ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ৪ অক্টোবর ২০২২

কুমিল্লায় দিন মজুরের সম্পত্তি দখল করে ঘর নির্মাণ।

প্রকাশ: ২০২২-০৯-১৯ ০২:১৯:২৬ || আপডেট: ২০২২-০৯-১৯ ০২:১৯:২৬

রুবেল মজুমদার ।।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জোড়কানন ইউনিয়নের গোয়ালগাঁত্ত গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মুক্তিযোদ্ধার সরকারি ঘর নির্মাণ কাজ করেন ।এতে করে জমিতে আগে থেকে মালিক থাকা দিনমজুর খন্দকার আবদুল মমিন খন্দকার এবং তার প্রতিবন্ধী ছেলে ও কলেজ পড়ুয়া মেয়ে নিয়ে আতঙ্কে দিন পার করছেন। খন্দকার আবদুল মমিন আবেদনের পরই আদালত থেকে জোড়পূর্বক মুক্তযোদ্ধার সরকারি  নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে স্থিতাবস্থার আদেশ দেন।
তবে আদালতে রায় অমাণ্য করে স্থানীয় ঠিকাদার  নির্মাণ কাজ চালিয়ে যায়।

কুমিল্লা অতিরিক্ত  জেলা  সহকারি মেজিস্ট্রেট এর আদালতে ১৪৫ ধারায় এবং জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী ১৫২/২০২২নং  মামলা করেন মমিন খন্দকার। গত ৯ সেপ্টেম্বর  আদালতের বিচারক মমিন খন্দকারে পক্ষে স্থিতাবস্থার বজায় ও তদন্তের নির্দেশ  দেন। এতে  নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে আদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু ঠিকাদার আদালতের আদেশ অমান্য করে ঘর  নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন।
মামলার ও স্থানীয় সূত্র জানা যায়,আদালতের ১৪৫ ধারার মামলা করেন আবদুল মমিন খন্দকার। তার আপন ভাই আব্দুল আজিজ খন্দকার ও তার ভাতিজা আজাদ খন্দকারসহ আরিফ খন্দকার ও ইয়ামুন খন্দকার মিলে তার কেনা সম্পতি মৌজাঃ গোয়ালগাও মদ্যে এস, এ, ১৭নং খতিয়ান দাগ নং ৫/৫৮ বি, এস খতিয়ান নং ১০৪, দাগ নং ১২। এস, এ ৭০ শতক আসলে চারা ভিটি ১৯ শতক বি, এস, ৯৪ দাগের চারা ভিটি ৪১ শতকের মধ্যে ১৯ শতক। যাহার উওরে নিচ, দক্ষিনে রাস্তা, পূর্ব-পশ্চিমে দখলে করে ঘর নির্মান করছেন।
তিনি ১৯৮৮ সালে সদর দক্ষিণ উপজেলার জোড়কানন ইউনিয়নের গোয়ালগাঁত্ত গ্রামের আব্দুল ওহাব খন্দকার হইতে রেজিঃকৃত ১১/১/৮৮ ইং তারিখের ২৫৭ নং রেজিঃকৃত সাব কবলা দলিল সূত্রে মালিক ও দখলকার হইয়া র্দীঘদিন ভোগ করছেন। বর্তমানে ভাই আব্দুল আজিজ খন্দকার ও তার ভাতিজা আজাদ খন্দকার তার জমি বেদখল দিবার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। এবং তার ভাতিজা  আজাদ খন্দকার   ও তার ভাই আজিজ মালিকীয় ও দখলীয় সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল  করেন। মমিন খন্দকার ওহ তার পরিবার লোকজন জায়গা দখলের বাধা দিলে তাকে খুন করিয়া ফেলিবে বলে হুমকি দেয়।  পরে ০৯ সেপ্টেম্বর আজিজ ও তার ভাতিজা  জোর করে ইট, বালি, সিমেন্ট এনে স্থানীয় ঠিকাদার মালেকের সহযোগিতা নির্মান শুরু করেন। একই দিন আদালত ১৪৫ ধারায় বিধান মতে বিহিত এ সম্পত্তির উপর  স্থিতাবস্থার রায় ব্যবস্থা করেন ।
ভুক্তভোগী খন্দকার আবদুল মমিনের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৪০ বছর ধরে এ সম্পত্তি  ক্রয় করে আমি বসবাস করে আসছি,আমার কেনা সম্পত্তিতে আমার সাথে কথা না বলে,তারা কিভাবে মুক্তিযোদ্ধার ঘর নির্মাণ করছে। এদেশ স্বাধীন হয়েছে,স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবো না। পজিশন কেনার দলিলও রয়েছে আমার । কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা জোর করে এখনো র্নিমান করছে,আমি প্রশাসন কাছে জানিয়েছি,আদালতের উপর আমার আস্থা আছে,আমি সুবিচার পাবো ।
অভিযুক্ত আজিজ ও  তার ভাতিজা  আজাদ খন্দকার  এ বিষয় বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
ঠিকাদার আব্দুল মালেক সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেন,একাধিকবার বার তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইলে কথা বরলে ইচ্ছুক নয় বলেন ।
মামলা তদ্ভত কর্মকর্তা  সদর দক্ষিণ থানার উপ-পরিদর্শক মো.লিমন মিয়া বলেন,ঘটনাস্থ পরিদর্শন করে আজিজ ও আজাদকে ঘর নির্মাণ  বন্ধ করে দিয়ে আসছি।এখন যদি আবার তারা আদালতের আদের্শ অমাণ্য করে,বিষয়টি আমরা আদালতকে অবহিত করবো । তবে স্থানীয় প্রশাসন ও আমরা চেষ্টা করছি উভয়পক্ষের সাথে কথা বলে সমাধান করবো ।
এ বিষয় সদর দক্ষিণ নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশসি ঘোষ বলেন, আদালতের ১৪৫ ধারা থাকলে তো কাজ করার কথা নয়, যেহেতু আমরা নাম ব্যবহার করছে আমি বিষয়টি খোঁজখবর নিবো। তবে দিনমজুর মমিনের কেনা সম্পত্তি হয় আমরা প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহন করবো ।