ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ১৫ জুন ২০২১

চান্দিনায় কর্মকর্তাদের অজ্ঞান করে ব্যাংক লুটের চেষ্টা!

প্রকাশ: ২০২১-০২-২৫ ০৭:০০:৪৯ || আপডেট: ২০২১-০২-২৫ ০৭:০৬:৫১

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চান্দিনায় ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অচেতন করে ব্যাংক লুটের চেষ্টা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার(২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮ টায় উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের বদরপুর বাজার কৃষি ব্যাংক শাখায় এই ঘটনা ঘটে

এ সময় অচেতন অবস্থায় চার জনকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি চারজন হলেন- ব্যাংক ক্যাশ কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান, দ্বিতীয় কর্মকর্তা নওশের আলী, কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম, নিরাপত্তা প্রহরী আমির হোসেন।

আহত কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান- অন্য দিনের তুলনায় বুধবার ব্যাংকে প্রচুর কাজ থাকায় সেগুলো সামাল দিতে আমরা তিনজন কর্মকর্তা ও এক প্রহরী ব্যাংকে কাজ করছিলাম। রাত অনুমান আটটার দিকে আমার চোখ মুখ অন্ধকার করে বমি বমি ভাব লাগছিল। এ সময় দেখি বাকিরা কেউ টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে, আবার কেউ বমি করছে। পরে কি হয়েছে আমি আর কিছু বলতে পারব না।

ব্যাংক ম্যানেজার রুহুল আমিন জানান- আমি সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ব্যাংক থেকে বের হই। বিদ্যুৎ না থাকায় জেনারেটর চলছিল। রাত আটটার দিকে নৈশ প্রহরী রফিকুল ইসলাম এসে দেখে নিরাপত্তা কর্মী আমির হোসেন বমি করে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন। ভিতরে গিয়ে দেখেন বাকিদেরও একই অবস্থা। তাৎক্ষণিক আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানায় রফিকুল ইসলাম। এই সময় তাদেরকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

তিনি আরো জানান-বুধবার বিকাল থেকে বদরপুর বাজারের পাশে একটি মাহফিল চলছিল। সেই সুবাদে সন্ধ্যার পর বদরপুর বাজার অনেকটা জনশূন্য ছিল। আমরা ধারণা করছি অজ্ঞান পার্টি কোন বিষক্রিয়া প্রয়োগ করে সকলকে অসচেতন করে ব্যাংক লুটের চেষ্টা করছিল। যথাসময়ে আমাদের নৈশপ্রহরী আসায় সকলকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।এতে করে আমাদের ব্যাংকের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হাসান জানান- অজ্ঞান অবস্থায় যে চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সঠিক ভাবে তাদের অজ্ঞান হওয়া ও বমি করার কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। রোগীদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াস জানান- খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। লুটের কোন আলামত আমরা এখনো পাইনি। আহত সকলের সাথে পৃথকভাবে কথা বলছি। যারা বমি করেছে তাদের নমুন্ সংগ্রহ করেছি। আমাদের তদন্ত চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।