ঢাকা, আজ বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১

ক্ষমতার দাপটে ভেকুদিয়ে কৃষিজমির মাটি দেওয়া হয় ইটভাটায়

প্রকাশ: ২০২০-১২-২৫ ১৪:২৩:০০ || আপডেট: ২০২০-১২-২৫ ১৪:২৩:০০

সাভার প্রতিনিধি:

শীত এলেই বাড়ে মাটি খেকোদের উৎপাত৷ ভেকু দিয়ে কৃষি জমির মাটি কেটে দেওয়া হয় বিভিন্ন ইটভাটায়। এবারও আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের বংশী নদীর কুল ঘেঁষা দু’টি স্থানে নিষিদ্ধ ভেকু লাগিয়ে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে৷

আর এসব কাজ করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ৬ নং ওয়ার্ড মেম্বার খলিলসহ আরও দুই একজন। এখানে রক্ষক হয়ে ভক্ষকের রুপ নিয়েছে এই স্থানীয় প্রতিনিধি।

সরজমিনে (২১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের রাঙ্গামাটির কাইলকাপুর ও গোয়ালবাড়ি এলাকা গিয়ে দেখা গেছে ভেকু দিয়ে মাটি ট্রাকে ট্রাকে নিয়ে যাওয়ার চিত্র।

ব্যপারী পাড়া এলাকায় সকালে দেখা গেছে, বংশী নদীর পাশে প্রায় ১ বিঘা জমি থেকে ৮-১০ ফুট গর্ত করে মাটি তুলে এমবি এন ব্রিকস নামের একটি ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। পাশেই কালিয়াকৈর-গোয়ালবাড়ি সড়ক, মাটির কাটার কারণে ধসে যাওয়ার সংঙ্কায় রয়েছে সড়কটি। শুধু তাই নয় ইটখোলাতে গিয়েও সেই মাটিগুলো দেখা গেছে।

এই মাটি কাটার দ্বায়িত্বে রয়েছে এক ব্যক্তি। সেখা তার সাথে কথা হলে তিনি নাম প্রকাশ না করার সর্তে বলেন, ‘প্রতি গাড়ি (ট্রাক) মাটি বিক্রি করা হয় ১২০০ টাকা করে৷ এখানে এবার মাটি কাটা হচ্ছে। গত তিন চার দিন থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। জমির মালিকদের শতাংশ প্রতি ৩ হাজার টাকা দেওয়া হয়।’

শিমুলিয়া ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার খলিল বলেন, মাটি কাটা না গেলে বন্ধ রাখা লাগবে। আমি কালকেই মাটিতে ভেকু লাগিয়েছি আজই আপনারা এসেছেন। আমি তো সবাইকেই সম্মানি করি দুই একদিন পরে আসেন আপনাদেরও করবো।

অপরিকে রাঙ্গামাটির কাইলকাপুর এলাকায় দুপুরে গিয়ে দেখা গেছে, বংশী নদীর পাশেই স্থানীয় মেম্বারের ক্রয়কৃত নিজস্ব ভেকু ও ট্রাক দিয়ে নিজস্ব ভাবে নদীর কুল কেটে রাস্তা করে মাটি নিয়ে দিচ্ছে পাশের এক ইট ভাটায়। মাটি কাটা হচ্ছে তার পাশের খেতে সরিষা ফুল ফুটে আছে ভুট্টার ছোটো ছোটো গাছ সবে উঠে দারাচ্ছে। মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার গভিরতা বেশী থাকায় সেই খেতগুলোর পাশ ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাটি কাটা শ্রমিকদের সাথে কথা বলতে গেলে পালিয়ে যায় ভেকুর ড্রাইভারসহ দুই একজন শ্রমিক। পরে শুভ্রত নামের ট্রাক ড্রাইভারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বংশী নদীর কুল ঘেঁষে ৮ ফুট পরিমান গর্ত করে মাটি কাটছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি খলিল। সেই মাটিগুলো আবার পাশের একটি ইটভাটার কাছে বিক্রি করছেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা কিছু জানি না। তবে মেম্বার যেভাবে বলছে আমরা সেভাবেই করছি। মেম্বাররের কেনা ভেকু দিয়ে তো প্রতি বছরেই মাটি কাটা হয়ে থাকে। এবারও আমরা কাটছি।

এমবি এন ব্রিকস ইটভাটার ম্যানেজার আরমান বলেন, প্রতি বছরেই বিভিন্ন মাটি ব্যবসায়ীরা আমাদের ইটভাটায় মাটি দেয়। এবারও তারাই মাটি দিচ্ছেন। কোথা থেকে মাটি দেয় বা কিভাবে মাটি আনা হয় আমরা সেটা জানি না। তবে আমরা টাকা দেই মাটি পেলেই চলে৷

জনপ্রতিনিধি হয়ে কিভাবে এই কাজ করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি এলাকা ইটভাটা না চলে যদি মাটি কাটা না যায় তাহলে বন্ধ রাখমু অসুবিধা কি? নদীর মাটি কাটাও নিষেধ ফসলি জমির মাটি কাটাও নিষেধ তাহলে বাংলাদেশে ইটভাটা চালাবো কেমনে।

সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ বলেন, কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কেটে নেওয়ায় পুষ্টি উপাদান কমে গিয়ে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমরা শঙ্কিত, এভাবে উর্বর মাটি নষ্ট হলে কৃষির উৎপাদন ব্যাহত হবে।

ঢাকা জেলা পরিবেশ অধিদফতরে সহকারী পরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোঃ রাজীব বলেন, আইনে আছে যে, কোন কোন স্থান থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় দেওয়া হবে সেই বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কাছে হলফনামা দাখিল করতে হবে। তবে সাভার, ধামরাই ও আশুলিয়ার বেশিরভাগ ইটভাটা হলফনামা দাখিল না করে অবৈধ ভাবে মাটি উত্তোলন করছে। আমরা শুনতে পাচ্ছি যে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা নিজেদে ক্ষমতা খাটিয়ে মাটি কেটে ইটভাটায় দিচ্ছেন। আমরা যেসকল স্থান থেকে এমন খবর পাচ্ছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইএনও) বেগম শামীম আরা নিপা বলেন, আমার যে ইটভাটাগুলেকে লাইসেন্স দিয়েছি তাদের বলা আছে নির্ধারিত স্থান থেকে মাটি কাটবে। কেউ যদি অবৈধ ভাবে মাটি কাটে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা ।