ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১

লালমাই’র বেলঘর ইউপি নির্বাচন : তফসিল ঘোষনার পর প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসবেন

প্রকাশ: ২০২১-০৩-০৩ ১৪:৫৩:৪৩ || আপডেট: ২০২১-০৩-০৩ ১৫:০১:৫৬

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)
সারা দেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি ইতি মধ্যেই নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করেছেন। ফেব্রুয়ারী থেকে শুরু করে মে মাসে শেষ নাগাদ ধারাবাহিক ভাবে গত বারের মত ৫ ধাপে নির্বাচন শেষ করতে চান স্থানীয় মাঠ প্রশাসন। দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৭১ টি ইউনিয়ন পরিষদ বিদ্যমান। ২০১৬ সালে ২২ শে মার্চ শুরু হয়ে ৪ জুন পর্যন্ত কয়েক ধাপে নির্বাচন সমাপ্ত করে সরকার।

স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুসারে মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন পূর্বে পরবর্তী পরিষদের গ্রহণযোগ্যতা থাকে। আর সেই আলোকে কুমিল্লা ১৮ টি উপজেলার ৩১২ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই কুমিল্লার মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন সি.ই.সি। এর মধ্যে নবগঠিত লালমাই উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ অন্যতম। এখানকার বর্তমান নির্বাচিত চেয়ারম্যানগণ সবাই সরকার দলীয়। তবে ২/১ জন চেয়ারম্যান একসময় জাতীয় পার্টি ও মনিরুল হক চৌধুরীর সান্নিধ্যে থেকে বিএনপির রাজনীতি করতেন। হালে তারা আওয়ামী রাজনীতির সাথে নিজেদেরকে পরিচয় দিচ্ছেন। তেমনি একজন বেলঘর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের মজুমদার। তার এবং পরিষদের মেম্বারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই।

ইউডিসি (তথ্য সেবা কেন্দ্র) তে বিভিন্ন নিবন্ধন ও সনদ গ্রহণের জন্য মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এবার নির্বাচনে তিনিও দলীয় প্রতীক চাইছেন। কিন্তু এলাকার জনগণ একজন অনুপ্রবেশকারী হিসেবে তাকে আর দেখতে চায় না। তবে নতুন প্রাথর্ী হিসেবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মালেক। বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আজম মজুমদার ও সাবেক চেযারম্যান জাহাঙ্গির আলমের অবস্থা পজেটিভ।
আর সেই পজেটিভ বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে লালমাইর ৯টি ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থিরা নিরবে জনসংযোগ করে যাচ্ছেন। তবে এবার দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের জন্য দলের সিনিয়র নেতা ও নীতি নির্ধারকদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন।

তবে শেষ অব্দি কার ভাগ্যে নৌকার টিকেট জুটবে- সেটা সময়ের ব্যাপার। উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার নবগঠিত লালমাইর ৮টি ইউনিয়নের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন ভুলইন দক্ষিণ। এখানে বর্তমানে নির্বাচিত চেয়ারম্যান একরামুল হক। এর আগের মেয়াদে ছিলেন, ডাঃ তৈয়ব আলী। এ ২জন চেয়ারম্যান ছাড়াও বেশ কয়েকজন দলীয় প্রার্থীতা চাইবেন আগামী নির্বাচনে। তাদের মাঝে অন্যতম বেলঘরের ৪ নং ওয়ার্ডের ভোটার ও উপজেরা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আজম। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক মজুমদার। ও জাহাঙ্গির আলম এলাকায় দীর্ঘদিন আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে সাধারন ভোটাররা পছন্দের তালিকায় রেখেছেন তাদেরকে।
এদিকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, এরা সবাই আওয়ামী দলীয় নেতা কর্মী। দীর্ঘ দিন যাবৎ এ এলাকার নীতি নির্ধারক সরকারের অর্থমন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল (লোটাস কামাল) এর সংসদীয় নির্বাচনে নিবেদিত কর্মী ছিলেন। এবং তারা আজও তার হয়ে এলাকায় কাজ করে যাচ্ছেন। নবগঠিত লালমাই উপজেলা গঠনে লোটাস কামালের অবদানের কথা সবাই এক বাক্যে প্রশংসিত করেছেন।

তবে কাকে রেখে কাকে দলীয় টিকেট দেবেন- তা নিয়ে ঝল্পনা কল্পনার শেষ নেই। ৯টি ইউনিয়নের সকল প্রার্থীরাই মনে করেন তারা লোটাস কামালের পছন্দের মানুষ। এই পছন্দের প্রার্থীতা বাছাই করতে তৃণমূলের নেতা কর্মীদের কাউন্সিল অধিবেশন কিংবা বর্ধিত সভার মধ্য দিয়ে দলীয় ভাবে নমিনেটেড করলে কোন বিদ্রোহী প্রার্থীর আগমন ঘটবে না। সবাই তার জন্য এক হয়ে কাজ করবেন। এ বিষয়ে আঃলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক মজুমদার বলেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবার তেমন কোন সুযোগ নাই। মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় যে সিদ্ধান্ত দেবেন বা যাকে দল থেকে নমিনেটেড করবেন, আমরা তার জন্যই কাজ করে যাবো আগামী দিন গুলোতে। এবং নৌকার প্রার্থীকে বিজয় করতে নিশ্চিত করবো। পাশাপশি জননেত্রী শেখ হাসিনার এবারের প্রতিপাদ্য- “আমার গ্রাম-আমার শহর” বাস্তবায়িত করতে আমি বদ্ধ পরিকর। সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আলম বলেন, বেলঘর উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্ধের উপর সঠিক নিয়মে সকল উন্নয়নের কর্মকান্ড অব্যহত ছিল। তবে বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই। এখানে অনেক অনিয়মের খবর আমাদের কানে আসে। আল্লাহ যদি আমাকে কামিয়াব করেন, তাহলে এখানকার পুঞ্জিভূত সমস্যা গুলো নিরসন করা সহ পরিষদের আওতায় দুঃস্থ মাতাদের ভিজিএফ, ভিজেডি কিংবা অন্য কোন ভাতা প্রদানের অনিয়ম হবে না। আর এখানকার সকল উন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দু আমার মাননীয় সাংসদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তাদের দিক নির্দেশনা ও পৃষ্টপোষকতায় উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। যদি আমি কামিয়াব হই।

৬৬ বছরের আলী আজম। লালমাই কলেজ থেকে ইন্টার পাস করেন। আর সেই সময় অধক্ষ্য আবুল কালাম মজুমদারের সান্নিধ্যে এস ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। এর পর বৃহত্তর লাকসাম উপজেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বঙ্গবন্ধু পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। আর বর্তংমানে লালমাই উপজেলার সহ-সভাপতি। ছাত্রাবস্থায় বঙ্গবন্ধু আদর্শ লালনের পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছেন। পরবর্তী সময় লোটাস কামালের সান্নিধ্যে এসে আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয়। তিনি বলেন, অতিতের কর্মকান্ড আর যোগ্যতার মাপ কাঠিতে আমাকে মূল্যায়ন করলে এবং দলীয় টিকেট প্রদান করলে যে কোন প্রার্থীকে ডিঙ্গিয়ে আগামীতে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারবো ইনশাআল্লাহ। এদিকে ১৬ হাজার ৭শত ভোটারদের মাঝে ২০% নবীন এবং তরুণ ভোটাররা আগামীতে আলী আজম মজুমদার কে চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়ী করতে তার পেছনে একাট্টা।
অপর প্রার্থী- বেলঘর ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক মালেক মজুমদার বলেন,আমি সারাজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে আসছি। আমার নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা আর আমার প্রিয় নেতা মাননীয় মন্ত্রী আ.হ.ম মোস্তফা কামাল। জীবনে কোনদিন দলের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাজনীতি বাণিজ্য করি নাই। দরবার-শালিস বিচারে কোন পক্ষপাতিত্ব করি নাই। আর কোন গ্রুপিংয়ের রাজনীতি আমি করি না। কাউকে করতে উৎসাহ দেই না। আমার শুধু একটাই গ্রুপ- আর তা হল জননেত্রীর শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি।

এদিকে বেলঘরের বর্তমান চেয়ারম্যান আবুল খায়ের মজুমদার ছাড়াও সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আজম ভোটারদের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন। তফশিল ঘোষিত হওয়ার পর প্রার্থীরা নড়েচড়ে বসবেন।