ঢাকা, আজ শনিবার, ১৯ জুন ২০২১

রাতের আঁধারে কাটা হচ্ছে মাটি গোমতীর মাটি রাজস্ব আদায়ে ভূমিকা রাখতে পারে !

প্রকাশ: ২০২১-০২-২৮ ১৭:৩৫:০৯ || আপডেট: ২০২১-০২-২৮ ১৭:৩৫:০৯

শান্তনু হাসান খান (বিশেষ প্রতিনিধি)
কুমিল্লার প্রধান নদী গোমতীর চর এলাকার মাটি রাজস্ব আদায়ে অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতি বছর উজান থেকে বিপুল পরিমান পলি,মাটি নিয়ে নদীটির কুমিল্লা অংশে চরের উভয় তীর সমৃদ্ধ করলেও মাটি খেকোদের থাবায় সেটার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষক। ফলে জেলার অন্যতম শাক-সব্জি উৎপাদন এই চর এলাকার কৃষকরা যেমন অলস সময় পার করছে তেমনি অনেকটা লুটেরার মতো প্রভাবশালী চক্র যে যেভাবে পারছে চরের মাটি কেটে বিক্রি করছে অবাধে। প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে মাটি কাটা বন্ধে ভূমিকা রাখলেও কোনভাবেই মাটি কাটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছেনা। এঅবস্থায় বালু মহাল ইজারার মতো চর এলাকা ইজারা দিয়ে মাটি কাটার বৈধতা দিলে সরকার এথেকে কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করার সম্ভাবনা রয়েছে।

গোমতী পাশ্ববর্তী ভারতের ত্রিপুরায় উৎপন্ন হয়ে আদর্শ সদর উপজেলার কটকবাজার হয়ে এদেশে প্রবেশ করে। এরপর নদীটি বুড়িচং,ব্রাহ্মনপাড়া,দেবিদ্বার,মুরাদনগর,তিতাস হয়ে দাউদকান্দির টামটায় মেঘনা নদীতে মিলিত হয়। নদীটির দু’তীরে রয়েছে বিস্তির্ন চর। প্রতিবছর বর্ষায় উজান থেকে বিপুল পরিমান পলি বহন করে নদীর দু’তীরের চরাঞ্চল উর্বর করে। আর এসব চরে কৃষকরা বারো মাস বিভিন্ন জাতের শাক-সব্জি,তরিতরকারী উৎপাদন করতো। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে জেলার বিভিন্নস্থানে প্রভাবশালী চক্র এস্কেভেটর বসিয়ে অবাধে মাটি কাটা শুরু করে। এতে খুব দ্রুততম সময়ে মাটি কাটা ও পরিবহনের সুবিধা হওয়ায় দিন দিন নদী তীরে এস্কেভেটরে মাটি কাটার পরিমান বাড়ছে। নদী তীরের একাধিকস্থানে কথা হয় একাধিক মাটি পরিবহনের সাথে জড়িত ডাম্প ট্রাক,ট্রাক্টর চালকদের । তারা জানান, এক ট্রাক্টর ১২’শ টাকা এবং প্রতি ডাম্প ট্রাক মাটি ২৫’শ টাকায় বিক্রি হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল সুত্র জানায়, নদী রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্ব থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তারা নিরব। ফলে প্রতিদিন যত্রতত্র মাটি কেটে প্রতিরক্ষা বঁাধের ভিতর থেকে মাটি পরিবহনের ফলে বিভিন্নস্থানে ঝঁুকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বঁাধ। আবার এইসব ঝঁুকিপূর্ণস্থান প্রতিবছর পানি উন্নয়ন বোর্ড দরপত্র আহবান করে সংস্কার করে রাষ্ট্রের টাকায়। দায়িত্বশীল একাধিক সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে জেলা প্রশাসন নদী থেকে মাটি কাটা বন্ধে কঠোর অবস্থান নিলেও কার্যত সুফল পাচ্ছেনা। কেননা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ভিতর কিছু অসাদূ লোক অভিযানের খবর সংশ্লিষ্ট এলাকার মাটিখেকোদের কাছে পেঁৗছে দেওয়ায় বেশীর ভাগ সময় অভিযানে গিয়ে শুন্য হাতে ফিরে আসতে হচ্ছে। এরকম কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে সদর ও বুড়িচং এলাকায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংবাদকর্মী জানান, কিছুদিন আগে বুড়িচংয়ের ময়নামতি মীরপুর এলাকায় চর থেকে মাটি কাটার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে জানালে তিনি অন্য এক কর্মকর্তাকে ওই সংবাদকর্মীর মোবাইল নাম্বারটি দিয়ে দেন। তখন কর্মকর্তাটি ফোন করে প্রথমে তার নাম পরিচয় জানতে চায়,এরপর কোথায় মাটি কাটে এব্যাপারে নানা প্রশ্নবানে জর্জড়িত করে। অথচ প্রতিদিন ওই মীরপুর এলাকা থেকে শত শত ডাম্পট্রাক মাটি বিভিন্নস্থানে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।

একই অবস্থা অন্যান্য স্থানেও। সরেজমিন ঘুরে বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, সদর উপজেলার ঝঁাকুনিপাড়া, টিক্কাচর, শ্যামারচর,শ্রীপুর, মাঝিগাছা, শালধর,চঁান্দপুর, ছত্রখীল ,রত্নাবতী, কাপ্তানবাজার , ভাটপাড়া, পালপাড়া , আড়াইওরা,দুর্গাপুর, আমতলী, বুড়িচংয়ের বাবুবাজার , গোবিন্দপুর , পীরযাত্রাপুর, রামচন্দ্রপুর, মীরপুর, ফরিজপুর, ব্রাহ্মনপাড়ার মনোহরপুর, আসাদনগর, বৃষ্টিপুর, রামনগর , কালিকাপুর, অলুয়া , দেবিদ্বারের চরবাকর, ভিরেল্লা, ফতেহাবাদ, চাঁনপুর ,লক্ষèীপুর, বালু বাড়ি , হামলা বাড়ি,ভিংলা বাড়িসহ কমপক্ষে ২০/২২টি স্থানে বেপরোয়া মাটি কাটা চক্র। নদীর চর এলাকার মাটি ব্যবসার সাথে জড়িত একাধিক সিন্ডিকেট সদস্য নাম পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান,তাদের মাটি ব্যবসা স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা,ফঁাড়ি,হাইওয়ে পুলিশসহ তহসীল অফিসছাড়াও বিভিন্ন ঘাটে টাকা দিতে হয়।

প্রশ্ন হচ্ছে নদীর মালিকানা সরকারের। অথচ সেই নদীর চর এলাকা থেকে অবাধে প্রতিদিন লাখ লাখ ঘনফুট মাটি কিভাবে বিক্রি হচ্ছে? জেলার পালপাড়া এলাকার একাধিক সুত্র জানায়, প্রশাসনের নজরদারী বেড়ে যাওয়ায় রাত বাড়ার সাথে সাথে মাটি কাটা শুরু হয়। জেলা প্রশাসনের একটি সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রতি বছর গোমতীর বিভিন্ন বালুর মহাল ইজারা দেওয়া হয়। এবছরও ইজারা হয়েছে অর্ধ কোটিরও বেশী টাকায়। এক্ষেত্রে গোমতীর চর এলাকাগুলো থেকে যে পরিমান মাটি বিক্রি করা হয় সেগুলো ইজারার মাধ্যমে হলে কোটি টাকারও বেশী রাজস্ব আদায় সম্ভব হতো। এঅবস্থায় মাটি বিক্রির জন্য গোমতীর চর এলাকা চিহ্নিত করে প্রতি