ঢাকা, আজ শনিবার, ১৯ জুন ২০২১

কুমিল্লায় গোমতীর মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের অভিযান

প্রকাশ: ২০২০-১২-৩০ ১৪:২২:৪১ || আপডেট: ২০২০-১২-৩০ ১৪:২২:৪১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

দানব ভেকু ও ড্রেজারের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত গোমতী নদীর দুপাশের ফসলী উর্বর জমির চর । জেলা প্রশাসনের ইজারায় বালু উত্তোলনের শর্ত থাকলেও বালু না কেটে মাটি কাটাই যেন মূল টার্গেট। এছাড়াও ইজারাহীন অনেক স্পষ্ট থেকে অবৈধ ভাবে কাটা হচ্ছে কৃষি জমির মাটি।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা সদর উপজেলার গোমতী নদীর অংশে মোট ৬টি ঘাটের ইজারা দেয়া হয়েছে। যার মধ্য মেসার্স মাহবুব কনস্ট্রাকশন ৫টি ও রিফাত ট্রেডার্স ১ টি ঘাটের ইজারা পায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ৬টি ঘাটের ইজারা থাকলেও নদীতে দেড় শতাধিক অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বালু আর মাটি কাটা হচ্ছে দেদারসে। আবাদি ফসলি জমি সহ গাছপালা, বাগানসহ কেটে নিচ্ছে মাটিকাটা প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ।

বেশকিছু দিন ধরে প্রশাসনের তদারকি না থাকায় লুটপাটের মহোৎসবে মেতেছে মাটিখেকোরা। পানি উন্নয়ন বোর্ড এর নিজস্ব জায়গাতে লুটপাটের মহাযজ্ঞ চললেও এখনো পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

চরের মাটি লুটের এ মহাযজ্ঞ রুখতে বুধবার কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের এসিল্যান্ড ফয়সাল আহমেদ ও ৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবু সাঈদ, জনি রায়, গোলাম মোস্তফা, মোস্তাফিজুর রহমান ও মাজহারুল ইসলাম এর নেতৃত্বে গোমতী চরের গোলাবাড়ি ও শাহাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয় । অভিযানে ফসলী জমি, গাছ ও বাগান কেটে মাটি কাটার সময় শুভ পুর এলাকার সোহেল, সাহাপুর এলাকার শহীদ ও পাঁচথুবী এলাকার বাপ্পি ও আক্কাসের মালিকানাধীন ১০ টি সহ মোট ১৬ টি ড্রেজার, মাটি কাটার ট্রলার ও প্রায় দশ হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়।

এ অভিযানে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করেন কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের দুটি টিম, জেলা পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
জেলা প্রশাসনের এমন অভিযানে আনন্দিত স্থানীয় কৃষকরা। ভুক্তভোগী কৃষকরা এ অভিযান কে স্বাগত জানিয়ে, নিয়মিত এ অভিযান অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোঃআবুল ফজল মীর বলেন, গোমতী নদীতে ইজারার বহির্ভূত যে কোনো কর্মকাণ্ড প্রতিহত করার জন্য জেলা প্রশাসন সদা তৎপর। এছাড়াও লীজের শর্ত ভঙ্গ করে মাটিকাটা সহ ফসলি জমি কাটা, বাঁধ, সড়ক ব্রীজের ক্ষতি করা হলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।