিউনিটি পুলিশিং ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত তিনি। এছাড়া চলন পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক। এতকিছুর পরেও তিনি আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন। ৭১’র মুক্তিযোদ্ধা। বাকী ২ ভাই আরিফুর রহমান ও মোখলেছুর রহমান- তারাও মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধু পরিষদ মালয়েশিয়া শাখার সাধারন সম্পাদক থাকা কালীন সময়ে আজকের প্রধানমন্ত্রীকে তিনি নৌকা প্রতীক উপহার দেন। ছাত্রলীগের রাজনীতির শেষে জাতীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।

বর্তমানে ইউনিয়ন আওয়ামী রীগের সাধারণ সম্পাদক। আর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন, বর্তমান চেয়ারম্যান এম.এ মান্নান। তিনিও নমিনেটেড হতে চান। তবে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাশেম অনেকটা এগিয়ে। এখানে কাশেম মান্নান ছাড়াও আছেন লিয়াকত হোসেন ভূঁইয়া গাজী ও সাবেক চেয়ারম্যান পুত্র শাআলম মেম্বার।
সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি ইতি মধ্যেই নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করেছেন। ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু করে মে মাসে শেষ নাগাদ ধারাবাহিক ভাবে গত বারের মত ৫ ধাপে নির্বাচন শেষ করতে চান স্থানীয় মাঠ প্রশাসন। দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদ বিদ্যমান। ২০১৬ সালে ২২ শে মার্চ শুরু হয়ে ৪ জুন পর্যন্ত কয়েক ধাপে নির্বাচন সমাপ্ত করে সরকার। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুসারে মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন পূর্বে পরবর্তী পরিষদের গ্রহণযোগ্যতা থাকে। আর সেই আলোকে কুমিল্লা ১৮ টি উপজেলার ৩১২ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই কুমিল্লার মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন সি.ই.সি। এর মধ্যে নবগঠিত লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ অন্যতম। এখানকার বর্তমান নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণ সবাই সরকার দলীয়। তবে ২/১ জন চেয়ারম্যান একসময় জাতীয় পার্টি ও মনিরুল হক চৌধুরীর সান্নিধ্যে থেকে বিএনপির রাজনীতি করতেন।

হালে তারা আওয়ামী রাজনীতির সাথে নিজেদেরকে পরিচয় দিচ্ছেন। তেমনি একজন বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের মজুমদার। তার এবং পরিষদের মেম্বারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। ইউডিসি (তথ্য সেবা কেন্দ্র) তে বিভিন্ন নিবন্ধন ও সনদ গ্রহণের জন্য মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আছে। এবার নির্বাচনে তিনিও দলীয় প্রতীক চাইছেন। কিন্তু এলাকার জনগণ একজন অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তাকে আর দেখতে চায় না। তবে নতুন প্রাথর্ী হিসেবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আঃ মালেক। বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আজম মজুমদার ও সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলমের অবস্থা পজেটিভ। অপর দিকে বেলঘর দক্ষিণের বর্তমান চেয়ারম্যান মান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। বন বিভাগের গাছ কাটা মামলায় তিনি অভিযুক্ত। এছাড়াও বিভিন্ন সালিশ বিচারের টাকা আত্মসাতের ফিরিস্তিও কম নয়।

আর সেই পজেটিভ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে লালমাইর ৯টি ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থিরা নিরবে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। তবে এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের জন্য দলের সিনিয়র নেতা ও নীতি নির্ধারকদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন। তবে শেষ অব্দি কার ভাগ্যে নৌকার টিকেট জুটবে- সেটা সময়ের ব্যাপার। উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার নবগঠিত লালমাইর ৯টি ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন বেলঘর দক্ষিণ। এখানে বর্তমানে নির্বাচিত চেয়ারম্যান এম.এ মান্নান। এর আগের মেয়াদে ছিলেন, ওয়াহিদুজ্জামান মজুমদার ও ছিদ্দিকুর রহমান। তবে এখানে আরো ২ জন দলীয় প্রার্থীতা চাইবেন। আগামী নির্বাচনে তাদের মাঝে অন্যতম বেলঘর দক্ষিনের ৯ নং ওয়ার্ডের ভোটার শাহআলম। একসময় ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন। পড়াশোনা লাকসামের নবাব ফয়জুন্নেছা কলেজে। আর বর্তমানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুবুর রহমান কাশেম। এখানে থাকতে চাইছেন আলোচিত মেম্বার লিয়াকত গাজী। এলাকায় শোনা গেছে তিনি ভারতের ত্রিপুরা থেকে মাইগ্রেটেড। এবং এলাকায় অসহায় মানুষকে চাকরী দেবার নাম করে টাকা পঁয়সা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। তবে লিয়াকত গাজী বিষয়টি মিথ্যো বলে আমাদের কে জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠ থেকে আমাকে সরিয়ে দেওয়ার নীল নকশা।

এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এরা সবাই আওয়ামী দলীয় নেতা কর্মী। দীর্ঘ দিন যাবৎ এ এলাকার নীতি নির্ধারক সরকারের অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এর সংসদীয় নির্বাচনে নিবেদিত কর্মী ছিলেন। এবং তারা আজও তার হয়ে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। নবগঠিত লালমাই উপজেলা গঠনে লোটাস কামালের অবদানের কথা সবাই এক বাক্যে প্রশংসিত করেছেন। তবে কাকে রেখে কাকে দলীয় টিকেট দেবেন- তা নিয়ে ঝল্পনা কল্পনার শেষ নেই।