ঢাকা, আজ শনিবার, ১৯ জুন ২০২১

কুমিল্লার বিদায়ী পুলিশ সুপারের আবেগঘন স্ট্যাটাস

প্রকাশ: ২০২১-০১-০২ ১৯:১৬:৫৫ || আপডেট: ২০২১-০১-০২ ১৯:১৬:৫৫

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লা পুলিশ সুপারের পদ থেকে শনিবার (২ জানুয়ারি) বিদায় নেন সৈয়দ নুরুল ইসলাম। তিনি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার পদে যোগ দিতে যাচ্ছেন।

এদিকে, কুমিল্লা ত্যাগের আগে সৈয়দ নুরুল ইসলাম জেলা পুলিশ সুপারের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। এতে প্রায় আড়াই বছরের মেয়াদে কুমিল্লাবাসীর জন্য তার কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরেন। সশরীরে না পারলেও দূর থেকে কুমিল্লাবাসীর সুখ-দুঃখে থাকার আশা ব্যক্ত করেছেন।

ফেসবুকে তার দেয়া স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো:

‘তোমাদের পানে চাহিয়া বন্ধু, আর আমি জাগিবো না, কোলাহল করি সারা দিনমান, কারো ধ্যান আর ভাঙ্গিবনা।

আসসালামুআলাইকুম, সম্মানিত কুমিল্লাবাসী।

গত ১৫ আগস্ট ২০১৮ দেশের অন্যতম বৃহত্তম ও প্রাগ্রসর জেলা কুমিল্লার পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করি। জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ প্রতিরোধ, দমন ও নিয়ন্ত্রণে গতিশীল পুলিশিং, মাদক, জঙ্গিবাদ ও জন হয়রানির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণসহ, বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার করতে জনবান্ধব পুলিশিং বাস্তবায়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছি। কতটুকু সার্থক হয়েছে সে আপনাদের বিচার!

বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে আমার রচিত ‘ভয়াল করোনা’ গান গেয়ে আমরা নগরবাসীকে সচেতন ও উজ্জ্বীবিত করেছি। এরইমধ্যে গানটি ২৪টি ফেসবুক আইডি থেকে ১ কোটি ৯২ লাখ ২০ হাজার ৮৪১ বার দেখেছে, ২ লাখ ৫০ হাজার ২৩৬টি লাইক পড়েছে এবং ১ লাখ ৮০ হাজার ৬২৯টি শেয়ার হয়েছে।

জেলা পুলিশ সদস্যদের একদিনের বেতন দিয়ে দুই সহস্রাধিক পরিবারকে সহযোগিতা করা হয়। করোনাকালে ১৮টি থানায় নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের ভ্রাম্যমাণ দোকান চালু করে মানুষকে সেবা দেয়া হয়।

ধান কাটার মৌসুমে কুমিল্লা জেলা পুলিশের উদ্যোগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৯ জেলায় ১২ দফায় এক হাজার ৩৮০ জন শ্রমিক পাঠানো হয়। করোনা যুদ্ধে প্রথম নিহত পুলিশ কনস্টেবল জসিমের দাফন কাফন সশরীরে উপস্থিত থেকে করার পাশাপাশি তার পরিবারের পাশে আমরা থেকেছি আপনজন হয়ে। ফলে পুলিশ সদস্যরা পেয়েছে কর্মপ্রেরণা।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সে নির্মাণ করি ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রশস্ত বিশিষ্ট মনোহরী বৈচিত্র্যের নৌকাসদৃশ বঙ্গবন্ধু মঞ্চ। অবকাঠামোগত সংস্কার ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি পুলিশের কল্যাণমুখী বহুমুখী কার্যক্রম ছিল আমার ধ্যান ও জ্ঞান। জাতির পিতার আদর্শে উজ্জীবিত থেকে জনতার সেবক হিসেবে সেবার সুমহান ব্রতে কাজ করতে পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে কাজ করে যেতে আমি অঙ্গীকারবদ্ধ ।

সরকারি চাকরির স্বাভাবিক নিয়মের পরিক্রমায় আমি বদলী সূত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে যোগদানের উদ্দেশে কুমিল্লা ত্যাগ করছি। আমি নিঃসন্দেহে বলতে পারি কুমিল্লা আমার ভান্ডারকে হ্রদ্য, সমৃদ্ধ করেছে, করেছে চির কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ। বিদায় বেলায় কুমিল্লার মৃত্তিকা, মানুষ, প্রকৃতি সবকিছুই যেন পিছু ডেকে বলছে আমায়- হাসি দিয়ে যদি ডাকিলে তোমার, সারা জীবনের বেদনা; বিদায় বেলাও তবে হেসে যাও, ব্যথা পেয়ে আর কেঁদোনা!

কুমিল্লা আমাকে বিমোহিত করেছে, করেছে আলোকিত। কুমিল্লার যেকোনো ইতিবাচক সংবাদে আমি আপনাদের সবার মতোই উচ্ছ্বসিত হব, আর নেতিবাচক সংবাদে হব সমব্যাথী। কুমিল্লা আমার স্মৃতিতে সতত ভাস্বর হয়ে থাকবে।

আপনাদের সবার প্রতি রইলো অসীম কৃতজ্ঞতা ও নিরন্তর শুভকামনা। তোমারে যা দিয়েছিনু, তা তোমারি দান; গ্রহণ করেছ যত, ঋণী তত করেছ আমায় হে বন্ধু, বিদায়!